

মৌলভী বাজার রাজনগর উপজেলার আওয়ামী লীগের নতুন কমিটি সম্প্রতি গঠিত হয়েছে। এই নতুন কমিটি নিয়ে বিরূপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে এলাকায়। যেহেতু আমার পরিবার ১৯৬৭ সাল থেকেই ছাত্রলীগের সাথে জড়িত ছিলেন। সে সময় যারা দলের নেতৃত্বে ছিলেন তাদের মধ্যে জনাব মোহাম্মদ ফিরোজ অন্যতম। তিনিই মৌলভী বাজারে ১৯৬৩ সালে প্রতিষ্ঠা করেন ছাত্রলীগ। আমি ছোট বেলায় দেখেছি, ছাত্রলীগ গঠন করতে গিয়ে তিনি কি ভাবে অক্লান্ত পরিশ্রম করেছেন। তাদের এই কষ্টের ফসলই আজকের ছাত্রলীগ। সে সময় তিনি নিজের পকেটের টাকা খরচ করে বিভিন্ন এলাকাতে গিয়ে যেখানে ছাত্রলীগের নামগন্ধ ছিলো না শুধুমাত্র ছাত্র ইউনিয়ন ছিলো, সেখানে তিনি তাদের সাথে সভা সমিতি করে ছাত্রলীগ গঠন করেন। তিনি সারা জীবনের অর্জিত আয় দলের পেছনেই খরচ করেছেন। দল থেকে তিনি কিছু পাওয়ার আশা করেননি, শুধু দিয়েই গেছেন।
ছাত্র জীবনে আমার রাজনীতি শুরু হয় মোহাম্মদ ফিরোজ ভাইর অনুপ্রেরণা এবং সাহায্য সহযোগিতায়। তিনি আমার রাজনেতিক জীবনের গুরু. যিনি আমার রাজনীতির পথ প্রদর্শক।
১৯৯৪ সালে ওয়েলসের ব্রিজেন্ড শহরে আসার পর একমাত্র ফিরোজ ভাই ছাড়া আর কারো সাথে পরিচয় ছিলো না। সে সময় তাঁরই অনুপ্রেরণায় আমি ব্রিজেন্ড আওয়ামী লীগ গঠন করি এবং সাধারণ সম্পাদকের পদ আমার উপর ন্যাস্ত করা হয়। শুধু তাই নয়, আমি বাংলাদেশে থাকাকালীন সময়ে ১৯৯৭ সালে যখন ওয়েলস আওয়ামী লীগের সম্মেলন হয়, তখন আমার অনুপস্থিতিতে ফিরোজ ভাই আমাকে সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব অর্পন করেন। সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব গ্রহণ করার পর আমাকে নিয়ে বিভিন্ন জন প্রশ্ন করলে. ফিরোজ ভাই শুধু বলতেন, আমি তাকে চিনি। সে সময় তিনি ছিলেন সভাপতি।
এখন আসা যাক, মৌলভী বাজারের আরেকজন প্রবীণ রাজনীবিদ মরহুম আজিজ ভাইর কথায়। রাজনগর থানার ছাত্রলীগের সভাপতি থাকাকালে বিভিন্ন প্রয়োজনে আজিজ ভাইর সান্নিধ্যে যাওয়ার সৌভাগ্য আমার হয়েছে। তিনি ছিলেন অতি সাধারণ একজন রাজনীতিবিদ। দলের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে থেকেও তাঁর মধ্যে ছিলো না কোন অহংকার। যার ফলে তিনি ছিলেন সর্বজন শ্রদ্ধেয়, গরীব মেহনতী মানুষের অত্যন্ত আপনজন।
তিনি যখন লন্ডন আসতেন তখন দেখা হতো। রাজনগরের রাজনীতির কথা জিজ্ঞাসা করলে বলতেন, “তোমরা হখলটি বিদেশ আইছ, আমি কিতা খরতাম। রাজনগরে রাজনৈতিক শূণ্যতা বিরাজ খরের।
কার্ডিফের অত্যন্ত পরিচিত, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব মকিস মনসুর প্রয়াত রাজনীতিবিদ মরহুম সৈয়দ মহসিন আলীর মৃত্যু বার্ষিকীতে লেখনির অংশ বিশেষ এখানে তুলে ধরলাম। তিনি লিখেছেন “রাজনীতি করতে গিয়ে ২৫ কোটি টাকার পৈত্রিক সম্পত্তি বিক্রি করেছেন। মৃত্যুর পর পরিবার জানতে পারে ৫ কোটি টাকা ঋণ রেখে গেছেন। আজকের দিনে তাঁর মতো এমন নির্লোভ ও দেশপ্রেমিক নেতা পাওয়া বিরল। এখনকার নীতিহীন লুঠপাটের রাজনীতিতে এমন ঘটনা বিরল।”
আমি দেখেছি, আগেকার সময়ের রাজনীবিদরা দলের নীতি এবং আদর্শ, গঠনতন্ত্রকে প্রধান্য দিতেন।
যদি শক্তিশালী বিরোধীদল, মত প্রকাশের স্বাধীনতা, সুষ্ঠু গণতান্ত্রিক ধারা, কৃষক-শ্রমিক মেহনতি মানুষের জন্য রাজনীতি, দেশপ্রেম, ব্যক্তি স্বার্থের উর্ধে দল এবং দেশ থাকতো, তাহলে রাজনগরের বর্তমান কমিটি এভাবে ঘোষণা করা হতো না। যে বা যারা ক্ষমতা বলে কমিটি গঠন করেছেন, জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্যতা, পারিবারিক রাজনৈতিক ব্যাক গ্রাউন্ড, যোগ্যতা, সততা, ত্যাগী, নিবেদিন প্রাণ, রাজপথে আদর্শের প্রশ্নে আপোষহীন যোদ্ধা, সৎ, দীর্ঘ রাজনৈতিক অতীত অভিজ্ঞতা এসব বিবেচনায় না এনে নিজেদের অবস্থান শক্ত ভাবে ধরে রাখার জন্য একান্ত কাছের লোকজনকে দিয়ে কমিটি গঠন করেছেন। যা আগের দিনগুলোতে ছিল না, এটাই আমাদের দুর্ভাগ্য।
আমার নেতাদেরকে শুধু এই অনুরোধ করছি. এমন কিছু রেখে না যাওয়ার জন্য যাতে ভবিষ্যৎ না বলে আপনাদের ব্যক্তি স্বার্থের কারণে দলকে খেসারত দিতে হচ্ছে। এখনও সময় আছে, নিরপেক্ষ দৃষ্টিভঙ্গী দিয়ে যোগ্যতার ভিত্তিতে দলীয় বিভিন্ন কার্যক্রমে যারা সাহসী ভূমিকা রাখতে পারবে তাদেরকে কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করা হোক। সামনে কঠিন দিন অপেক্ষা করছে। নির্বাচন সামনে। এমপি নেছার ভাইর বিকল্প নেই। আগামী নির্বাচনে নৌকার মাঝি হয়ে আবারও নির্বাচিত হবেন, ইনশা-আল্লাহ। এখন আমাদের উচিৎ. দলীয় অভ্যন্তরীণ সকল সমস্যার সমাধান করে ঐক্যবদ্ধ ভাবে আগামী নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করা।
আনোয়ান খান, সাবেক সভাপতি, রাজনগর উপজেলা ছাত্রলীগ।