

যুক্তরাজ্য অফিস: শতাব্দীজুড়ে ব্রিটিশ রাজতন্ত্রের আড়ম্বর ও ঐতিহ্যের প্রতীক হয়ে আছে হীরা-মণি-মুক্তাসহ মহামূল্যবান সব রত্নপাথর।
তারই উল্লেখযোগ্য উদাহরণ ইম্পেরিয়াল স্টেট ক্রাউন। ১৯৩৭ সালে রাজা ষষ্ঠ জর্জের রাজ্যাভিষেকের জন্য মুকুটটি তৈরি করা হয়েছিল। এর মধ্য দিয়েই নানা অনুষ্ঠান আর অভ্যর্থনায় ব্রিটিশ রাজপরিবারের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে মূল্যবান সব রত্নপাথর। এএফপি।
পার্লামেন্টের রাষ্ট্রীয় উদ্বোধনের মতো জমকালো অনুষ্ঠানের জন্য ব্যবহৃত ইম্পেরিয়াল স্টেট ক্রাউন রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথ তার রাজ্যাভিষেকের সময় পরেছিলেন। এই মুকুটে রয়েছে দুই হাজার ৮৬৮টি হীরা, ২৬৯টি মুক্তা, ১৭টি নীলকান্তমণি ও ১১টি পান্না। এর ওজন এক কেজি ৬০ গ্রাম। লম্বায় প্রায় সাড়ে ১২ ইঞ্চি। এর সামনের দিকেই শোভা পাচ্ছে কালিনান ডায়মন্ড থেকে কাটা দ্বিতীয় বৃহত্তম পাথর-যা এখন পর্যন্ত খনন করা সবচেয়ে বড় হীরা।
সার্বভৌম রাজদণ্ড : ব্রিটিশ সার্বভৌম রাজদণ্ডের নকশাটি খ্রিষ্টান পবিত্র আত্মার প্রতীক। সোনায় নির্মিত দণ্ডটিতে রয়েছে একটি ঘুঘু ও ক্রস। মাথায় রয়েছে একটি বিশ্ব মানচিত্র। দণ্ডটি ব্রিটিশ জনগণের প্রতি রাজা বা রানির যাজকীয় ভূমিকা নির্দেশ করে। রাজদণ্ডটির ওজন এক কেজি ১৭০ গ্রাম। লম্বায় সাড়ে তিন ফুটেরও বেশি।
সার্বভৌম বিশ্ব : বিশেষ গ্লোবটি বিশ্বমানচিত্রে সার্বভৌম রাজতন্ত্রের ক্ষমতা ও খ্রিষ্টান বিশ্বের প্রতিনিধিত্ব করে। মূলত গহনার আদলে তৈরি এ মানচিত্রটি একটি সোনার খণ্ড-যেখানে হীরা, পান্না, রুবি, নীলকান্তমণি ও মুক্তা খচিত রয়েছে। ওজন এক কেজি ৩২০ গ্রাম। উচ্চতা প্রায় ১১ ইঞ্চি।
সোনার অ্যাম্পুলা : ঈগল-আকৃতির এমন একটি পাত্র-যা রাজ্যাভিষেকের অনুষ্ঠানে ব্যবহৃত তেল ধারণ করে। সোনা দিয়ে তৈরি ঈগলটির ওজন ৬৬০ গ্রাম । দৈর্ঘ্য-প্রস্থে ৮-৪ ইঞ্চি।
স্পার্স : সোনা, চামড়া, মখমল এবং সোনার সুতো ব্রিটেনের রাজকীয় রাজ্যাভিষেকের অন্যতম প্রাচীন অংশ। অভিষেকের জন্য নাইটহুডের প্রতিনিধিত্ব করতে ১১৮৯ সালে প্রথম রিচার্ড স্পার্স (জুতোর বিশেষ হিল) ব্যবহার করেছিলেন। রাজকীয় ঐতিহ্য মোতাবেকে রাজ্যাভিষেকের সময় রাজার পায়ের সঙ্গে বেঁধে দেওয়া হতো। কিন্তু রানিদের জন্য এটি বেদিতে উপস্থাপন ও স্থাপন করা হতো।
কালিনান হীরা : ১৯০৫ সালে দক্ষিণ আফ্রিকায় যখন খনন করা হয়েছিল-তখন এটি ছিল সর্ববৃহৎ হীরা। কাটা অবস্থায় ওজন ৬২১ গ্রাম। ট্রান্সভাল সরকার দ্বিতীয় বোয়ার যুদ্ধের (১৮৯৯-১৯০২) পর পুনর্মিলনের ইঙ্গিত হিসাবে ১৯০৭ সালে রাজা এডওয়ার্ড সপ্তমকে তার ৬৬তম জন্মদিনে এটি উপস্থাপন করেন। অ্যাসচার্স অব আমস্টারডামের তিনজন কর্মচারী আট মাস ধরে ১৪ ঘণ্টা কাজ করে আসল রত্ন থেকে নয়টি বড় পাথর কেটে পলিশ করে।
সেন্ট এডওয়ার্ডস ক্রাউন : ইংরেজ গৃহযুদ্ধের সময় ১৬৪৯ সালে পার্লামেন্টারিয়ান বিদ্রোহীরা আগের মধ্যযুগীয় মুকুটটি নষ্ট করেছিল। পরে রাজা দ্বিতীয় চার্লসের রাজ্যাভিষেকের জন্য ১৬৬১ সালে ক্রাউন জুয়েলার্স রবার্ট ভিনার এটি তৈরি করেছিলেন। রাজারা ২০০ বছরেরও বেশি সময় ধরে রাজ্যাভিষেকের অনুষ্ঠানে শক্ত সোনার মুকুট পরেননি। কারণ, এর ওজন দুই কেজি ৪০ গ্রাম এবং লম্বায় প্রায় ১ ফুট।
রাজ্যাভিষেক আংটি : আংটিটি ১৮৩১ সালে রাজা উইলিয়াম চতুর্থের রাজ্যাভিষেকের সময়কার। রানি ভিক্টোরিয়া ১৮৩৮ সালে তার রাজ্যাভিষেকে এটি পরেননি। কারণ, তার আঙুলগুলো খুব ছোট ছিল।
এস্টেটের বেগুনি পোশাক : রয়্যাল স্কুল অব নিডলওয়ার্কের ১২ জন কারিগর পোশাকটি তৈরি করতে তিন হাজার ৫০০ ঘণ্টা সময় ব্যয় করেছে। পোশাকটি সিল্কের তৈরি এবং রাজার সাইফার, গমের কান এবং জলপাইয়ের ডাল দিয়ে সূচিকর্ম করা হয়েছে।
স্টোন অব ডেসটিনি : এটি স্কটল্যান্ডের রাজতন্ত্রের প্রাচীন প্রতীক। বেলেপাথরের স্ল্যাবটির ওজন ১৫২ কিলোগ্রাম (৩৩৫.১ পাউন্ড)। ইংরেজ রাজা প্রথম এডওয়ার্ড ১২৯৬ সালে এটি দখল করেন এবং এটি লন্ডনের ওয়েস্টমিনস্টারের সিংহাসনে অন্তর্ভুক্ত করেন। স্কটিশ জাতীয়তাবাদীরা ১৯৫০ সালে লন্ডনের ওয়েস্টমিনস্টার অ্যাবে থেকে এটি চুরি করে এবং পরে এটি স্কটল্যান্ডের আরব্রোথ অ্যাবেতে পুনরায় স্থাপিত হয়। এটি আনুষ্ঠানিকভাবে ১৯৯৬ সালে স্কটল্যান্ডে ফিরে আসে। ওয়েস্টমিনস্টার অ্যাবেতে রাজার রাজ্যাভিষেকের জন্য পাথরটি আবার স্কটল্যান্ড থেকে রওনা দেবে।
ইউকেবিডিটিভি/ বিডি / এমএসএম