

স্টাফ রিপোর্টার, কেরানীগঞ্জ: দক্ষিণ কেরানীগঞ্জে গাজী শহিদুল্লাহ (৭২) নামে একজন বীর মুক্তিযোদ্ধাকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়েছে। সোমবার রাত ১১টার দিকে ঢাকার একটি হাসপাতালে নেওয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
গত শুক্রবার (১৭ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় পার্শ্ববর্তী গ্রামের কয়েক সন্ত্রাসী বীর মুক্তিযোদ্ধা শহিদুল্লাহসহ তার পরিবারের ৬ জন সদস্যকে ছুরিকাঘাতে আহত করে। আহতরা বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন।
শহিদুল্লাহর ভাতিজা গাজী আমান উল্লাহ জানান, শুক্রবারের ঘটনায় যারা আহত হয়েছিলেন তাদের মধ্যে অনেকেই এখনো বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। তার চাচা (শহিদুল্লাহ) স্থানীয় একটি ক্লিনিকে চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরেছিলেন। কিন্তু ছুরিকাঘাত ও প্রচণ্ড মারধরের কারণে বাড়িতে আসার পর তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন।
তিনি জানান, সোমবার রাতে তাকে ঢাকার একটি হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। পরে আমরা লাশ বাড়িতে নিয়ে আসি। খবর পেয়ে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানা পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মিটফোর্ড হাসপাতালে নিয়ে গেছে।
নিহতের পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, পূর্বশত্রুতার জের ধরে শুক্রবার (১৭ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় আব্দুল্লাহপুর বাজারে একটি ক্লিনিকে থাকা শহিদুল্লাহর নাতিকে আটক করে মারধর করে মালিভিটা গ্রামের মমিন, তার ভাই শামীম, মিশাল, রিপনসহ ১৫-২০ জন সন্ত্রাসী। খবর পেয়ে পরিবারের কয়েকজন সদস্য নিয়ে নাতিকে রক্ষায় ক্লিনিকে ছুটে যান বীর মুক্তিযোদ্ধা শহিদুল্লাহ। তারা ক্লিনিকে পৌঁছামাত্র সন্ত্রাসীরা এলোপাতাড়ি সবাইকে ছুরিকাঘাত করে।
এতে বীর মুক্তিযোদ্ধা শহিদুল্লাহ, আবিদ, সাইফুর রহমান, মাসুম, আসাদুর, আব্দুর নূরসহ বেশ কয়েকজন আহত হন। তাদের ডাকচিৎকারে আশপাশের লোকজন জড়ো হলে সন্ত্রাসীরা পালিয়ে যায়। পরে আহতদের উদ্ধার করে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় বীর মুক্তিযোদ্ধা শহিদুল্লাহর মৃত্যু হয়েছে। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর।
এ ঘটনায় বীর মুক্তিযোদ্ধা শহিদুল্লাহর স্ত্রী মাজেদা বেগম বাদী হয়ে শনিবার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানায় ৬ জনের নামোল্লেখ ও অজ্ঞাতনামা কয়েকজনকে আসামি করে একটি মামলা করেন।
নিহতের মেয়ে ফাতেমা জাহান বলেন, আমার বাবা মুক্তিযুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করেছেন। সেই স্বাধীন দেশেই তাকে হত্যা করা হয়েছে। এটা কতটা কষ্টের তা ভাষায় প্রকাশ করার মতো না। আমরা এ হত্যাকাণ্ডের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই। আসামিদের ফাঁসি চাই।
দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদ বলেন, বীর মুক্তিযোদ্ধা শহিদুল্লাহসহ কয়েকজনকে মারধর ও ছুরিকাঘাতে আহত করার ঘটনায় একটি মামলা হয়েছে। সেই মামলায় প্রধান আসামিকে ইতোমধ্যে গ্রেফতার করা হয়েছে। মামলা হওয়ার পর যেহেতু বীর মুক্তিযোদ্ধার মৃত্যু হয়েছে, তাই মামলাটিতে অন্যান্য ধারার সঙ্গে খুনের ধারাও যুক্ত হবে