

২০২৬ সালের জাতীয় নির্বাচন নিয়ে আলোচনা করতে গেলে একটু পেছনের দিকে ফিরে যেতে হয়। কিভাবে ড. ইউনুস ক্ষমতা দখল করলেন , কাদের নিয়ে করলেন তার একটু বিশ্লেষণ করা উচিত বলে আমি মনে করি।
একটি নির্বাচিত সরকার আওয়ামী লীগকে আমেরিকা এবং পাকিস্তানের যোগসাজশে একটি মেটিকুলাস ডিজাইনের আওতায় এনে ড. ইউনুস বাংলাদেশে নিষিদ্ধ ঘোষিত জামায়েতে ইসলামী ও তাদের অংগ সংগঠন ইসলামী ছাত্র শিবির এবং সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার উজ-জামানকে সাথে নিয়ে ২০২৪ সালের ৫ই আগষ্ট এক গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ক্ষমতাচুত্য করে বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা দখল করেন।তিনি কয়েকটি নির্দিষ্ট দলের সমর্থকদের সমন্বয়ে ২০২৪ সালের আগষ্ট মাসে একটি অন্তর্বর্তিকালীন সরকার গঠন করেন।
জামায়াতে ইসলামী নেতৃবৃন্দ এবং তাদের অঙ্গ-সংগঠন ছাত্র শিবিরের ক্যাডারকে নিয়ে গঠিত এই উপদেষ্টা পরিষদের ড. ইউনুস হলেন প্রধান উপদেষ্টা। তাঁর বক্তব্য হলো, ছাত্ররা আমাকে এনে বসিয়েছে। আমার দায়িত্ব হচ্ছে, তাদের সংগঠিত করে নির্বাচন অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে একটি সুখী সমৃদ্ধশালী বাংলাদেশ গড়ে দিয়ে আমি আমার দায়িত্ব পালন করে, নির্বাচন অনুষ্ঠানের পর তাদের কাছে সবকিছু সমজিয়ে দিয়ে আমার কাজে আমি চলে যাবো। তিনি বুঝাতে চেয়েছেন ক্ষমতা আঁকড়ে ধরার তাঁর কোন খায়েস নেই! তার সিদ্ধান্ত মোতাবেক তিনি আগামী ১২ই ফেব্রুয়ারি নির্বাচনের তারিখে ঘোষণা করেছেন। কিন্তু নির্বাচন তিনি কি ভাবে করবেন? কারণ কোন বড় রাজনৈতিক দল মাঠে না থাকলেতো এই নির্বাচন বিশ্ববাসীর কাছে গ্রহণযোগ্য হবেনা।
বিভিন্ন ধরণের কুটবুদ্ধির উপর ডক্টরেট করা ড. ইউনুস বুদ্ধি করে বের করলেন, যে ভাবেই হোক বর্তমানে বাংলাদেশের বৃহত্তম রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ নির্বাচনী মাঠে না থাকায়, দ্বিতীয় বৃহত্তম রাজনৈতিক দল বিএনপি’কে যে ভাবেই হোক ক্ষমতার লোভ দেখিয়ে রাজনীতির মাঠে নামাতে হবে। কেননা, জামায়েতে ইসলামী বাংলাদেশের রাজনীতিতে একটি নিষিদ্ধ দল, সেহেতু শুধুমাত্র সেই দলকে নিয়ে নির্বাচন করা সম্ভব নয়।
যেমন সিদ্ধান্ত তেমনি কাজ। তিনি দৌড়ঝাপ শুরু করলেন লন্ডনে, সেখানে বিএনপি নেতা (তখন ভারপ্রপ্ত চেয়ারম্যান) তারেক রহমানের সাথে লন্ডনে এসে আলাপ আলোচনা শুরু করলেন। জনাব তারেক রহমানকে প্রধানমন্ত্রী বানানোর লোভ দেখিয়ে বাংলাদেশে এসে নিরাপদে রাজনীতিতে সক্রিয় অংশগ্রহণ করার আহ্বান জানালেন, যদিও তিনি ছিলেন একজন পলাতক আসামী। তাঁর উপর যতোসব মামলা মোকদ্দমা আছে সবকিছু থেকে অব্যাহতি দেয়ার নিশ্চয়তা দিয়ে এবং তাকে সসম্মানে বাংলাদেশে ফিরে আসতে রাজি করালেন্। তারেক রহমান লন্ডনে এসাইলাম নিয়ে মূলত: শান্তিতেই বসবাস করছিলেন, কিন্তু ক্ষমতার লোভ সম্বরণ করতে না পেরে ড. ইউনুসের আস্বাশে বাংলাদেশে আসতে রাজি হয়ে গেলেন। শুরু হলো দাবার চাল। তখন বেগম খালেদা জিয়া হাসপাতালে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছেন। যখন ওয়ানওয়ে পাসপোর্ট দিয়ে বাংলাদেশে আসার তারিখ ঠিক হলো তখনই বেগম খালেদা জিয়াকে এই মুমূর্ষ অবস্থায় হাসপাতাল থেকে সরিয়ে নিয়ে নিরাপত্তা জনিত কারন দেখিয়ে হঠাৎ করে ভিভিআইপি অর্থাৎ ভেরি ভেরি ইম্পর্টেন্ট পার্সন হিসেবে ঢাকার ক্যান্টনমেন্টে স্থানান্তর করা হয়। এরপর থেকেই খালেদা জিয়ার শারিরীক অবস্থা দেশবাসী আর জানতে পারেনি। সেখানে সাংবাদিক সহ কাহারও কোন প্রবেশাধিকার ছিলোনা, এমনকি সরকারের পক্ষ থেকেও খালেদা জিয়ার স্বাস্থ সম্পর্কে আর কোন খবর প্রকাশ করা হয়নি। এর কিছুদিন পরই তারেক রহমানের দেশে ফিরে আসার তারিখ ঠিক হলে ঐদিন তাকে একজন ভিআইপি’র মর্য্দাা দিয়ে এয়ারপোর্ট থেকে বুলেট প্রুফ গাড়ি দিয়ে তাঁর দলের শত শত নেতাকর্মীর উপস্থিতিতে তাকে স্বাগতম জানানো হয়।
দেশে আসার পূর্বে তারেক জিয়ার বাড়িকে সুন্দর ভাবে কাজ করিয়ে, সাজিয়ে গুছিয়ে এবং কড়া প্রহরার ব্যবস্থা করে তাকে স্বপরিবারে থাকার ব্যবস্থা করা হয়। এ ভাবে তাকে এবং মৃত্যু পথযাত্রী খালেদা জিয়াকে হঠাৎ করে এতো গুরুত্ব দিয়ে ভিআইপি মর্যাদা দেয়ার কারণে দেশের রাজনৈতিক মহলে বিভিন্ন ধরণের আলোচনা সমালোচনা শুরু হয়। অনেকেই বলেছেন, ’ডাল মে কুচ কালা হ্যায়’ এটি হচ্ছে ড. ইউনুসের মেটিকুলাস ডিজাইনের একটি অংশ, যদিও বিএনপি দলীয় নেতা-কর্মীরা তাদেরকে এই সম্মান দেওয়ায় আনন্দে আত্মহারা হয়ে গেছেন। একই সাথে জামায়াত নেতা ডা: শফিকুর রহমানকে প্রাণঢালা অভিনন্দনও জানিয়েছেন তারা।
বিএনপি নেতা তারেক রহমানকে এভাবে ভিআইপি সম্মান দেয়ার কারণে জামায়াতে ইসলামীর একটি অংশ ভীষণ ভাবে নাখোশও হয়েছেন। দেশে ফেরার পর বিভিন্ন সমাবেশে হাজার হাজার মানুষের উপস্থিতি দেখে তারেক জিয়াও খুশীতে আত্মহারা হয়ে গেছেন। কিন্তু গত ১৭ বছর থেকে তিনি দেশের রাজনীতিতে প্রত্যক্ষ ভাবে জড়িত না থাকার কারণে দেশের রাজনৈতিক অবস্থা সম্বন্ধে মোটেই ওয়াকিবহাল নন। যার কারণে বিভিন্ন জনসমাবেশে তাঁর দেয়া বক্তব্য জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্য হচ্ছে না। তাঁর উচিৎ ছিল অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলোকে কোন রকমের দোষারোপের ভাষা ব্যবহার না করে বরং নিজের দল বিএনপি’কে কি ভাবে ঠিক রেখে ভালভাবে নির্বাচনটা শেষ করে নিতে পারেন তা চেষ্টা করা। তিনি যদি মনে করেন যে, তিনি নিশ্চিত প্রধানমন্ত্রী হয়ে যাচ্ছেন তাহলে মস্ত বড় ভুল করবেন। তাঁর বোঝা উচিৎ, জামায়াতে ইসলামী দলটি দীর্ঘ ৫৪ বছর পর সূর্য়ের আলো দেখছে। বাংলাদেশে এটি তাদের প্রথম নির্বাচন, নির্বাচনে জয় লাভের জন্য তারা মরণ কামড় দেবেই। এছাড়াও বুঝতে হবে , যেহেতু ড. ইউনুস জামায়াতে ইসলামী এই দলটিকে নিয়েই তিনি যাত্রা শুরু করেছেন, সুতরাং তাদের প্রাধান্যই বেশী থাকবে।
অন্যদিকে, জামায়াতে ইসলামীও কোমর বেঁধে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করেছে। তাদের সমাবেশেও হাজার হাজার মানুষের উপস্থিতিও লক্ষনীয়। তারাও বিএনপি’র বিভিন্ন সমালোচনার কড়া জবাব দিচ্ছেন। কর্মজীবী নারীদের ইঙ্গিত করে জামায়াতের আমির ডা: শফিকুর রহমান বলেছিলেন, নারীদের ঘর থেকে বের করা ”পতিতাবৃত্তির আরেক রূপ”, এ ছাড়াও তিনি কাতার ভিত্তিক সংবাদ মাধ্যম আল জাজিরাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে পুরো বিশ্বের সামনে স্পষ্ট করে বলেছেন ”কোন নারী কখনোই তার দলের আমীর হতে পারবেনা”। এ ভাবে বিভিন্ন ধরণের বক্তব্য জনসমাবেশে দেয়ার পরপরই সারা দেশের জনগণ ও রাজনীতিবিদরা ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠলে শেষ পর্য্যন্ত এ বক্তব্য পরিহার করে , নারীদের কর্মক্ষেত্রে বিশেষ প্রাধান্য দেয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।
বিএনপি’র তারেক রহমানকে উদ্দেশ্য করে জামায়াতের আমীর বলেন, আচ্ছা কোন দল দুনীতিতে ৪ বার চ্যাম্পিয়ন হয়েছিলো? আমি তো জানি একটি সরকার বারবার চ্যাম্পিয়ান হয়েছিল। জামায়াতে ইসলাম সেই সরকারের অংশীদার ছিল। যাদের কোলে পিঠে করে এই দলটিকে চলতে শেখলো আজ তারাই আমার বিরুদ্ধে কথা বলছে। ভাবতেও আশ্চর্য্য লাগে এর জবাব দিতে গিয়ে সম্প্রতি রুহুল আমিন রিজভী বলেছেন, ”জিয়াউর রহমান না থাকলে জামায়াতের জন্ম হতো না”! মোট কথা, এভাবেই চলছে বিভিন্ন দলের আগামী ১২ই ফেব্রুয়ারিরনির্বাচনী প্রচারণা।
মঙ্গলবার ছিলো নির্বাচনী প্রচারণার শেষ দিন। জামায়াতের আমীর ডা: শফিকুর রহমান এবং বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান তাদের স্ব স্ব দলের পক্ষ থেকে জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেন।
জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা: শফিকুর রহমান জাতির উদ্দেশ্যে তার ভাষণে বলেন, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনে আমাদের প্রার্থীদের দাড়ি পাল্লায় এবং জোটের প্রার্থীদের ভোট দিয়ে নির্বাচিত করে আপনাদের সেবা করার সুযোগ করে দিন। দেশের তরুণদের আহ্বান জানিয়ে বলেন, হে তরুণ সমাজ তোমরা এগিয়ে আস, তোমরাই এ দেশের ভবিষ্যৎ। তিনি বলেন এই তরুণরা বসবে বাংলাদেশ নামক উড়োজাহাজের ককপিটে , আমরা গিয়ে বসবে প্যাসেঞ্জার সিটে। দেশবাসীর প্র্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, আসুন আমরা সবাই মিলে একটি নতুন বাংলাদেশ গড়ে তুলি। আমরা আন্তরিক ভাবেই বিশ্বাস করি , আমরা আমাদের দায়িত্ব সঠিক ভাবেই পালন করে যাবো। দেশের প্রতিটি মানুষ যাতে সুখে স্বাচ্ছন্ধে বসবাস করতে পারে, মহিলারা যাতে নির্বিঘ্নে নিরাপদে চলাফেরা করতে পারে আমরা তার নিশ্চয়তা প্রদান করবো।
তারেক রহমান:
জনগনের সমর্থনে সরকার গঠন করতে পারলে রাষ্ট্র পরিচালনায় বিএনপির মূল মন্ত্র হবে ’মহানবীর (স:) মহান আদর্শ-ন্যায় -পরায়নতা’ – এ ঘোষণা দিয়েছেন বিএনপি’র চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
সোমবার ৯ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় বাংলাদেশ টেলিভিশনে জাতির উদ্দেশ্যে দেয়া ভাষণে তিনি এ কথা বলেন। ভাষণে তিনি বিগত সরকারের সময় বিএনপি’র ভুলত্রুটির জন্য দেশবাসীর কাছে দু:খ প্রকাশ করেন। তারেক রহমান বলেন, জনগণের সমর্থনে বিএনপি একাধিকবার রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পালন করেছে। সে সময় দেশ পরিচালনায় অনিচ্ছাকৃত কিছু ভুলত্রুটি হয়ে থাকতে পারে-এর জন্য তিনি আন্তরিক ভাবে দু:খ প্রকাশ করেন।
তিনি আরও বলেন, বিএনপির পরিকল্পনা ও প্রতিশ্রæতি বাস্তবায়নে দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণে কঠোর হওয়ার অঙ্গীকারও ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, পরিকল্পনা বাস্তবায়নে দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ, আইনের শাসন প্রতিণ্ঠা এবং জনগণের কাছে রাষ্ট্র ও সরকারের দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করার কোন বিকল্প নেই। জনগণের সমর্থন পেলে আগামী সরকার জনগণের কাছে দায়বদ্ধ থাকবে এবং দুর্নীতি দমনে সর্বোচ্চ কঠোরতা দেখানো হবে। সব শেষে তিনি ধানের শীষের বিজয় কামনা করেন।
উপরের লেখাগুলো বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, একটি নির্বাচিত সরকার আওয়ামী লীগকে আমেরিকার যোগসাজশে একটি মেটিকুলাস ডিজাইনের আওতায় এনে ড. ইউনুস বাংলাদেশে নিষিদ্ধ ঘোষিত জামায়েতে ইসলামী ও তাদের অংগ সংগঠন ইসলামী ছাত্র শিবির এবং সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার উজ-জামানকে সাথে নিয়ে ২০২৪ সালের ৫ই আগষ্ট এক গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ক্ষমতাচ্যুত করে বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা দখল করেন। বাস্তবতা হলো, ২০২৪ সালে ছাত্র জনতার যে গণঅভ্যুত্থান হয় তার সপ্তাহ দু’য়েক আগে সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার উজ্জামান এক সংক্ষিপ্ত সফরে যুক্তরাষ্ট্রে যান। সেখানে গিয়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাথে সাক্ষাৎ করে দেশে ফিরে আসেন, এর পরই শুরু হয় উভয়ের মধ্যে আলোচনা। এসময়ই ড. ইউনূস এবং জেনারেল ওয়াকার উজ্জামান উভয়ে তাদের মেটিকুলাস ডিজাইনের আওয়াতায় এনে কি ভাবে এই অভ্যুত্থান ঘটাবেন তার নীলনকশা তৈরী করেন আমেরিকার ডিপ-স্টেটের পরামর্শ মোতাবেক্ । পরে স্বাধীনতা বিরোধী জামায়াতে ইসলামকে দিয়ে এই অভ্যুত্থান ঘটে। এই অভ্যুত্থানের পেছনে পাকিস্তানও ওতপ্রোত ভাবে জড়িত। এই অভ্যুত্থানের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র এবং পাকিস্তান মিলে জামায়াতে ইসলামকে বাংলাদেশে স্থায়ী ভাবে একটি শক্তিশালী রাজনৈতিক দল হিসেবে তারা প্রতিষ্ঠিত করতে চায়। এ লক্ষ্যেই বাংলাদেশের এই স্বাধীনতা বিরোধীরা, স্বাধীনতার কান্ডারী আওয়ামীলীগ নেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে জেনারেল ওয়াকার উজ্জামানের মাধ্যমে দেশ থেকে বিদায় করে ভারতে পাঠিয়ে ’৭১ সালে তাদের পরাজয়ের প্রতিশোধ নেয়।
এই নির্বাচনে জামায়াত যাতে সংখ্যা গরিষ্ঠ ভোটে জয়লাভ করতে পারে সে জন্য ড. ইউনুস বর্তমানে সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার উজ্জামানকে নির্বাচনের সময় কোন রকমের অপ্রীতিকর ঘটনা যাতে না ঘটে তা দেখভাল করার জন্য দায়িত্ব দিয়েছেন। সেনা প্রধান এ দায়িত্ব গ্রহণ করার সাথে সাথেই সারা দেশে ১৪৪ ধারা জারী করেছেন এবং আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীদের সশস্ত্র অবস্থায় পাহারাতে রেখেছেন।
সুতরাং সহজেই অনুমান করা যায়, আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহায়তায় জামায়াতে ইসলামী বিপুল ভোটে জয়লাভ করে সরকার গঠন করবে। বিএনপি হবে বিরোধী দল। তবে একথা সত্য, নির্বাচন যদি নিরপেক্ষ হয়, তাহলে বিএনপি নির্বাচনে জয়লাভ করবে।
লেখকঃ দেওয়ান রফিকুল হায়দার (ফয়সল), সিনিয়র সাংবাদিক ও কলামিস্ট