পঞ্চগড় জেলার বোদা উপজেলায় আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে পঞ্চগড় ২ (বোদা-দেবীগঞ্জ)
আসনে বিএনপি ও জামায়াতের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে কমপক্ষে ১৫ জন আহত খবর পাওয়া গেছে। প্রশাসনের হস্তক্ষেপে এখন পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়েছে।
শুক্রবার বোদা উপজেলার পাচপীর ইউনিয়নে রাতে একটি নির্বাচনী জনসভাকে কেন্দ্র করে বিএনপি জামায়াতে ইসলামী মধ্যে এ সংঘর্ষের ঘটনাটি ঘটে।
শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি ) বিকেলে পঞ্চগড় জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক কাজী সায়েমুজ্জামান পরিস্থিতি
স্বাভাবিক হওয়ার বিষয়টি সাংবাদিকদের নিশ্চিত করেন।
সে সময়ে পঞ্চগড় জেলা পুলিশ সুপার রবিউল ইসলাম, বোদা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. রবিউল ইসলাম, দেবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা মাহমুদুল হাসান, ১৮ বিজিবি পঞ্চগড়ের সহকারী পরিচালক জামালউদ্দীন, মেজর আসিফ, বোদা থানা অফিসার ইনচার্জ সেলিম মালিক সহ বিএনপি, জামায়াতের নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
জানা যায়, গতকাল শুক্রবার বোদা উপজেলার পাচপীর ইউনিয়নে একটি নির্বাচনী জনসভাকে কেন্দ্র করে বিএনপি এবং জামায়াতে ইসলামী সমর্থকদের মধ্যে উত্তেজনার এক পর্যায়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পরে দুই দলের সমর্থকরা। পুলিশ এবং সেনাবাহিনী তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
এদিকে পৃথক আরেকটি ঘটনায় পঞ্চগড় দুই আসনের দেবীগঞ্জ উপজেলা’র দণ্ডপাল ইউনিয়নে ধানের শীষের নির্বাচনী জনসভা শেষে বাড়ী ফেরার পথে আনুমানিক রাত সাড়ে ১০ টায় দুবৃত্ত্বদের অতর্কিত হামলায় কালীগঞ্জে পাচপীর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান অজয় কুমার রায় ও বোদা সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান অখিল চন্দ্র শিশা বাবুকে গুরুতর জখম অবস্থায় স্থানীয় লোকজন উদ্ধার করে হাসপাতালে প্রেরণ করেছে। এসময় তাদের বহন করা মাইক্রোবাসটি ভেঙ্গে চুরমার করে দেয় দুর্বৃত্তরা। এ ঘটনায় বিএনপি প্রার্থী ফরহাদ হোসেন আজাদ দুজন সনাতনী সম্প্রদায়ের নেতা ও জনপ্রতিনিধির উপর ন্যাক্কারজনক হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে জামায়াতে ইসলামী প্রার্থী সহ কর্মী সমর্থকদের উগ্রতাকে দায়ী করেন।
পৃথক ওই দুটি ঘটনায় গতকাল পঞ্চগড় দুই আসনের বিভিন্ন এলাকায় ব্যপক আতংক ও থমথমে অবস্থা
বিরাজ করতে দেখা গেছে।
সৌহার্দপূর্ণ এলাকা হিসেবে পরিচিত পঞ্চগড় ২ আসনের উত্তপ্ত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে গতকালের পর আজ বেলা ৩ টায় জেলা প্রশাসনের নেতৃত্বে বোদা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. রবিউল ইসলামের কার্যালয়ে বিএনপি ও জামায়াত প্রার্থীর সাথে তাৎক্ষণিক আলোচনা করে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারী সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচন উপহারের অঙ্গীকার পুনরায় ব্যক্ত করেন জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা কাজী সায়েমুজ্জামান। তিনি, সংঘর্ষের ঘটনায় প্রকৃত দোষী ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনার প্রতিশ্রুতি দিয়ে দলমত নির্বিশেষে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে সাধারণ নাগরিকদের আগামী ১২ ফেব্রুয়ারী ভোটাধিকার প্রয়োগের জন্য নির্ভয়ে ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার অনুরোধ করেন।
বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ফরহাদ হোসেন আজাদ বলেন, আমরা অত্যন্ত সৌহার্দ্য সম্প্রীতির সাথে আগামী নির্বাচন উৎসব আকারে পালন করতে চাই।বিএনপি আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। কেউ কোন অপতৎপরতা চালালে প্রশাসনকে সাথে সাথে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে অনুরোধ করবো।