

যুক্তরাজ্য প্রবাসী টাওয়ার হ্যামলেটসের সাবেক কাউন্সিলর, ১১ বারের সিআইপি, কমিউনিটি নেতা, শিক্ষানুরাগী ও সমাজ সেবক এম এ রহিমের বিরুদ্ধে আওয়ামী ট্যাগ ব্যবহার করে মৌলভীবাজারে তার বাসভবনে হামলা, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ করে ১০ কোটি টাকার অধিক ক্ষতিসম্পত্তির সাধন করলেও আজ পর্যন্ত অপরাধীদের বিরুদ্ধে প্রশাসন কোন ব্যবস্থা না নেয়ায় ন্যায় বিচারথেকে বঞ্চিত হচ্ছেন তিনি।
জানা যায়, ২০২৪ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের দিন ৫ ই আগস্ট বিকেল ৩: ৩০ মিনিট থেকেরাত ১১ : ৩০ মিনিট পর্যন্ত পরিকল্পিত ভাবে পূর্ব শত্রুতার জের ধরে এবং রাজনৈতিক অস্থিরতার সুযোগনিয়ে স্থানীয় জাহাঙ্গীর এর নেতৃত্বে প্রায়
দুই শতাধিক দুষ্কৃতিকারী মৌলভীবাজার সদর উপজেলার ঢাকা–সিলেট রোডের বেরিপার এলাকায়অবস্থিত এম এ রহিম সিআইপি এর ভবনে পরিকল্পিত ভাবে হামলা, লুটপাট ও অগ্নি সংযোগ করে প্রায় ১০ কোটি টাকার অধিক সম্পত্তির ক্ষয়ক্ষতি ও লুটপাট করে।
জিনিসপত্রের মধ্যে নগদ ৭২ লক্ষ টাকা, ৭০ –৮০ ভরি স্বর্ণালংকার, তিনটি আইফোন, একটি রোলেক্সও রাডো ঘড়ি, ঘরের সকল এসি, সকল ফার্নিচার এবং তার লাইসেন্সকৃত একটি রিভলবার এবং তারভাই মুজিবুর রহমানের একটি বিদেশী পিস্তল সহ বিভিন্ন মূল্যবান জিনিসপত্র লুটপাট করা হয়েছে। দুস্কৃতকারীরা শুধু লুটপাট করে ক্ষান্ত হয়নি বরং লুটপাট শেষে তারা এম এ রহিমের বাড়িটি সম্পূর্ণজ্বালিয়ে দেয়। ঘটনার সময় বাস ভবনের পার্কিং লটে থাকা তার একটি পাজেরো গাড়িও ভাঙচুর করে পুড়িয়ে দেওয়া হয়।
ঘটনার সময় বাস ভবনে অবস্থান করছিলেন তিনি। হামলা থেকে জীবন বাঁচাতে এম এ রহিম বাড়ির পানিরট্যাংকিতে লুকিয়ে থাকার চেষ্টা করলেও পরবর্তীতে জীবন হানির আশঙ্কায় চার তলা থেকে লাফ দিয়েনীচে পড়েন এবং মারাত্মকভাবে আহত হন। ঘটনার ১৫ মাস পেরিয়ে গেলেও তিনি এখনো শারিরীক ও মানসিকভাবে বিপর্যস্ত অবস্থায় লন্ডনে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
এ ব্যাপারে কেন মামলা করা হয়নি জানতে চাইলে তিনি বলেন ঘটনার সময় থানায় কোন পুলিশ নাথাকায় কোন অভিযোগ দায়ের করতে পারেননি। পরবর্তীতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসলে তিনি ঘটনার ভিডিও ফুটেজসহ ২০২৪ সালের ১৫ ই আগস্ট তৎকালীন জেলা প্রশাসকের কাছে বিচার দাবি করে লিখিত অভিযোগ জানান এবং জেলা প্রশাসন থেকে পুলিশ সুপারকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্যবলা হলেও অদ্যবতী এই ঘটনার জন্য কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি।
এর পুর্বে ৮ ই আগস্ট তার লাইসেন্সকৃত রিভলবার এবং পিস্তল লুটের ঘটনা অবহিত করে জেলাপ্রশাসককে লিখিতভাবে জানালেও অধ্যবধি রিভলবার এবং পিস্তল উদ্ধার করতে সক্ষম হয়নি পুলিশ। এসব অস্ত্র অবৈধভাবে ব্যবাহার করে অপরাধ সংঘটনের আশঙ্কা রয়েছে বলে জানান তিনি।
এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসনের কার্যালয় থেকে গত ২১ শে আগস্ট,২০২৪ স্মারক নং০৫.৪৬.৫৮০০.০০০.০৩১.১৬.০০৩২.২০–১০২৭ মূলে মৌলভীবাজার পুলিশ সুপারকে পত্র প্রেরণ করাহলেও অদ্যবধি রিভলবার এবং পিস্তল উদ্ধার করা হয়নি।
নিরাপত্তাহীনতায় থাকা এম এ রহিম সিআইপি জানান, মৌলভীবাজারে তার অনেক সম্পত্তি এখনোনিরাপত্তা ঝুঁকির মধ্যে মধ্যে রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ঢাকা–সিলেট রোডের সপ্তম তলা এম আরটাওয়ার –২ শপিং কমপ্লেক্স, এম আর টাওয়ার –১ ( সবুজবাগ) এবং ঢাকা সিলেট রোডের কুসুমবাগএলাকায় নির্মাণাধীন এম আর প্লাজা। বিভিন্ন অজুহাতে এসব স্থাপনার উপর হামলা করে ক্ষতি সাধন করা হতে পারে বলে তিনি আশঙ্কা করছেন।
তার বাড়িতে অগ্নিসংযোগ, হামলা ও লুটপাটের ব্যাপারে এম এ রহিম সিআইপি বলেন, যুক্তরাজ্যরে নাগরিক হিসেবে আমি যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের সাথে দীর্ঘদিন আগে জড়িত থাকলেও ২০১৬ সালেজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে দলের নমিনেশন না পাওয়ায় এবং পরবর্তীতে সংসদ সদস্যহিসেবে আমাকে নমিনেশন না দেওয়ায় আমি আওয়ামী লীগের সকল কার্যক্রম থেকে নিজেকে সরিয়ে নেই। এরই ধারাবাহিকতায় মৌলভীবাজার জেলা পরিষদ নির্বাচনে আমি দুইবার আওয়ামী লীগ প্রার্থীরবিরুদ্ধে নির্বাচন করেছি।
তিনি আরো বলেন, গত কয়েক বছরে আমি আওয়ামী লীগের কার্যক্রম এ অংশগ্রহণ করেছি এরকমকোন তথ্য প্রমাণ কেউ দেখাতে পারবে না। তিনি অভিযোগ করে বলেন পূর্ব শত্রুতার জের ধরে হিংসার বশ্ববর্তী হয়ে এবং রাজনৈতিক পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে স্থানীয় একটি কুচক্রী মহল এসব ঘটনাঘটিয়েছে। আমি প্রশাসন ও সরকারের কাছে প্রকৃত দোষীদের বিচার চাই।
তিনি বলেন ঘটনার ভিডিও ফুটেজ যেহেতু আছে, সেহেতু দোষীদের সনাক্ত করেআইনের আওতায় আনা তেমন কঠিন কাজ হবে না সেক্ষেত্রে প্রশাসনের সদ ইচ্ছা থাকতে হবে।
এম এ রহিম প্রশ্ন রেখে বলেন, ১১ বারের মতো নির্বাচিত একজন সিআইপির সহায় সম্পদের যদি এইঅবস্থা হয় তাহলে সাধারণ প্রবাসীরা বাংলাদেশে বিনিয়োগ করবে কেন। তিনি দেশে প্রবাসীদেরসম্পত্তি রক্ষায় প্রশাসনকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের অনুরোধ জানান।
উল্লেখ্য , গত ৪৩ বছর যাবত এম এ রহিম যুক্তরাজ্যের লন্ডন শহরে বসবাস করছেন। তিনি লন্ডন এবংবাংলাদেশে ব্যবসার পাশাপাশি একজন শিক্ষানুরাগী হিসেবে গড়ে তুলেছেন বিভিন্ন শিক্ষা ও ধর্মীয়প্রতিষ্ঠান যার মধ্যে রয়েছে আলহাজ্ব মো : মোখলেসুর রহমান ডিগ্রী কলেজ, করফুলনেসা এতিমখানা, হাফেজিয়া মাদ্রাসা এবং ইউসুফ নগর জামে মসজিদ।
লন্ডনে একাধিক প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা ও উদ্যোক্তা এম এ রহিম সিআইপি। ১৯৯০ সালে লন্ডনেপ্রতিষ্ঠিত টাওয়ার হ্যামলেটস কলেজের প্রতিষ্ঠাতা গভর্নর এবং লন্ডন ভিক্টোরিয়া কলেজ এবংভিডব্লিউসিসি আইসিটি কলেজ এবং ভিক্টোরিয়া ল এসোসিয়েট এর প্রতিষ্ঠাতা তিনি। এম এ রহিমসিআইপি বাংলাদেশে রেমিটেন্স প্রেরণ করে ইতিহাস সৃষ্টি করেছেন। এখন পর্যন্ত তিনি বাংলাদেশসরকার কর্তৃক ১১ বার সিআইপি নির্বাচিত হয়েছেন। প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে চলতি অর্থবছরের জন্যও সিআইপি নির্বাচিত করার জন্য তার নাম প্রস্তাব করা হয়েছে।
লন্ডনের বাংলাদেশী কমিউনিটিতে অত্যন্ত জনপ্রিয় এম এ রহিম ১৯৯০ সালে প্রথম টাওয়ারহ্যামলেটস কাউন্সিলের কাউন্সিলর নির্বাচিত হন এবং পরবর্তীতে ১৯৯৩ সালে বেথনাল গ্রীননেইবারহুডের চেয়ারম্যান এবং ১৯৯৪ সাল পর্যন্ত এডুকেশন কমিটির লিভ মেম্বার ছিলেন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় বাসিন্দারা জানান এম এ রহিম সিআইপি একজন দেশ প্রেমিক নাগরিক যিনি তরুণ বয়সে প্রবাসী হলেও তিনি সর্বদা দেশের জন্য কাজ করে যাচ্ছেন। তিনি শিক্ষা সহ সামাজিক বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদান রাখছেন যা দেশ তথা মৌলভীবাজার জেলার উন্নয়নে বিশেষ ভুমিকা রাখছে। রেমিট্যান্স যোদ্ধা হিসেবে তিনি ১১ বার সিআইপি নির্বাচিত হয়েছেন তার কাজের স্বীকৃতি স্বরূপ। তার উপর এরকম হামলা করে তার প্রাণনাশের চেষ্টা ও সম্পদ বিনষ্ট করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
সরকারের উচিত যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করে অবিলম্বে অপরাধিদের আইনের আওতায় আনা এবং বিচার নিশ্চিত করা যাতে আর কেউ এমন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়াতে না পারে। যদি সরকার প্রবাসীদের হয়রানি বন্ধ না করতে উদ্যোগী হয় তাহলে দেশে প্রবাসী বাংলাদেশীদের বিনিয়োগ বন্ধ হয়ে যেতে পারে। কেউ কোন দলের সমর্থক বা কর্মী হলেই তাদের উপর অত্যাচার করা বা হয়রানি করার চেষ্টা বন্ধ করতে হবে। সকল নাগরিকের অধিকার আছে তাদের পছন্দের দল সমর্থন করার। কোন গনতান্ত্রিক দেশে এটি গ্রহণযোগ্য নয়।