

মৌলভীবাজার জেলার শ্রীমঙ্গল উপজেলার আশীদ্রোন ইউনিয়নের মোহাজেরাবাদ গ্রামে প্রভাবশালী পঞ্চায়েত নেতাদের চাপিয়ে দেওয়া এক সালিশি রায় না মানায় একটি পরিবারকে সমাজচ্যুত করার অভিযোগ উঠেছে।
রবিবার (২৪ আগস্ট) শ্রীমঙ্গল প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী দিনমজুর হাসিম মিয়া এ অভিযোগ করেন।
লিখিত বক্তব্যে হাসিম মিয়া জানান, ২০২০ সালে তার ছেলে আমিনুল ইসলাম বাবুর সঙ্গে একই এলাকার রমজান মিয়ার মেয়ে মরিয়মের প্রেমের সম্পর্কের জেরে উভয় পরিবারের সম্মতিতে তাদের বিয়ে সম্পন্ন হয়। অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় লিখিত কাবিন হয়নি, তবে উপস্থিত গণ্যমান্যরা মৌখিকভাবে ৭০ হাজার টাকা কাবিন ধার্য করেন। তাদের সংসারে এক কন্যা সন্তানও জন্ম নেয়।
হাসিম মিয়া অভিযোগ করেন, চলতি বছরের ৫ জুন তাঁর ছেলে বাবু বাড়ির বাইরে থাকাকালীন তার স্ত্রী মরিয়ম খালাতো ভাই নাজমুল ইসলামের সঙ্গে পরকীয়ায় লিপ্ত হন। হাতেনাতে ধরা পড়ার পর তারা ক্ষমা চান এবং বাবু স্ত্রীকে সুযোগ দেন। তবে বিষয়টি এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় সালিশ বসে, যেখানে মরিয়ম ও নাজমুল তাদের মধ্যে সম্পর্কের কথা স্বীকার করেন। পরবর্তী এক সালিশে বাবু মৌখিকভাবে স্ত্রীকে তালাক দেন।
এরপর গত ৪ জুলাই পঞ্চায়েতের প্রধান আহাদ মিয়া পুরো গ্রাম নিয়ে সালিশ বসান। কোনো প্রমাণ ছাড়াই রায় দেন মরিয়মকে বাবুর পরিবারের পক্ষ থেকে ২ লাখ ৮৬ হাজার টাকা দিতে হবে। হাসিম মিয়া এ রায় মানতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে ও তার পরিবারকে সমাজচ্যুত ঘোষণা করা হয়।
সমাজচ্যুত হওয়ার পর থেকে হাসিম মিয়া ও তার পরিবারকে সামাজিক-ধর্মীয় কর্মকাণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন করা হয়। তিনি অভিযোগ করেন, এমনকি স্থানীয় মসজিদে তাকে নামাজ পড়তেও বাধা দেওয়া হচ্ছে, যদিও তিনি মসজিদ কমিটির সহসভাপতি।
পরবর্তীতে তিনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ প্রদান করেন। ১১ আগস্ট ইউএনও মো. ইসলাম উদ্দিন ভুক্তভোগী ও আহাদ মিয়াকে অফিসে ডেকে আনেন। তখন আহাদ মিয়া বিষয়টি সমাধানের জন্য দুই দিনের সময় চান। কিন্তু সেদিন বিকেলেই মরিয়ম মৌলভীবাজার আদালতে বাবুর বিরুদ্ধে যৌতুক নিরোধ আইনে মামলা দায়ের করেন।
এ বিষয়ে ইউএনও বলেন, আমি অভিযোগ পাওয়ার পর উভয় পক্ষকে ডেকে এনেছিলাম। আহাদ মিয়া আমাকে জানিয়েছিলেন বিষয়টি দুই দিনের মধ্যে সমাধান করবেন। কিন্তু এখনও কেউ কিছু জানায়নি। আমি আবারও উভয়কে ডেকে বসব। তবে ভুক্তভোগী পরিবার চাইলে আইনের আশ্রয় নিতে পারবেন।