শুক্রবার, ২০ মার্চ ২০২৬, ১০:৫৫ অপরাহ্ন

মৌলভীবাজারে মনু-ধলাই'র

১৫টি বাঁধ ভেঙে প্লাবিত জনপদ, পানিবন্দী কয়েক লাখ মানুষ 

মোঃ আব্দুল কাইয়ুম
  • খবর আপডেট সময় : শুক্রবার, ২৩ আগস্ট, ২০২৪
  • ২০০ এই পর্যন্ত দেখেছেন
টানা তিনদিনের আকস্মিক ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতির কবলে গোটা মৌলভীবাজার। ভারতের উজান থেকে আসা পাহাড়ি ঢল আর টানা বৃষ্টিতে ইতিমধ্যে জেলার মনু, ধলাই, কুশিয়ারা ও জুড়ী নদীর পানি বিপৎসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
বৃহস্পতিবার (২২ আগস্ট) দুপুরের দিকে সর্বশেষ পাওয়া তথ্য অনুযায়ী মৌলভীবাজার সদর, রাজনগর,  কুলাউড়া ও কমলগঞ্জ উপজেলা সহ ৪ টি উপজেলায় মনু ও ধলাই নদীর সর্বমোট ১৫ টি পয়েন্টে বাঁধ ভেঙে গেছে। এর মধ্যে মনু নদীর ৮ টি পয়েন্ট ও ধলাই নদীর মোট ৭ টি পয়েন্টে পানির তীব্র স্রোতে বাঁধ ভেঙে প্লাবিত হচ্ছে নতুন নতুন এলাকা। এতে প্রায় দুই লাখ মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন।
May be an image of body of water
বাউবো’র তথ্য বলছে সর্বশেষ মনুনদীর পানি চাঁদনীঘাট ব্রিজ এলাকায় বিপৎসীমার ১১৩ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে। ধলাই নদীর পানি বিপৎসীমার ৩৩ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। আর কুশিয়ারা নদীর পানি বিপৎসীমার ৫ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
তবে শহর এলাকার চাঁদনীঘাট ব্রিজ এলাকার লেভেল অনুযায়ী এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত পানি বিপৎসীমার ১৩৪ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। বৃষ্টি অব্যাহত থাকায় প্রতি মুহূর্তে বেড়ে চলেছে পানির স্রোতের তীব্রতা। শহরের উপকন্ঠের শাহবন্দর এলাকায় মনু নদীর প্রতিরক্ষাবাঁধটিও রয়েছে মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ। শহর রক্ষায় রাত জেগে বিএনপি, জামায়াতের সহযোগি সংগঠনের নেতাকর্মীরা বালি ভরে বস্তা দিয়ে বাধঁ রক্ষার কাজ করছেন স্বেচ্ছায়।
বৃহস্পতিবার রাতে মৌলভীবাজার-কুলাউড়া সড়কের রাজনগর উপজেলার কদমহাটা এলাকায় মনু নদীর বাঁধ ভেঙে যাওয়ায় নতুন করে ওই এলাকার বিভিন্ন গ্রাম প্লাবিত হচ্ছে। আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন সেখানকার সাধারণ মানুষ। বানের পানিতে ইতিমধ্যে তলিয়ে গেছে মৌলভীবাজার-কুলাউড়া সড়কটিও। পানি প্রবেশ করায় তলিয়ে গেছে রাজনগরের সরকারি খাদ্য গুদাম সহ বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারী স্থাপনা।
মৌলভীবাজার পানি উন্নয়ন (পাউবো) বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. জাবেদ ইকবাল জানান, মনু নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। তবে ভারতে এই মুহূর্তে বৃষ্টি বন্ধ থাকায় মনুনদীর রেলওয়ে ব্রিজ এলাকা দিয়ে কমতে শুরু করেছে পানি।
ওদিকে দিকে জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী জেলার মোট ৩৭ টি ইউনিয়নের ২১২ টি গ্রাম বন্যার পানিতে প্লাবিত হয়েছে। বন্যা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে খোলা হয়েছে জেলা প্রশাসন ও বিভিন্ন উপজেলা প্রশাসনের কন্ট্রোল রুম।

অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক আব্দুস সালাম চৌধুরী বলেন, ইতিমধ্যে বন্যা আক্রান্ত এলাকায় রেড ক্রিসেন্ট, আনসার ভিডিপির সদস্য সহ সেনাবাহিনীর সদস্যরা উদ্ধার সহ ত্রান তৎপরতা শুরু করেছেন।নিউজ /এমএসএম

দয়া করে খবরটি শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

এই ক্যাটাগরিতে আরো যেসব খবর রয়েছে
All rights reserved © UKBDTV.COM
       
themesba-lates1749691102