

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: রাশিয়ার বিরুদ্ধে লড়াইয়ে ইউক্রেনের পক্ষে সাহসী ভূমিকা রাখায় বিদায়ী ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসনকে ইউক্রেনের নাগরিকত্ব দিতে এবং তাকে সে দেশের প্রধানমন্ত্রী করার জন্য একটি পিটিশন দায়ের করা হয়েছে। পিটিশনটি গতকাল মঙ্গলবার ইউক্রেনের অফিসিয়াল সাইটে স্থাপন করার পরপরই এতে বিপুল সাড়া পড়ে। খবর রয়টার্স।
অভ্যন্তরীণভাবে জনপ্রিয়তা হারানো বিতর্কিত বরিস জনসন এ মাসের শুরুতে প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দিতে বাধ্য হন। হঠাৎ করেই তার প্রতি অনাস্থা জানিয়ে কয়েকজন মন্ত্রী পদত্যাগ করলে এ অবস্থা তৈরি হয়। যদিও তিনি বলেছিলেন, এ পদ ছেড়ে দেওয়ার কোনো আগ্রহ তার মধ্যে নেই।
তবে নিজ দেশে বিতর্কিত হলেও রাশিয়ার বিরুদ্ধে লড়াইয়ে ইউক্রেনের প্রতি অকুণ্ঠ সমর্থন জানানোর কারণে সেখানে তার অন্যরকম এটি ইমেজ তৈরি হয়েছে। ফলে যুদ্ধের মধ্যেই ইউক্রেনের রাজধানীতে পেইন্টিং, ম্যুরাল এবং এমনকি কেকের মধ্যেও বরিস জনসনের দেখা মিলছে।
বরিসকে ইউক্রেনের নাগরিকত্ব দিয়ে দেশের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়ার জন্য যে পিটিশনটি দায়ের করা হয়েছে, তাতে কয়েক ঘণ্টার মধ্যে আড়াই হাজার সমর্থকের স্বাক্ষর জমা পড়েছে। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির কাছে পেশ করা ওই পিটিশনে জনসনের প্রতি বিশ্বব্যাপী সমর্থন, রাশিয়ার সামরিক আক্রমণের বিরুদ্ধে তার স্পষ্ট অবস্থান এবং রাজনৈতিক, আর্থিক ও আইনি ক্ষেত্রে তার প্রজ্ঞার কথা উল্লেখ করা হয়।
এদিকে, মঙ্গলবার পিটিশনটি পেশ করার কয়েক ঘণ্টা পর বরিস জনসন জেলেনস্কিকে স্যার উইনস্টন চার্চিল লিডারশিপ অ্যাওয়ার্ড প্রদান করেন। এ ব্যাপারে বলতে গিয়ে রাশিয়ার আক্রমণের মুখে জেলেনস্কির অবিশ্বাস্য সাহস, প্রতিরোধ ইত্যাদির কথা বর্ণনা করা হয়।
কিয়েভ থেকে জেলেনস্কি ভিডিও লিঙ্কের মাধ্যমে পুরস্কারটি গ্রহণ করেন। এ সময় জেলেনস্কি যুদ্ধকালীন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী চার্চিলের উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন, যখন পরিস্থিতি কঠিন হয়ে উঠল তখন সংগ্রাম ছেড়ে দেওয়ার কোনো চিন্তা ছিল না।
এদিকে, বরিস জনসনকে নাগরিক ও প্রধানমন্ত্রী করার আওয়াজ উঠলেও ইউক্রেনের সংবিধান অনুসারে তা অসম্ভব। তবে পিটিশনটি ২৫ হাজার স্বাক্ষর পেলে এ নিয়ে জেলেনস্কি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিক্রিয়া জানাতে বাধ্য থাকবেন।