বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬, ০১:৩৫ অপরাহ্ন

আবেদন করে পুরস্কার নেওয়া অসম্মানের: ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী

সংবাদদাতার নাম :
  • খবর আপডেট সময় : মঙ্গলবার, ১০ মে, ২০২২
  • ২১৮ এই পর্যন্ত দেখেছেন

স্পোর্টস ডেস্ক: আবেদন করে সম্মান আদায় করে নিতে হবে। এমন ভূতুরে নিয়মই চালু রয়েছে এদেশের জাতীয় সব পুরস্কারে। আর এমন নিয়মে পরিবর্তন চান খোদ ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসান রাসেল।

সবকিছু ঠিক থাকলে বুধবার সকাল ৯টায় ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে গত ৮ বছরের জমে যাওয়া জাতীয় ক্রীড়া পুরস্কার দেওয়া হবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভার্চ্যুয়ালি উপস্থিত থাকবেন। 

জাতীয় পুরস্কার দেওয়ার আগে মঙ্গলবার সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের সম্মুক্ষিণ হন ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসান রাসেল এমপি। 

এক প্রশ্নের জবাবে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী বলেন, এভাবে আবেদন করে পুরস্কার নেওয়া অসম্মানের। কিন্তু কিছু করার নেই। আমাদের প্রতিটি পুরস্কার আবেদন করেই নিতে হয়। এমনকি দেশের সর্বোচ্চ পুরস্কার স্বাধীনতা পুরস্কারও আবেদন করে নিতে হয়।

ভবিষ্যতে আবেদনের ব্যাপারটা তুলে নেওয়া যায় কি না, সেটি দেখার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, নিয়মটা ক্যাবিনেটের তৈরি করা। কাজেই ক্যাবিনেট থেকেই সিদ্ধান্ত আসতে হবে। কারণ, ক্যাবিনেট থেকেই এটি পাস হয়। তাই ভবিষ্যতে আমি মন্ত্রিসভায় প্রস্তাব করব, আবেদনের ব্যাপারটা প্রত্যাহার করতে।

মন্ত্রী আরও বলেন, অনেকে আবেদন করতে চান না, আমি ব্যক্তিগতভাবেও কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলেছি। তারা বলেছেন, আবেদন করে আমরা পুরস্কার নিতে চাই না। ফলে আমাদের হাত-পা বাঁধা। আবেদন ছাড়া এই পুরস্কার দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই।

৮ বছরের পুরস্কারের জন্য আবেদন করেছিলেন ৩৪০ জন। তার মধ্য থেকে ৮৫ জন পাচ্ছেন এই পুরস্কার। অপেক্ষাকৃত পেছনের সারির খেলোয়াড়দের পুরস্কারের তালিকায় রাখা প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, জাতীয় ক্রীড়া পুরস্কার দেওয়ার জন্য তিনটি কমিটি আছে। প্রাথমিকভাবে আসা আবেদনপত্র যাচাই–বাছাই করে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিবের নেতৃত্বে আরেকটি কমিটির কাছে যায়। এভাবে তিনবার যাচাই–বাছাইয়ের পর আমাদের কাছে আসে। কমিটিতে আছেন পাপন ভাই, হারুন ভাই, সালাউদ্দিন সাহেবরা। 

তিনি আরও বলেন, এই ৮ বছরের পুরস্কারের মধ্যে মাত্র ২ বছরের পুরস্কার আমার সময়ের। বাকিটা পুরস্কার আগের সরকারের সময়ের। ফলে তালিকাটা আমার করা নয়। পুরস্কারের জন্য আমরা তালিকা চাই ফেডারেশনের কাছে। তারা নাম পাঠানোর ক্ষেত্রে ভুল করতে পারে।

জাতীয় পুরস্কারের ৬৩ নম্বর তালিকায় জেসমিন আক্তারকে মনোনীত করা হয়েছে। তার ব্যাপারে ভারোত্তোলন ফেডারেশনের সহসভাপতি মহিউদ্দিন আহমেদ বলেন, জেসমিন ফেডারেশনের মাধ্যমে আবেদন করেনি। সে দু–তিনবার জাতীয় প্রতিযোগিতায় প্রথম হয়েছে। আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় ব্রোঞ্জ পেয়েছে। তবে ওর চেয়ে অনেক বেশি পদক ও জাতীয় পর্যায়ে অবদান রাখা খেলোয়াড় আছে। মোল্লা সাবিরা সুলতানা, ফাহিমা আক্তার, ফিরোজা, হামিদুল, একরামুলের মতো খেলোয়াড়েরা পুরস্কার পায়নি। এটা দুঃখজনক।

ভারোত্তোলনে কাজল দত্তের পুরস্কারের জন্য মনোনীত হওয়া নিয়ে প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, এ বছর স্বাধীনতা পুরস্কার যখন দেওয়া হয়, তখনও বিতর্ক হয়। একজনের নাম বাদ দেওয়া হয়। যদি কোনো নাম নিয়ে বিতর্ক থাকে, যাচাই–বাছাইয়ে সত্য হলে সেটি প্রত্যাহার করব। 

তালিকায় বর্তমান সময়ের কোনো খেলোয়াড় না থাকার ব্যাখ্যায় মন্ত্রী বলেন, অতীতে সাকিব আল হাসানকে যখন জাতীয় পুরস্কার দেওয়া হয় তখনও প্রশ্ন ওঠে, সে এখনো খেলছে, এখনি কেন তাকে পুরস্কার দেওয়া হচ্ছে। এসব কারণে বর্তমান খেলোয়াড়দের বাইরে রাখা হয়েছে।

দয়া করে খবরটি শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

এই ক্যাটাগরিতে আরো যেসব খবর রয়েছে
All rights reserved © UKBDTV.COM
       
themesba-lates1749691102