বুধবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৬, ০৬:১৫ পূর্বাহ্ন

উপজেলা পরিষদ নির্বাচন দেশের সার্বিক উন্নয়নের চাবিকাঠি

দেওয়ান ফয়সল
  • খবর আপডেট সময় : বুধবার, ২৪ এপ্রিল, ২০২৪
  • ২৩৪ এই পর্যন্ত দেখেছেন

সব রকমের জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে একমাত্র বিএনপি ছাড়া দেশের অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলোর স্বত:স্ফূর্ত অংশ গ্রহণের মাধ্যমে গত ৭ই জানুয়ারী অনুষ্ঠিত হয়ে গেলো বাংলাদেশের দ্বাদশ সংসদ নির্বাচন। এই নির্বাচনের পূর্বেই বিএনপি আঁচ করতে পেরেছিলো যে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশের উন্নয়নে জনগণের সমর্থন নিয়ে যে অবদান রেখে চলেছেন, তার বিপক্ষে নির্বাচনে অংশ গ্রহণ করে জয়লাভ করা তো দূরের কথা, জামানত পর্য্যন্ত বাজেয়াপ্ত হয়ে জনগনের কাছে হাসির পাত্র হয়ে ঘরে ফিরতে হবে এবং সেই সঙ্গে দলের মধ্যেও ভাঙ্গন দেখা দিতে পারে। এসব অবস্থা বিবেচনা করেই বিভিন্ন অৎুহাত দেখিয়ে তারা নির্বাচন বয়কট করে।

জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় যাওয়ার পরপরই গঠন করা হয় মন্ত্রী পরিষদ। এর পরই মে মাসে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের সময় এবং তারিখ ঘোষণা করা হয়। সে অনুযায়ী নির্বাচন কমিশনারের তফসিল ঘোষণার মাধ্যমে শুরু হয় নির্বাচন প্রক্রিয়া। এতে সাড়া দিয়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবর্গ উপজেলা চেয়ারম্যান, চেয়ারম্যান ইত্যাদি পদে স্বত:স্ফুর্ত ভাবে প্রার্থী মনোনয়ন পত্র কিনে জমা দিতে শুরু করেন।

এই নির্বাচন সারা দেশে বিভিন্ন এলাকায় ৬ ধাপে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। প্রথম ধাপ ইতিমধ্যেই শেখ হয়েছে। দ্বিতীয় ধাপের নির্বাচনের জন্য সবাই মনোনয়ন ফর্ম কিনে জমা দিচ্ছেন এবং এপ্রিল মাসের ৩০ তারিখের মধ্যেই যারা অংশ গ্রহণের জন্য চুড়ান্ত হবেন তারা নির্বাচনে অংশ গ্রহণ করবেন।

উপজেলা নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পরপরই নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দিয়েছে বিএনপি। ১৫ই এপ্রিল রাতে দলের স্থায়ী কমিটির বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত হয় বলে মঙ্গলবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিএনপির মুখপাত্র ও দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভি জানান। সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে রিজভী বলেন, বিএনপি শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকার ও তার সাজানো নির্বাচন কমিশনের অধীনে এবং প্রশাসন ও পুলিশের প্রকাশ্যে একপেশে ভুমিকার জন্য ইতোপূর্বে অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ ও স্থানীয় সরকার নির্বাচন বর্জন করেছে। এখনো সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের পরিবেশ তৈরী হয়নি। বিদ্যমান অরাজক পরিস্থিতি আরও অবনতিশীল হওয়ায় আসন্ন উপজেলা নির্বাচনে অংশ গ্রহণ না করার যৌক্তিক কারণ রয়েছে।

এদিকে গত ১৮ই এপ্রিল আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, বিএনপি নির্বাচন বিরোধী অবস্থান নেয়ায় ভিন্ন প্রেক্ষাপটে আওয়ামী লীগকেও কৌশলগত অবস্থান গ্রহণ করতে হয়েছে। তাই আওয়ামী লীগ এবার দলীয় প্রতীক বরাদ্দ দিচ্ছে না। দল ও দলের বাইরে জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্য ব্যক্তি যাতে নির্বাচিত হয়, সেটাই আওয়ামী লীগের প্রত্যাশা।

গত দ্বাদশ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার পর আমরা দেখেছি, এর আগের নির্বাচনে জয়লাভ করে যারা মন্ত্রী হয়েছিলেন, তাদের মধ্যে যাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ ছিলো তাদের এবারের মন্ত্রী পরিষদে স্থান দেয়া হয়নি। তাদের জায়গায় স্থান পেয়েছেন বেশ কয়েকজন নতুন মন্ত্রী, যাদের বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ নেই এবং তারা ইয়াং এবং এনার্জেটিক। দেশের উন্নয়নে কাজ করার মতো মনোবল এবং দক্ষতা তাদের আছে। তাতেই বোঝা যায়, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দূরদর্শী চিন্তাধারার মাধ্যমে দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নেয়ার পরিকল্পনা তিনি তার বাস্তব রূপ দিতে চান। আমাদের মনে রাখতে হবে জনগণের সহযোগিতা ছাড়া দেশকে উন্নয়নের পথে এগিয়ে নিতে সরকারের পক্ষে একা সম্ভব নয়।

বাংলাদেশের উন্নয়নে সহযোগিতার লক্ষ্যে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ এগিয়ে আসছে। ২২ এপ্রিল সোমবার লন্ডনের সাপ্তাহিক জনমতে প্রকাশিত খবরে প্রকাশ, কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানি দু’দিনের এক সফরে ঢাকায় এসেছেন। ২০০৫ সালের পর এবারই প্রথম কাতারের কোন আমির বাংলাদেশে এলেন। কাতারের আমিরকে স্বাগত জানান রাষ্ট্রপতি মো: শাহাবুদ্দিন। কাতারের আমিরের এ সফলে দুই দেশের মধ্যে ৬টি চুক্তি এবং ৫টি সমঝোতা চুক্তি সই হচ্ছে। কাতারের আমিরের সম্মানার্থে ঢাকায় একটি সড়ক এবং একটি পার্কের নামকরণ কাতারের আমিরের নামে করা হবে। ঢাকায় কালশি এলাকায় বালুর মাঠে নির্মিতব্য পার্ক এবং ইসিবি চত্বর থেকে কালশি উড়াল সেতু পর্য্যন্ত সড়কটি কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানির নামে নামকরণ করা হবে। ২৩ এপ্রিল বিকেলে কাতারের আমির নিজে উভয় স্থাপনার উদ্বোধন করবেন।

দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির মাধ্যমে কাতার থেকে বাংলাদেশ গ্যাস (এলএনজি) আমদানী করে থাকে। এই সফরকালে যে ৬টি চুক্তি সই হবে সেগুলো হচ্ছে, (১) দ্বৈতকর পরিহার ও কর ফাঁকি সংক্রান্ত , (২) আইনগত বিষয়ে সহযোগিতা, (৩) সাগর পথে পরিবহন, (৪) উভয় দেশের পারস্পরিক বিনিয়োগ উন্নয়ন ও সুরক্ষা সংক্রান্ত, (৫) দুই দেশের দন্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের বদলি এবং (৬) যৌথ ব্যবসা পরিষদ গান সংক্রান্ত চুক্তি।

এ ছাড়া যে ৫টি সমঝোতা স্মারক সই হবে সেগুলো হচ্ছে (১) শ্রমশক্তি বিষয়ক (২) বন্দর পরিচালনা সংক্রান্ত (৩) উচ্চশিক্ষা ও বৈজ্ঞানিক গবেষণা (৪) যুব ক্রীড়াক্ষেত্রে সমঝোতা স্মারক এবং (৫) কুটনৈতিক প্রশিক্ষণে সহযোগিতা সংক্রান্ত সমঝোতা স্মারক।

উল্লেখ্য যে, রাষ্ট্রপতি মো: শাহাবু্দ্দিন এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আমন্ত্রণে ২২ ও ২৩ এপ্রিল কাতারের আমির এই সফর করছেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০২৪ সালের জানুয়ারীতে সরকার গঠনের পর মধ্যপ্রাচ্যের দেশ সমূহ হতে এটি প্রথম উচ্চ পর্য্যায়ের রাষ্ট্রীয় সফর।

শুধু মধ্যপ্রাচ্যই নয়, বিশ্বের বিভিন্ন দেশই এখন বাংলাদেশের সাথে সম্পর্ক গভীর করে ব্যবসা বাণিজ্য প্রসারে এগিয়ে আসছে। তা সম্ভব হচ্ছে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অক্লান্ত পরিশ্রমের মূল্যায়নের কারণে।

আমাদের মনে রাখতে হবে, উপজেলা নির্বাচন শুরু হয়েছে। এই নির্বাচন খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এই নির্বাচন হচ্ছে প্রত্যেকের এলাকার নির্বাচন, যাদের সাথে দিনরাত চলাফেরা, সুখে দু:খে যারা পাশে এসে দাঁড়ান, অভাব অনটনে যারা খোঁজ খবর রাখেন, সুতরাং বলা যায় এরাই হচ্ছেন আত্মার আত্মীয়। এই নির্বাচনে যদি জনগণ তাদের এলাকার জন্য এই ধরণের ব্যক্তিকে নির্বাচিত করেন, তাহলে তাদের এলাকায় উন্নয়নের অগ্রগতি ত্বরান্বিত হবে বলে অভিজ্ঞ মহলের অভিমত। তাদের খেয়াল রাখতে হবে, যারা ঘুষখোর, চাঁদাবাজ, বিভিন্ন ধরণের সিন্ডিকেটের সাথে জড়িত অর্থাৎ জনগণের স্বার্থবিরোধী কাজে যারা জড়িত তাদের প্রতিহত করতে হবে।

ন্যায়- পরায়ন, জনগণের পরম বন্ধু, সৎ এবং নিষ্ঠাবান ব্যক্তিকে আপনাদের এলাকার উন্নয়ন, নিরাপদে থাকা এবং শান্তিতে বসবাস করার স্বার্থে যোগ্য ব্যক্তিকে নির্বাচিত করে উন্নয়নের সুযোগকে কাজে লাগান। সবাইকে মনে রাখতে হবে, গ্রামাঞ্চলের উন্নয়নই দেশের প্রকৃত উন্নয়ন।এই উপজেলা নির্বাচনই আপনার এলাকার তথা দেশের সার্বিক উন্নয়নের চাবিকাটি।

লেখকঃ দেওয়ান ফয়সল, কলামিষ্ট, সিনিয়র সাংবাদিক ও সদস্য লন্ডন বাংলা প্রেসক্লাব

দয়া করে খবরটি শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

এই ক্যাটাগরিতে আরো যেসব খবর রয়েছে
All rights reserved © UKBDTV.COM
       
themesba-lates1749691102