

আওয়ামী লীগকে নৌকা প্রতীকে ভোট দিয়ে বিজয় নিশ্চিত করে বিএনপি-জামায়াতের নৃশংসতার জবাব দিতে দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন আওয়ামীলীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। দলীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি ভোটে কোনো সংঘাত চাই না।’
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে বুধবার (৩ জানুয়ারি) গাইবান্ধা, রাজশাহী, টাঙ্গাইল, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, কুমিল্লা ও চট্টগ্রামের সন্দ্বীপে নির্বাচনী জনসভায় ঢাকা থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে শেখ হাসিনা উপরোক্ত কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিএনপি-জামায়াতের অগ্নিসন্ত্রাসকে ‘দুর্বৃত্তপরায়ণতা’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, ‘এদের এই দুর্বৃত্তপরায়ণতার জবাব দিতে হবে আপনাদেরকে, বাংলাদেশের মানুষকে। আপনারা নৌকায় ভোট দিয়ে আওয়ামী লীগকে জয়যুক্ত করে এর জবাব দেবেন এবং উন্নয়নের ধারাটা অব্যাহত রাখবেন—সেটাই আমরা চাই।
’ তিনি বলেন, ‘এই নির্বাচনে যেমন আমাদের নৌকার প্রার্থী আছে, সেই সঙ্গে আমরা এই নির্বাচনকে উন্মুক্ত করে দিয়েছি, কাজেই আপনাদের ভোট আপনারা যাকে খুশি আপনাদের পছন্দের প্রার্থীকে দিতে পারবেন। আমার ভোট আমি দেব, যাকে খুশি তাকে দেব—এটা আমাদের স্লোগান। কাজেই আপনাদের পছন্দমতো প্রার্থীকে ভোট দেবেন, কোনো রকম গণ্ডগোল আমি চাই না।
শেখ হাসিনা বলেন, জনগণের ভোট চুরি করে ক্ষমতায় থাকতে চেয়েছিল খালেদা জিয়া। থাকতে পারেনি। ভোট চুরি করলে জনগণ মেনে নেয় না। আন্দোলনের মধ্য দিয়ে খালেদা জিয়ার পতন ঘটে। ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন হয়। তারপর পদত্যাগ করতে বাধ্য হয়। কিন্তু ওদের শিক্ষা হয়নি। তাই আবারও ২০০১ সালে ভোট কারচুপি, ভোট চুরি, জনগণের ভাগ্য নিয়ে খেলা শুরু করে। এক কোটি ২৩ লাখ ভুয়া ভোটার তৈরি করে নির্বাচনে জিততে চেয়েছিল। তাদের দুঃশাসনের কারণেই দেশে জরুরি অবস্থা জারি হয়।
২০১৩ ও ২০১৪ সালের অগ্নিসন্ত্রাস এবং ২০১৮ সালে বিএনপির নির্বাচনের নামে মনোনয়ন বাণিজ্যের কারণে তাদের দলের ভরাডুবির উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, জনগণ দ্বারা প্রত্যাখ্যাত হয়েই ২০০৮ সালে বিএনপি-জামায়াত জোট নির্বাচনে ৩০ আসনে আর আওয়ামী লীগ এককভাবে ২৩৩ আসনে বিজয়ী হয়। অন্য আসনগুলো আওয়ামী লীগের শরিক দলগুলো পেয়েছিল। যে কারণে তারা এখন নির্বাচন বানচাল করতে চায়।
শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমি চাই, এই নির্বাচনটা সত্যিকার অর্থে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হবে। যে নির্বাচনের মধ্য দিয়ে জনগণ তার পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করবে। যা বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ইতিহাসে একটি মাইলফলক হয়ে থাকবে। আর বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের অগ্রযাত্রা সুগম হবে। আগামী ৭ জানুয়ারিপোর্ট নির্বাচন, এই নির্বাচনে আমরা সফল হবো, জনতার জয় হবে।’