বুধবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৬, ০২:০৯ পূর্বাহ্ন

নজরুল ইসলাম খান

লুট করার লোভেই আ.লীগ ক্ষমতা ছাড়তে চায় না

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • খবর আপডেট সময় : রবিবার, ৩১ ডিসেম্বর, ২০২৩
  • ২০৫ এই পর্যন্ত দেখেছেন

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেছেন, ‘আগে দেখেছি চুরি বা জালিয়াতি হতো গোপনে। কিন্তু ১৮ সালে নির্বাচন কমিশন, প্রশাসন আর আওয়ামী লীগ মিলে জনসমক্ষে ভোট ডাকাতি করে নিয়ে গেছে। এখন যে প্রহসনের নির্বাচনের আয়োজন চলছে তা অত্যন্ত হাস্যকর। সিন্ডিকেট করে বাজার লুট, ব্যাংক লুট, শেয়ারবাজার লুটের যে মহোৎসব আওয়ামী লীগ চালিয়েছে, সেই লোভেই তারা ক্ষমতা ছাড়তে চায় না।’

শনিবার প্রেসক্লাবে এবি পার্টি কর্তৃক আয়োজিত ‘দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন বর্জন, অংশগ্রহণ ও ডামি ভোটাভুটি’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

নজরুল ইসলাম খান বলেন, ‘জনগণের ওপর গত ১৫ বছর যে সীমাহীন নির্যাতন চালিয়েছে সরকার তাতে ক্ষমতায় না থাকলে কী পরিণতি হবে সেই ভয়ও তাদের তাড়িয়ে বেড়াচ্ছে। তাদের ভয় আর লোভ থেকে যে নির্বাচনী প্রহসনের আয়োজন তাতে জনগণের কোনো অংশগ্রহণ নেই। এই ভোটে জনগণ অংশ নেবে না।’

জাতীয় প্রেসক্লাবে সর্বদলীয় আলোচনায় সভাপতিত্ব করেন এবি পার্টির আহ্বায়ক এএফএম সোলায়মান চৌধুরী। দলের সদস্য সচিব মজিবুর রহমান মঞ্জুর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সভায় ধারণাপত্র উপস্থাপন করেন বিশিষ্ট নির্বাচন বিশেষজ্ঞ, নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক প্রফেসর ড. আ.ক.ম. ওয়ারেসুল করিম।

আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য দেন নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করিম, খেলাফত মজলিসের মহাসচিব ড. আহমদ আব্দুল কাদের, গণফোরাম সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী, খ্যাতিমান আলোকচিত্রী ও মানবাধিকার সংগঠক ড. শহীদুল আলম, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক কমরেড সাইফুল হক, গণঅধিকার পরিষদের একাংশের সভাপতি ড. রেজা কিবরিয়া, জমিয়তে ওলামায়ে ইসলামের মহাসচিব মাওলানা মঞ্জুরুল ইসলাম আফেন্দী, রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী অ্যাডভোকেট হাসনাত কাইয়ূম, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের চেয়ারম্যান ববি হাজ্জাজ, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিশের মহাসচিব মাওলানা জালাল উদ্দিন, এবি পার্টির যুগ্ম আহ্বায়ক প্রফেসর ডা. মেজর (অব.) আব্দুল ওহাব মিনার প্রমুখ।

মূল প্রবন্ধে ড. ওয়ারেসুল করিম বলেন, ‘২০১৪ ও ২০১৮ সালের নির্বাচন বিশ্লেষণ করলে পিলে চমকানো তথ্য আপনারা পাবেন। এই নির্বাচনে আওয়ামী জোট কোথাও কোথাও ৮২ শতাংশ ভোট পেয়েছে অপর পক্ষে বিরোধী বিএনপি জোট ১১৭৯ কেন্দ্রে কোনো ভোটই পায়নি। নির্বাচন কমিশন ঘোষিত ফলাফলে দেখা যায় ২১৩টি কেন্দ্রে শতভাগ ভোট পড়েছে, ১৮৭টি কেন্দ্রে ভোট পড়েছে ৯৯ শতাংশ, ২০২৩টি কেন্দ্রে ভোট পড়েছে ৯৫ থেকে ১০০ শতাংশ। এই কেন্দ্র গুলোতে আওয়ামী লীগ পেয়েছে ৮৯ শতাংশ ভোট আর বিএনপি জোট পেয়েছে ৯ শতাংশ ভোট। এতেই প্রতীয়মান হয় কতটা সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ ভোট আওয়ামী নির্বাচন কমিশন করেছে।’

মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, ‘এই নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মন্ত্রী, এমপিরা যে হলফনামা দিয়েছেন তা আগে দেখলে মানুষ আওয়ামী লীগ ছাড়া আর কোনো পার্টি করত না। এভাবে মানুষ টাকার মালিক হতে পারে তা কল্পনাও করা যায় না। গতকাল পত্রিকায় দেখলাম একজনেরই ৩০০ ফ্ল্যাট, যার সবই নাকি ইউরোপ আমেরিকায়। এখন একটাই উপায়, সরকারকে সকল সহযোগিতা বন্ধ করতে হবে। সরকারের পতন না হওয়া পর্যন্ত আমাদের সংগ্রাম চালাতে হবে।’

সাইফুল হক বলেন, ‘৭ জানুয়ারি নির্বাচন নির্বাচন খেলার আয়োজন করা হয়েছে। মানুষ ভোট দিয়ে নেতা নির্বাচন করতে চায়, খেলা দেখতে মানুষ ভোট কেন্দ্রে যাবে না। গতকাল প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে আমি খুবই উদ্বিগ্ন। কারণ তিনি বলেছেন বিএনপি রাজনীতি করার অধিকার হারিয়েছে। এই ধরনের কথা আমরা আমরা বাকশাল কায়েমের আগে শুনেছি।’

ড. রেজা কিবরিয়া বলেন, ‘৭ জানুয়ারি নির্বাচনের নামে যে নাটক গণভবন থেকে চালানো হচ্ছে তা দুর্ভাগ্যজনক।’

আলোচনা সভায় আরও ছিলেন- এবি পার্টির প্রচার সম্পাদক আনোয়ার সাদাত টুটুল, যুবপার্টির আহ্বায়ক এবিএম খালিদ হাসান, অর্থ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম এফসিএ, সিনিয়র সহকারী সদস্য সচিব আব্দুল বাসেত মারজান, মহানগর উত্তরের আহ্বায়ক আলতাফ হোসেইন, সহকারী সদস্য সচিব এম আমজাদ খান, ব্যরিস্টার নাসরীন সুলতানা মিলি, ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ লোকমান, শাহ আব্দুর রহমান, ইঞ্জিনিয়ার আলমগীর হোসেনসহ এবি পার্টির কেন্দ্রীয় ও মহানগরীর বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা।

নিউজ /এমএসএম

দয়া করে খবরটি শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

এই ক্যাটাগরিতে আরো যেসব খবর রয়েছে
All rights reserved © UKBDTV.COM
       
themesba-lates1749691102