

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে হবিগঞ্জ-১ আসনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন প্রাপ্তির পর জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদ থেকে পদত্যাগ করার জন্য দুপুরে স্থানীয় সরকার মন্ত্রীর কাছে পদত্যাগ পত্র জমা দিয়েছেন হবিগঞ্জ জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি ডাঃ মুশফিক হোসেন চৌধুরী। সোমবার ২৭ নভেম্বর সন্ধ্যায় তিনি সংবাদ মাধ্যমের কাছে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তিনি পদত্যাগ পত্র জমা দেওয়ার পর থেকে আলোচনা হচ্ছে কে হচ্ছেন পরবর্তী জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান। এ পদে চার জন প্রার্থীর নাম ব্যাপক আলোচনা হচ্ছে । বিশেষ একটি সুত্র জানায়, চলতি সপ্তাহের মধ্যে স্থানীয় সরকার মন্ত্রনালয় প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে নতুন জেলা পরিষদের প্রশাসক নিয়োগ করবেন।
ডাঃ মুশফিক জানান, ‘সংসদ নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন পাওয়ায় আজ দুপুর ১২ টার দিকে মন্ত্রণালয়ে গিয়ে জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান পদ থেকে পদত্যাগ পত্র জমা দিয়েছি। দলীয় সভাপতি ও বঙ্গবন্ধু কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আমার উপর আস্থা রেখে আমাকে হবিগঞ্জ-১ আসন থেকে মনোনয়ন দিয়েছেন। আমি আশা করি সকলের সহযোগীতা ও সাহায্যে এই আসনটি জননেত্রী শেখ হাসিনাকে উপহার দিতে পারবো।
হবিগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের এই প্রবীণ নেতা বলেন, জেলায় সরকারের উন্নয়ন কর্মকান্ড তরান্বিত করার পাশাপাশি দলকে আরও শক্তিশালী করার জন্য হবিগঞ্জ-১ আসনে সংসদ সদস্য হিসেবে আওয়ামী লীগের দলীয় প্রার্থী প্রয়োজন। আশা করছি প্রধানমন্ত্রী সার্বিক বিষয় বিবেচনায় নিয়ে আমাকে মনোনয়ন দিয়েছেন।
দলীয় সুত্রে জানা গেছে, হবিগঞ্জ-১ (নবীগঞ্জ-বাহুবল) আসনে আওয়ামীলীগের ৮ জন প্রার্থী মনোনয়ন চান। এর মধ্যে হেভিয়েট প্রার্থী বর্তমান সংসদ সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী ফরিদ গাজীর পুত্র গাজী মোঃ শাহ নওয়াজকে বাদ দিয়ে জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ডাঃ মুশফিক হোসেন চৌধুরীকে মনোনয়ন দেয়া হয়। এর আগে তিনি হবিগঞ্জ-১ আসনে একাধিকবার বিজয়ী হন আওয়ামী লীগের জনপ্রিয় নেতা বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ দেওয়ান ফরিদ গাজী (প্রয়াত)। তিনি ২০১২ সালে সংসদ সদস্য থাকাকালীন ইন্তেকাল করেন। ওই বছরই উপনির্বাচনে শেখ সুজাত মিয়ার কাছে ১২শ ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হন ডাঃ মুশফিক। এরপর তাকে মনোনয়ন না দিয়ে সাবেক সভাপতি ডা. মুশফিক হোসেন চৌধুরীকে জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও কেন্দ্রীয় কার্যকরী কমিটির সদস্য করা হয়।
তিনি পদত্যাগ পত্র জমা দেওয়ার পর থেকে আলোচনা হচ্ছে কে হচ্ছেন পরবর্তী জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান। এ পদ পুরণে ব্যাপক আলোচিত হচ্ছেন হবিগন্জ জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক এড. আলমগীর চৌধুরী কেন্দ্রীয় আওয়ামীলীগের সাবেক সদস্য প্রবীন আওয়ামীলীগ নেতা শহীদ উদ্দিন চৌধুরী, বর্তমান সংসদ সদস্য গাজী মোঃ শাহনওয়াজ মিলাদ ও সাবেক সংরক্ষিত মহিলা এমপি এড. আমাতুল কিবরিয়া কেয়া চৌধুরী।
এনিয়ে হবিগন্জ জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক এড. আলমগীর চৌধুরী বলেন, আমি বর্তমানে জেলা পরিষদ নিয়ে ভাবছি না। আমাকে নেত্রী যে দায়িত্ব দিবেন আমি সেটা মেনে নিবো।