

চাঁদে মানুষ পাঠানো নিয়ে আমেরিকা আর তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়নের মধ্যে মহাকাশ খেলা শুরু হয়। আর ১৯৬৯ সালের ২০ জুলাই অ্যাপলো-১১ চাঁদে ল্যান্ড করিয়ে এ খেলায় বিজয়ী হয় সোভিয়েত ইউনিয়ন। বর্তমানে রাশিয়া, যুক্তরাষ্ট্র, চীন ও ভারতের মধ্যে চলছে এ খেলা।
এসব দেখে বসে থাকতে পারেননি উত্তর কোরিয়ার সর্বোচ্চ নেতা কিম জং উন। হাত বাঁড়ালেন মহাকাশে। তারই অংশ হিসেবে মহাকাশে গোয়েন্দা স্যাটেলাইট পাঠিয়েছেন কিম। সফল স্যাটেলাইট পাঠানোর পর দেশটির বিজ্ঞানীদের ধন্যবাদও দিয়েছেন তিনি।
বিবিসি বলছে, গত মঙ্গলবার মহাকাশে গোয়েন্দা স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ করেছে উত্তর কোরিয়া। কিম জং উন বলেছেন, এই স্যাটেলাইট মহাকাশে ক্ষমতার নতুন যুগ। এই মিশন নিজস্ব প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার পূর্ণ প্রয়োগ। এটি বড় সফলতা।
দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা কেসিএনএ বলছে, এই সফল উৎক্ষেপণের পর গত বৃহস্পতিবার স্ত্রী রাই সোল জু ও মেয়ে কিম জু আইকে নিয়ে বিজ্ঞানীদের একটি অনুষ্ঠানে উপস্থিত হন কিম। এ সময় তিনি তাদের বিশেষ ধন্যবাদ জানান।
সামরিক শক্তি আরও আধুনিক করার জন্য ৫ বছরের একটি বিশেষ পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে উত্তর কোরিয়া। এর মধ্যে মহাকাশে গোয়েন্দা স্যাটেলাইট পাঠানো একটি। এর মাধ্যমে কোরিয়ান উপদ্বীপে আমেরিকা ও দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক উপস্থিতি নজরে রাখতে পারবেন কিম।
উত্তর কোরিয়ার গোয়েন্দা স্যাটেলাইট পাঠানোর পরপরই পিয়ংইয়ং জানায়, এরই মধ্যে তারা গুয়ামে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলোর বিভিন্ন ছবি পর্যালোচনা শুরু করেছে।
কিমের এই গোয়েন্দা স্যাটেলাইট পাঠানোর তীব্র নিন্দা জানিয়েছে জাতিসংঘ, আমেরিকা ও জাপান। আর দক্ষিণ কোরিয়া বলছে, এতে রাশিয়ার সহায়তা রয়েছে। গত সেপ্টেম্বরে রাশিয়া সফর করেছেন কিম। ওই সময় সামরিক বিভিন্ন চুক্তি নিয়ে আলোচনা হয়।
দক্ষিণ কোরিয়ার প্রধানমন্ত্রী হান ডাক-সু বলেছেন, উৎক্ষেপণটি দক্ষিণ কোরিয়ার নিরাপত্তার জন্য হুমকিস্বরূপ। গোয়েন্দা স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ সামরিক চুক্তির অধীনে প্রতিষ্ঠিত নো-ফ্লাই জোন লঙ্ঘন করে উত্তর কোরিয়া সীমান্তে নজরদারি ফ্লাইট পুনরায় চালু করবে।
নিউজ /এমএসএম