বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬, ০৯:২২ অপরাহ্ন

চিকিৎসা নিতে গিয়ে হয়রানি

নবীগঞ্জে ঔষধ কোম্পানীর প্রতিনিধিদের দৌরাত্বে অতিষ্ঠ রোগীরা

এম,এ আহমদ আজাদ, নবীগন্জ
  • খবর আপডেট সময় : শুক্রবার, ২৪ নভেম্বর, ২০২৩
  • ৩৭৬ এই পর্যন্ত দেখেছেন

নবীগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন হাসপাতালে রোগীদের ব্যবস্থাপত্র নিয়ে ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধিদের টানাহেঁচড়া ও ছবি তোলা, তাদের মধ্যে হুড়োস্থুল কারবারে ও  তাদের আচরণে চরম ভাবে অতীষ্ঠ রুগীরা।

এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ না নেওয়ায়, এটা যেন নিয়মে পরিণত হয়ে গেছে। অনেক সময় রোগীদের আত্বীয় স্বজন বা রোগীরা প্রতিবাদ করলে তাদেরকে সংশ্লিষ্ঠ ডাক্তারের প্রতিনিধি বা বেসরকারী হাসপাতালের মালিকদের কাছে অপদস্থ হতে হয়। অনেক দিন ধরেই বিভিন্ন মহলে অভিযোগ উঠেছে- উপঢৌকন নিয়ে রোগীর ব্যবস্থাপত্রে নিম্ন মানের ওষুধের নাম লিখেন চিকিৎসকরা। তবে এবার হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দেখা গেল ভিন্ন চিত্র।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়- হাসপাতালে চিকিৎসা সেবা নিতে আসা কয়েকজন লাইনে দাঁড়িয়ে আছেন। লাইনে দাড়ানো আব্দুস ছোবহান বলেন, লাইনে দাঁড়ানো অবস্থায় তাদের সমস্যার কথা শুনেন ওষুধ কোম্পানীর প্রতিনিধিরা। রোগীরা যখন চিকিৎসকের কক্ষে প্রবেশ করেন, তখন রোগীর সাথে ওষুধ কোম্পানীর প্রতিনিধিরাও প্রবেশ করেন। এ সময় তাদের কোম্পানীর (ওই রোগের) ওষুধটি লেখার জন্য চিকিৎসককে পরামর্শ দেন। এভাবেই দিনভর ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধিদের দখলে থাকে হাসপাতাল। এ প্রতিনিধি প্রায় ১ ঘন্টা হাসপাতাল প্রাঙ্গনে অবস্থানকালে অন্তত ৩০ জন ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধির অপতৎপরতা লক্ষ্য করা গেছে। ওষুধ কোম্পানি প্রতিনিধিদের দৌরাত্মে প্রতিনিয়ত নানা হয়রানি ও দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন রোগীরা।

নবীগঞ্জ হাসপাতালের  টিএইচও ডাঃ আব্দুস সামাদ বলেন, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রতি শনি ও মঙ্গলবার দুপুর ১ টা থেকে দুপুর ২ পর্যন্ত ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধিদের প্রবেশে অনুমতি রয়েছে। এর বাহিরে অন্যান্য দিন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা থাকলেও তা মানছেন না কেউ। রোগীরা বের হলেই ব্যবস্থাপত্র নিয়ে চলে টানাহেঁচড়া। এতে বিব্রতকর অবস্থায় পড়ছেন তারা।

প্রতিনিয়তই দেখা যায়, চিকিৎসকের কক্ষের সামনে ও ভেতরে ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধিদের ভিড় লেগেই আছে। রোগীরা বের হলেই রোগীদের ব্যবস্থাপত্র নিয়ে টানাহেঁচড়া করেন। ছবি তোলেন, দেখেন তাদের কোম্পানির ওষুধ লেখা হয়েছে কি না। আবার কেউ কেউ রোগীদেরকে অপেক্ষায় রেখেই তাদের ভিজিট সেরে নিচ্ছেন।

চিকিৎসা সেবা নিতে আসা রুবেনা বেগম, বিলকিছ আক্তারসহ কয়েকজন বলেন, এই হাসপাতালের চিকিৎসকদের দরবারে যেন সব রিপ্রেজেন্টেটিভদের মেলা। আমরা অসুস্থ শরীর নিয়ে চিকিৎসা নিতে আসলে অন্তত ২০/২৫ জন দৌড়ে এসে ধরেন। প্রেসক্রিপশন নিয়ে টানাটানি করেন। অনেকেই ছবি তোলেন। তাদের যন্ত্রনায় আরো অসুস্থ হয়ে পড়ি। চিকিৎসকরাই তাদেরকে সুযোগ দিচ্ছেন। অবাক করা বিষয় রিপ্রেজেন্টেটিভরা চিকিৎকদের শিখিয়ে দেন কোন ওষুধ লিখবে। এতেই বুঝা যায় কার স্বার্থে চিকিৎসক ! তাদের কারণে অনেক গোপনীয় কথা ডাক্তারের কাছে বলা যায় না।

রবিউল আহমেদ নামে এক রোগী আক্ষেপ করে বলেন, চিকিৎসক তুমি কার- রোগীর না ওষুধ কোম্পানির ? চিকিৎসকরা কি রোগীদের জন্য না কি তারা ওষুধ কোম্পানির জন্য? প্রশ্ন রয়েই গেল’। (চিকিৎসক তুমি কার ? এ প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে আমাদের অনুসন্ধান অব্যাহত রয়েছে।)

এ ব্যাপারে নবীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাক্তার আব্দুস সামাদ বলেন, সপ্তাহে দুদিন ভিজিটে আসতে পারবেন তারা সেটিও নির্ধারিত সময়ে। হাসপাতাল চলাকালীন তাদের ভেতরে প্রবেশের নিয়ম নেই। প্রতি শনি ও মঙ্গলবার দুপুর ১ টার পর ওষুধ কোম্পানীর লোক হাসাপতালে প্রবেশ করতে পারবে বলেও জানান ডাক্তার আব্দুস সামাদ।

এ ব্যাপারে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করার জন্য জেলা সিভিল সার্জন সহ সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ কামনা করেছেন সচেতন মহল সহ সেবা নিতে আসা লোকজন।

দয়া করে খবরটি শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

এই ক্যাটাগরিতে আরো যেসব খবর রয়েছে
All rights reserved © UKBDTV.COM
       
themesba-lates1749691102