পঞ্চগড় জেলার তেতুলিয়ায় প্রশাসনের হস্তক্ষেপে অনুমোদনহীন হস্তশিল্প বাণিজ্য মেলা বন্ধ করা হয়েছে। সোমবার (১৩ নভেম্বর) দুপুরে হিলিপ্যাড হস্তশিল্পপণ্য মেলা বন্ধ করা হয়েছে।
উল্লেখ্য গত মাসে বুধবার (৪ অক্টোবর) বিকালে তেতুলিয়া হিলিপ্যাড মাঠে ফিতা কেটে এ মেলার আনুষ্ঠানিকভাবে শুভ উদ্বোধন করা হয়। তেতুলিয়া উপজেলার সদর ইউনিয়নের সরকারী কলেজ হিলিপ্যাড সংলগ্ন মাঠে এ অনুমোদনহীন বাণিজ্য মেলার আয়োজন করা হয়।এ মেলাকে কেন্দ্র করে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে ধর্মপ্রাণ মুসল্লি ও সাধারণ মানুষের মাঝে।
জানা যায়, স্থানীয় কতিপয় যুবক ও কথিত সংগঠন তেতুলিয়া যুবসংঘ হস্তশিল্প পণ্য নামে প্রশাসনের অনুমোদন ছাড়াই মাসব্যাপী বাণিজ্য মেলার আয়োজন করে। এ তথ্য উপজেলা প্রশাসন জানার পর ঘটনা স্থলে গিয়ে মেলা ভেঙে দিয়েছেন।
এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ ফজলে রাব্বি বলেন, এ উপজেলায় স্কুলে শিক্ষার্থীদের বার্ষিক পরিক্ষার সময় অনুমতি ছাড়া মেলা বসানো হয়েছে জেনে ঘটনাস্থলে গিয়ে আমি মেলা ভেঙে দিয়েছি। আবার মেলা বসানোর চেষ্টা করলে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
সরেজমিন মেলা ঘুরে দেখা যায় মেলার ভেতর হস্ত শিল্পের পণ্য নেই। তাই হস্ত শিল্পের পণ্যের পরিবর্তে ঝলমলে প্যান্ডেলজুড়ে চলছে অশ্লীল নাচ-গান। এ যেন এক অন্য রকম নারীর অশ্লীল নাচ গানের আসর। এছাড়া পাশেই চলছে অবৈধ লটারি ও জমজমাট জুয়া। তেতুলিয়ায় উপজেলার সীমান্তবর্তী হস্তশিল্প মেলার চিত্র এটি।
বুধবার (৪ অক্টোবর ) সকাল থেকে শুরু হওয়া এই মেলা আয়োজক কমিটির প্রধান আয়ের উৎসই হচ্ছে নগ্ন নৃত্য প্রদর্শনী। শর্ত সাপেক্ষে মেলা চালানোর অনুমতি নিয়ে আয়োজন করা হয় মাসব্যাপী এ মেলা। এমনকি কোনো শর্তই মানছেন না কর্তৃপক্ষ। অনুমতিপত্রে মেলায় হস্তশিল্প পণ্য প্রদর্শনী ও নাচ-গান বন্ধ থাকার কথা থাকলেও চলছে পাল্লা দিয়ে চলছে অশ্লীল নৃত্য গান বাজনা। সার্কাস জাদু খেলা দেখানোর কথা বলে টিকিট বিক্রি করে ভেতরে চালানো হচ্ছে অশালীন নৃত্য। স্থানীয় প্রশাসনকে ম্যানেজ করে এলাকার চিহিৃত একটি সংঘবদ্ধ চক্র এসব কার্যক্রম চালিয়ে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার মিশন নিয়ে মাঠে নেমেছেন বলে অভিযোগ সাধারণের। এরই ধারাবাহিকতায় ওই চক্রটি টোল বা খাজনা আদায়ের নামে চাঁদাবাজির মহোৎসব চালাচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।