

এই তো সেদিনের কথা। বিশ্বকাপের চতুর্থ ম্যাচ। শ্রীলঙ্কার বোলারদের বেধড়ক পিটিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকা রান তুললো ৪২৮! সত্যিই ৪২৮। বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ। জবাবে শ্রীলঙ্কা করলো ৩২৬ রান। সব মিলিয়ে রান হলো ৭৫৪ যা সেদিন পর্যন্ত বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ রানের ম্যাচ ছিল।
এরপর অস্ট্রেলিয়া ও নিউ জিল্যান্ডের ৭৭১ রানের উৎসব ছাড়িয়ে যায় সবকিছু। দিল্লির অরুণ জেটলি স্টেডিয়ামে সেদিন চার-ছক্কার বন্যা যে উইকেটে হয়েছিল বাংলাদেশ-শ্রীলঙ্কা একই উইকেটে মহারণের অপেক্ষায়। সোমবার দুই দল মাঠে নামছে বিশ্বকাপে নিজেদের পরবর্তী লড়াইয়ে। সেমিফাইনাল থেকে ছিটকে যাওয়া দুই দলের সামনে এখন কেবল চ্যাম্পিয়নস ট্রফি নিশ্চিতের লড়াই। পয়েন্ট টেবিলের আটে থাকতে পারলেই মিলবে পাকিস্তানে ২০২৫ সালের চ্যাম্পিয়নস ট্রফি খেলার সুযোগ। সব হারিয়ে সেই লড়াইয়ের অপেক্ষায় দুই দল।
তবে দিল্লিতে ২২ গজে লড়াইয়ের আগে তাদের লড়তে হচ্ছে বায়ুদূষণের সঙ্গে। দিল্লির আবহাওয়া অনুকূলে নেই। শেষ দুদিন বায়ুদূষণে বিপর্যস্ত হয়েছে জনজীবন। দুই দলই একটি করে অনুশীলন সেশন বাতিল করে এ কারণে। তাই স্বাস্থ্য সুরক্ষার কথা চিন্তা করে বাড়তি সতর্ক দুই দল।
২০১৭ সালে শ্রীলঙ্কা দলের সহকারী কোচ ছিলেন নিক পোথাস। দিল্লির এই বায়ুদূষণে তখন অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন তিনি। সেই অভিজ্ঞতা শেয়ার করেছেন তিনি। ম্যাচের আগে দলের কোচ চন্ডিকা হাথুরুসিংহে বলেছেন, ‘হ্যাঁ, সে আমাদের সঙ্গে নিজের অভিজ্ঞতা নিয়ে কথা বলেছে। সত্যি বলতে, আমরা নিজেরাও কিছুটা উদ্বিগ্ন। এজন্য আমরা একটি অনুশীলন বাতিল করেছি। আমরা যতটা সম্ভব আউটডোরে কম সময় কাটাচ্ছি। আমাদের অনুশীলনও করতে হবে। লম্বা সময়ের কথা চিন্তা করে আমাদের সতর্ক থাকতে হচ্ছে।
ছেলেদের সার্বক্ষণিক নজরে রাখার কথা জানিয়ে হাথুরুসিংহে আরও বলেছেন, ‘আমাদের ডাক্তার ছেলেদের গভীর পর্যবেক্ষণে রেখেছেন। কিছু ছেলেদের অ্যাজমার সমস্যা রয়েছে তারা বাইরে আসেনি। ইনডোরে কাটিয়েছে। এমনকি অনুশীলনেও আমরা খুব সচেতন। যাদের ট্রেনিংয়ের প্রয়োজন তারা ট্রেনিং করে দ্রুত ড্রেসিংরুমে ফিরে যাচ্ছে। তারা বোলিং বা ব্যাটিং ছাড়া বাইরে সময় কাটাচ্ছে না। তাই, খেলার আগে আমাদের কাজের পরিধি কমানোর জন্য আমরা কিছু ব্যবস্থা নিয়েছি।
দিল্লির এই বায়ুদূষণ নিত্যনৈমত্তিক ঘটনা। ২০১৭ সালে দিল্লিতে বায়ুদূষণের মধ্যেই টেস্ট ম্যাচ খেলেছিলেন শ্রীলংকার ক্রিকেটাররা। ম্যাচ চলাকালীন পরতে হয়েছিল সার্জিক্যাল মাস্কও। ড্রেসিংরুমে ফিরে অনেক লংকান ক্রিকেটারই বমি করেছিলেন সেবার। ম্যাচ রেফারি ডেভিড বুনকে দেখাতে হয়েছিল ডাক্তারও। শ্বাসজনিত সমস্যায় ভুগেছিলেন অনেকেই। এর আগের বছর একই কারণে বাতিল করা হয়েছিল রঞ্জি ট্রফির দুটি ম্যাচও।
নভেম্বর-ডিসেম্বরে প্রায়ই এমন সমস্যা দেখা দেয়। এ সময়ে ম্যাচ আয়োজন করা সঠিক কিনা জানতে চাওয়া হলে হাথুরুসিংহে বলেছেন, ‘বায়ুদূষণ দুই দলেই প্রভাব রাখছে। এটা আদর্শ নয় মোটেও। কিন্তু আমাদের কিছু করার নেই। যে ধরণের কন্ডিশন আছে আমাদের সেভাবেই খেলতে হবে। আমি তাদের গুণমান এবং খেলার জন্য উপযুক্ত কিনা তা নিয়ে কথা বলার যোগ্য ব্যক্তি নই।
কন্ডিশন নিয়ে দুই দল সতর্কাবস্থানে থাকলেও দিল্লির উইকেট এবং আউটফিল্ড নিয়ে দারুণ উচ্ছ্বসিত হাথুরুসিংহে, ‘উইকেট এবং মাঠ দারুণ লাগছে। আমি মনে করি, বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত আমাদের খেলা সেরা উইকেটে খেলতে যাচ্ছি আমরা।
বেশ ভালো ম্যাচের অপেক্ষাতেও তিনি, ‘শ্রীলঙ্কা ও বাংলাদেশ সাম্প্রতিক সময়ে বেশ ভালো ম্যাচ কাটাচ্ছে। এই মুহূর্তে দুই দলের অবস্থানই এক। সত্যি বলতে আমরা দুই দলই টুর্নামেন্টটা শেষ করতে চাচ্ছি চ্যাম্পিয়নস ট্রফি নিশ্চিত করে। যে ভালোভাবে শেষ করতে পারবে তারা এগিয়ে যাবে।
নিউজ /এমএসএম