

সৌদি আরবের আল আহসা শহরের হুফুফ ইন্ডাস্ট্রিয়াল সিটি এলাকায় সোফা কারখানায় আগুন লেগে ৯ বাংলাদেশির মৃত্যুর ঘটনায় গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন দেশটিতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী।
গতকাল শুক্রবার দুর্ঘটনার খবর শোনার সঙ্গে সঙ্গে জাবেদ পাটোয়ারীর নির্দেশে কাউন্সেলর (শ্রম) মুহাম্মাদ রেজায়ে রাব্বী দূতাবাসের কর্মকর্তাদের নিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে যান। দূতাবাসের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল, হুফুফ কিং ফাহাদ হাসপাতাল মর্গ ও সিভিল ডিফেন্স কার্যালয় পরিদর্শন করেন এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করেন।
ওই কারখানার বাংলাদেশি কর্মী বিপ্লব হোসেন ও মো. জুয়েল হোসেন দূতাবাস প্রতিনিধিদের জানান, একজন ভারতীয় নাগরিকের পরিচালনাধীন সোফা কারখানায় ১৪ বাংলাদেশি কাজ করতেন। শুক্রবার জুমার নামাজ শেষে কারখানার উপরের আবাসনে কর্মীরা ঘুমিয়ে ছিলেন। হঠাৎ নিচ থেকে আগুন আগুন চিৎকার শুনে তারা দুজন দ্রুত সিঁড়ি দিয়ে বেরিয়ে আসেন। কিন্তু অন্য সহকর্মীরা কালো ধোঁয়ায় দম বন্ধ হয়ে মারা যান। তিন জন কর্মী ঘটনার সময় কারখানার বাইরে থাকায় আক্রান্ত হননি।
মারা যাওয়া ৯ বাংলাদেশি হলেন রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার বারইপাড়া গ্রামের জফির উদ্দিনের ছেলে মো. রুবেল হোসাইন, একই গ্রামের জমির উদ্দিনের ছেলে মোহাম্মদ সাজেদুল ইসলাম ও শাহাদাত হোসাইনের ছেলে আরিফ হোসাইন, নাটোরের নলডাঙ্গা উপজেলার জনার্ধন বাটী গ্রামের দবির উদ্দিনের ছেলে মোহাম্মদ উবায়দুল, নওগাঁর আত্রাই উপজেলার শাহগুলা গ্রামের আইজাক প্রামাণিকের ছেলে রমজান প্রামাণিক, নওগাঁর আত্রাই উপজেলার ভাঙ্গা জাঙ্গাল গ্রামের রহমান সরদারের ছেলে বারেক সরদার, মাদারীপুরের কালকিনি উপজেলার সস্তান ফাসিয়াটুলা গ্রামের ইউনুস ঢালীর ছেলে মো. জুবায়েত ঢালী, ঢাকা সাভারের নগরকুন্দা গ্রামের মৃত আলা উদ্দিনের ছেলে সাইফুল ইসলাম এবং রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার কাতিলা গ্রামের আনিসুর রহমানের ছেলে ফিরুজ আলী সরদার।
রাষ্ট্রদূত ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী এ দুর্ঘটনায় নিহতদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন। তিনি মরদেহ দ্রুত দেশে পাঠানো ও আহত সুচিকিৎসার ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য শ্রমকল্যাণ উইংকে নির্দেশ দেন।
নিউজ /এমএসএম