হবিগঞ্জের চুনারুঘাটে নিজ স্কুলের দুই ছাত্রীকে ধর্ষণের ঘটনায় অভিযুক্ত শিক্ষক কেএম ফজলুল হক কামাল (৪২) বুধবার (২৮ জুন) বিকালে আদালতে ধর্ষণের ঘটনায় দায় স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। পরে আদালতের বিচারক ওই শিক্ষককে কারাগারে প্রেরণের নির্দেশ দেন।
এর আগে মঙ্গলবার (২৭জুন) সন্ধ্যায় নিজ বিদ্যালয়ের দুই ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে একেএম ফজলুল হক কামালকে ছনখলা গ্রাম থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। ফজুল হক কামাল গাজীপুর ইউনিয়নের ছনখলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও একই গ্রামের মো. আমিন আলীর ছেলে। ভুক্তভোগী এক ছাত্রীর বাবার মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
মামলা ও পুলিশ সূত্রে জানাযায়, ছুটির দিন গত শুক্রবার (৬ জুন) নিজ স্কুলের একটি কক্ষে প্রাইভেট পড়াতেন প্রধান শিক্ষক কামাল। তার কাছে পড়তে আসা ১১ ও ১২ বছর বয়সী দুই ছাত্রী ৪/৫ দিন পূর্বে প্রতিদিনের মত স্কুল ছুটির পর বাড়ীতে আসে এবং বাড়িতে আসার পর তারা দুজন কান্নাকাটি করতে থাকে। এক পর্যায়ে তারা বলে আর ওই স্কুলে যাবে না, তাদেরকে মাদ্রাসায় ভর্তি করার কথা বলা হয়। তখন তাদের পিতা মাতা সহ পরিবারের লোকজন বিভিন্ন ভাবে বুঝিয়ে স্কুলে কি হয়েছে জানতে চান। জিজ্ঞাসাবাদের এক পর্যায়ে তারা কাঁদতে কাঁদতে জানায় যে, তাদের স্কুলের প্রধান শিক্ষক ফজলুল হক প্রকাশ কামাল গত ৬ জুন সকাল অনুমান ৯টায় স্কুলে কোচিং করতে গেলে চাচাত বড় বোন ভিকটিমকে তার অফিসে যেতে বলেন। তখন অন্যান্য ছাত্র ছাত্রীরা আসেনি। কথা মতো শিক্ষককের অফিসে গেলে অফিসের বাথরুমের ভিতর নিয়ে ছাত্রীকে ভয়ভীতি দেখিয়ে ইচ্ছার বিরুদ্ধে জোর পূর্বক ধর্ষণ করেন এবং ধর্ষণ করার পর ভয়ভীতি দেখিয়ে বলেন যে, এই ঘটনা কাউকে জানালে ওই ছাত্রীকে লাল কালি দিয়ে স্কুল হতে বের করে দিবেন এবং সে (ভিকটিম) আর কোনোদিন লেখাপড়া করতে পারবে না। একইভাবে চাচাতো ছোটবোন অপর ছাত্রীকে ৯ জুন শিক্ষকের অফিসে ডেকে নিয়ে অফিসের বাথরুমের ভেতর ইচ্ছার বিরুদ্ধে জোর পূর্বক ধর্ষণ করেন এবং উক্ত ঘটনার কথা কাউকে বললে তাঁকেও লাল কালি দিয়া স্কুল হতে বের করে দিবে বলে ভয় দেখানো হয়। তাই ওই দুই ছাত্রী ভয়ে কাউকে ঘটনার কথা বলেনি এবং তারা আর স্কুলে যাবে না বলে জানায়।
পরবর্তীতে গত মঙ্গলবার (২৭ জুন) ঘটনার বিস্তারিত দুই ছাত্রী তার পরিবারকে জানালে ঘটনা প্রকাশ পায়। ভুক্তভোগীরা পারস্পরিক আত্মীয়। এ ঘটনা এলাকায় প্রকাশ হলে অভিভাবকদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি। পরে ভুক্তভোগী এক ছাত্রীর বাবা প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগে থানায় মামলা দায়ের করেন।
বিষয়টি নিশ্চিত করে চুনারুঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তদন্ত গোলাম মোস্তফা জানান, জবানবন্দি শেষে বিকালে আদালতের মাধ্যমে ওই শিক্ষককে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।