বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬, ০৮:৩৭ পূর্বাহ্ন

আবারও বেড়েছে ডলারের দাম

অর্থনৈতিক প্রতিবেদক
  • খবর আপডেট সময় : বুধবার, ২৪ মে, ২০২৩
  • ১৭৯ এই পর্যন্ত দেখেছেন

দীর্ঘদিন থেকেই বাজারে ডলারের চরম সংকট চলছে। তাই চাহিদা মেটাতে কখনো বাংলাদেশ ব্যাংক আবার কখনো অন্য ব্যাংক থেকে ডলার কিনছে ব্যাংকগুলো। যাকে বলা হয় আন্তঃব্যাংক ডলার লেনদেন। চাহিদা বেশি থাকায় ঘন ঘন বাড়ছে বৈদেশিক এই মুদ্রার দাম। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার (২৩ মে) ১০৮ টাকা ৭৫ পয়সায় প্রতি ডলার লেনদেন হয়েছে, দেশের বাজারে যা এযাবতকালের সর্বোচ্চ মূল্য।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, একদিন আগেও প্রতি ডলারের মূল্য ছিল ১০৮ টাকা ৫০ পয়সা। একদিনের ব্যবধানে ২৫ পয়সা বেড়ে রেকর্ড তৈরি করেছে যুক্তরাষ্ট্রের এই মুদ্রা। এ মাসের ১ তারিখে প্রতি ডলারের মূল্য ছিল ১০৬ টাকা ৮০ পয়সা। ধরতে গেলে প্রতিদিনই অল্প অল্প করে বাড়ছে ডলারের মূল্য। হিসাব বলছে, এক বছরের ব্যবধানে বাংলাদেশি টাকার বিপরীতে ২৪.২৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে ডলারের দাম।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ডলারের বিপরীতে টাকার দাম কমার অন্যতম কারণ আমদানি বৃদ্ধি। এর বিপরীতে তেমন একটা গতি নেই রপ্তানি আয় এবং রেমিট্যান্সে। চলতি অর্থবছরের প্রথম ৯ মাসে ১২.৩৩ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে আমদানির দায় পরিশোধের পরিমাণ। কারণ এ বছরে পণ্য আমদানিতে একাধিক সীমাবদ্ধতা আরোপ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এতে আমদানি কমলেও রপ্তানি আয় ও রেমিট্যান্স দিয়ে আমদানির মূল্য পরিশোধ করা সম্ভব হচ্ছে না। থেকে যাচ্ছে বাণিজ্য ঘাটতি। তবে স্বস্তির বিষয় আমদানিতে রক্ষণশীল হওয়ার কারণে গেল বছরের তুলনায় বাণিজ্য ঘাটতি অনেকটাই কমে এসেছে। তথ্য মতে, মার্চ শেষে বাণিজ্য ঘাটতি কমেছে ৪১ দশমিক ৬ শতাংশ। জুলাই থেকে মার্চ পর্যন্ত দেশের বাণিজ্য ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ১৪.৬১ বিলিয়ন ডলার।

এদিকে গত এপ্রিলে ১৬৮ কোটি ডলার প্রবাসী আয় পাঠিয়েছেন বিশ্বের বিভিন্ন দেশে থাকা বাংলাদেশিরা। কিন্তু এই অংক আগের বছরের একই মাসের তুলনায় ১৬.২৭ শতাংশ কম। আবার এপ্রিলে রপ্তানি আয় কমেছে ১৬ শতাংশ।

একক পণ্য ও একক বাজার বা অঞ্চল নির্ভরতা অন্য দেশ থেকে পণ্য রপ্তানিতে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বর্তমানে মোট রপ্তানি আয়ের ৮৬ শতাংশই আসে তৈরি পোশাক থেকে। এরমধ্যে ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে রপ্তানি আয়ের ৭৮ শতাংশই আসছে। হঠাৎ কোনো কারণে একক পণ্যের চাহিদা কমে গিয়ে রপ্তানিতে বিপর্যয় দেখা দিতে পারে। আবার কোনো অঞ্চলে অর্থনৈতিক, বাণিজ্যিক বা কূটনৈতিক কারণে রপ্তানি বাধাগ্রস্ত হলে রপ্তানি আয়ে পতন ঠেকানো যাবে না। ফলে দ্রুত নতুন বাজার সন্ধান করে রপ্তানি আয় বাড়ানোর পদক্ষেপ নেওয়াও চ্যালেঞ্জিং হবে। এসব কারণে রপ্তানি আয়ের ক্ষেত্রে একক পণ্যের ও একক বাজারের ওপর নির্ভর করা এখন বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রতিবেদন বিশ্লেষণে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।

প্রতিবেদনে রপ্তানি আয়ে ঝুঁকি কমাতে একক পণ্যের ওপর নির্ভরতার পরিবর্তে নতুন নতুন পণ্য সংযোজনে গুরুত্বারোপ করা হয়। একই সঙ্গে একক বাজার বা অঞ্চলে রপ্তানি সীমাবদ্ধ না রেখে নতুন বাজার সন্ধানে গুরুত্ব দেওয়া হয় গবেষণা প্রতিবেদনে।

নিউজ /এমএসএম

দয়া করে খবরটি শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

এই ক্যাটাগরিতে আরো যেসব খবর রয়েছে
All rights reserved © UKBDTV.COM
       
themesba-lates1749691102