

খেলাপিঋণ বাড়ায় উচ্চ ঝুঁকিতে দেশের ব্যাংক খাত। মোট ঋণের প্রায় নয় শতাংশই খেলাপিদের দখলে। টাকার অংকে যা প্রায় ১ লাখ ২১ হাজার কোটি। যেখানে রাষ্ট্রায়ত্ব ব্যাংকের বিতরণ করা ঋণের প্রায় ২১ শতাংশই খেলাপি। পিছিয়ে নেই বেসরকারি ব্যাংকও। বিশ্লেষকরা বলছেন, ব্যাংকগুলোর সুশাসন এবং খেলাপিদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থাপনা না নেয়াতেই বাড়ছে নতুন খেলাপির সংখ্যা। মামুন আব্দুল্লাহ’র রিপোর্টে বিস্তারিত।
দেশের অর্থনীতির প্রাণপ্রবাহ বলা হয় ব্যাংক খাতকে। জনগণের কষ্টার্জিত অর্থ আমানত হিসেবে গ্রহণ এবং সে অর্থ ঋণ হিসেবে প্রদানের মাধ্যমে মুনাফা অর্জন করাই যার কাজ। আস্থা ও বিশ্বাসের মাধ্যমেই ব্যবসা পরিচালনা করে এসব প্রতিষ্ঠান। তবে সেই আস্থায় চিড় ধরিয়েছেন একশ্রেণির ঋণ খেলাপি।
জানা গেছে, দেশের ৫৭টি ব্যাংকে বর্তমানে মোট ঋণের পরিমাণ ১৪ লাখ ৭৭ হাজার ৭৭৮ কোটি টাকা। তবে খেলাপির পাকে জড়িয়ে যাচ্ছে এসব অর্থলগ্নীকারী প্রতিষ্ঠান। সবচেয়ে নাজুক অবস্থা সরকারি ব্যাংকের। রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ব্যাংকগুলোর বিতরণ করা মোট ঋণের ২০ দশমিক ২৮ শতাংশই খেলাপি, বিশেষায়িত ব্যাংকগুলোর খেলাপির পরিমাণ প্রায় ১৩ শতাংশ। শুধু অগ্রণী, জনতা, সোনালী, বেসিক ও ন্যাশনাল ব্যাংকেই মোট খেলাপি ঋণের ৪৬ শতাংশ। যার পরিমাণ প্রায় ৫৫ হাজার কোটি টাকা।
তুলনামূলক ভালো অবস্থানে বেসরকারি ব্যাংক, তাদের বিতরণ করা ঋণের ৫ দশমিক ১৩ শতাংশ খেলাপি। খেলাপি ঋণের বাইরে নয় বিদেশি ব্যাংকগুলোও, তাদের খেলাপি ঋণের হার ৪ দশমিক ৯১ শতাংশ।
অর্থনীতি বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ঋণ খেলাপিদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেয়া তো হয়ইনি, উল্টো নানাভাবে তাদের উৎসাহিত করার ফলেই বাড়ছে ঋণ খেলাপির সংস্কৃতি, তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজেন ফৌজদারি মামলার পরামর্শ অর্থনীতিবিদদের।
ঋণখেলাপিদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থার পাশাপাশি ভালো ঋণগ্রহীতাদের প্রণোদনাসহ বিশেষ সুবিধা দিলে ঋণ পরিশোধে আগ্রহ বাড়বে বলে মনে করেন অর্থনীতিবিদরা।
নিউজ /এমএসএম