বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬, ০৬:৫৩ পূর্বাহ্ন

ঘুষের টাকাসহ গ্রেপ্তার সেই উপকর কমিশনার সাসপেন্ড

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • খবর আপডেট সময় : রবিবার, ৯ এপ্রিল, ২০২৩
  • ২৩৬ এই পর্যন্ত দেখেছেন

রাজশাহীতে ‘ঘুষের’ ১০ লাখ টাকাসহ গ্রেপ্তার সেই উপকর কমিশনার মহিবুল ইসলাম ভূঁইয়াকে সাময়িক বরখাস্ত (সাসপেন্ড) করেছে অর্থ মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের কর-১ শাখার সিনিয়র সহকারী সচিব নুসরাত জাহান নিসু স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার (৬ এপ্রিল) এই প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।

এর আগে গত ৪ এপ্রিল দুপুরে অভিযান চালিয়ে রাজশাহী কর অঞ্চলের সার্কেল-১৩ (বৈতনিক) এর উপকর কমিশনার মুহিবুল ইসলাম ভূঁইয়াকে গ্রেপ্তার করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। দুদকের সমন্বিত রাজশাহী জেলা কার্যালয়ের উপপরিচালক

মো. মনিরুজ্জামান জানান, রাজশাহী মহানগরীর মাদারল্যান্ড ইনফার্টিলিটি সেন্টার ও হাসপাতালের মালিক ডা. ফাতেমা সিদ্দিকার পাঁচ বছরে ব্যাংকে লেনদেনের বিষয়ে কর কর্মকর্তা মুহিবুল ইসলাম ভূঁইয়া আপত্তি তোলেন। বিষয়টি নিষ্পত্তি করতে গেলে তিনি ডা. ফাতেমার কাছে ৬০ লাখ টাকা ঘুষ দাবি করেন। পরে তা ৫০ লাখ টাকায় রফা হয়। বিষয়টি জানিয়ে ফাতেমা সিদ্দিকা গত ২৯ মার্চ দুদকের প্রধান কার্যালয়ে একটি অভিযোগ দায়ের করেন। এই অভিযোগ নিয়ে দুদকের রাজশাহী জেলা ও বিভাগীয় কার্যালয়ে যৌথভাবে কাজ করছিল। তারা উপকর কমিশনার মহিবুল ইসলাম ভূঁইয়ার ওপর নজরদারি করছিলেন।

গত মঙ্গলবার ঘুষের প্রথম কিস্তির ১০ লাখ টাকা নিয়ে ডা. ফাতেমা সিদ্দিকা করভবনে গিয়ে উপকর কমিশনার মহিবুল ইসলাম ভূঁইয়ার দপ্তরে গিয়ে তার সঙ্গে দেখা করেন। কর কর্মকর্তা টাকা নিয়ে তার ড্রয়ারে রেখেছিলেন। এ সময় দুদকের পক্ষ থেকে ওই কার্যালয়ে অভিযান চালিয়ে ঘুষের ১০ লাখসহ মহিবুল ইসলাম ভূঁইয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়।

তবে ঘটনার দিন গ্রেপ্তার করে নিয়ে যাওয়ার সময় উপকর কমিশনার মহিবুল ইসলাম ভূঁইয়া সাংবাদিকদের বলেন, নগরীর মাদারল্যান্ড ইনফার্টিলিটি সেন্টার ও হাসপাতালের মালিক ডা. ফাতেমা সিদ্দিকার ব্যাংক বিবরণীতে ২৬ কোটি টাকার লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেছে, যা তার কর নথিতে উল্লেখ করেননি। এ বিষয় নিয়ে তিনি কাজ করছিলেন। ডা. ফাতেমা সিদ্দিকা ঘটনা ধামাচাপা দিতে পরিকল্পিতভাবে তার অফিস কক্ষে দুদক কর্মকর্তাদের সঙ্গে নিয়ে ঢুকে টেবিলের ওপরে টাকা রেখেছিলেন। ওই টাকা তিনি ছুঁয়েও দেখেননি।

দুদকের সমন্বিত রাজশাহী জেলা কার্যালয়ের উপপরিচালক মো. মনিরুজ্জামান জানান, উপকর কমিশনার মহিবুল ইসলাম ভূঁইয়া যে ডা. ফাতেমা সিদ্দিকার কাছে ঘুষ চেয়েছিলেন, তার প্রমাণ তাদের কাছে রয়েছে। গ্রেপ্তারের পর রাজশাহী মহানগর জজ আদালতে মহিবুল ইসলাম ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে দুদক মামলা করে। গত বুধবার সেই মামলার শুনানি শেষে বিচারক উপকর কমিশনারের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে জেলহাজতে পাঠান।

নিউজ /এমএসএম

দয়া করে খবরটি শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

এই ক্যাটাগরিতে আরো যেসব খবর রয়েছে
All rights reserved © UKBDTV.COM
       
themesba-lates1749691102