

চট্টগ্রাম একটি নান্দনিক শহর ছিল। সেই ছোটবেলার নান্দনিক চট্টগ্রাম শহর যখন হৃদয়ে আঁকি তখন আমার অন্তরটা হু হু করে ওঠে। দুঃখজনক হলেও সত্য, অনেক সরকারি প্রতিষ্ঠানও পাহাড় কাটার সঙ্গে জড়িত। আজকে আমি অনুষ্ঠানে আসার সময় বায়েজিদ লিংক রোড দিয়ে এসেছি। এ রোডটি পাহাড় কেটে করার জন্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষকে (সিডিএ) ১০ কোটি টাকা জরিমানা করেছিল পরিবেশ অধিদপ্তর চট্টগ্রাম। পাহাড় কেটে এভাবে রাস্তা না করলেও হতো। পাহাড় ড্রেসিং করে রাস্তাটি করা যেত।
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে শুক্রবার বিকেলে ফুল উৎসব উদ্বোধন করার সময় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন সীতাকুণ্ড উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. শাহাদাত হোসেন। হাজারও প্রজাতির ফুলের সমারোহ নিয়ে ফুল উৎসব অনুষ্ঠানে দর্শনার্থীদের ছিল উপচেপড়া ভিড়। এই ফুল উৎসব চলবে ৯ দিন।
জেলা প্রশাসক আবুল বাসার মো. ফখরুজ্জামানের সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন শিক্ষা উপমন্ত্রী ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী, চট্টগ্রাম-৪ আসনের সংসদ সদস্য দিদারুল আলম, চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার ড. মোহাম্মদ আমিনুর রহমান, চট্টগ্রাম জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান এটিএম পিয়ারুল ইসলাম, বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ চট্টগ্রাম ইউনিট কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা মোজাফফর আহমদ।
এ সময় জেলা প্রশাসককে ধন্যবাদ জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, সরকারি জায়গা উদ্ধার করে সমুদ্র তীর ঘেঁষে দৃষ্টিনন্দন ডিসি পার্ক করার জন্য জেলা প্রশাসককে ধন্যবাদ। প্রতি বছর এই পার্কে ৩ মাসের ফুল উৎসব করা হবে বলে জানান তিনি।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, এখনো পাহাড় কাটার মহোৎসব করছে কিছু ভূমিদস্যু ও মাটিদস্যু। পূর্বে পাহাড়ের চূড়ায় ছোট ছোট বাংলো দেখা যেত। এখন সেই বাংলো দেখা যায় না। পাহাড় কেটে কেটে ধ্বংস করা হয়েছে।
শিক্ষা উপমন্ত্রী মুহিবুল হাসান চৌধুরী বলেন, অবৈধ দখলে থাকা খাসজমি সরকার উদ্ধার করে ব্যবহারের জন্য উন্মুক্ত করেছে। এই ফুলের বাগানে সাধারণ জনগণ নির্মল বায়ু সেবন করবে। এটা আমাদের বিশাল পাওনা বলে দাবি করে তিনি আরও বলেন, খালি জায়গা থাকলে দোকান ও বাণিজ্যকরণ হয়ে যাচ্ছে। আর সেই দোষের শিকার হচ্ছি আমরা। ফুল দেখে শেখার অনেক কিছু রয়েছে। এই ফুল বাগান পুরো একটি শিক্ষা পার্ক হিসেবে রূপান্তর হবে। এই রকম পার্ক চট্টগ্রামে আরও হবে বলে জানান তিনি।
চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক আবুল বাশার মোহাম্মদ ফখরুজ্জামান বলেন, আমাদের ফুল উৎসব সব বয়সী ও শ্রেণি-পেশার মানুষের চিত্ত বিনোদনের উদ্দেশ্যে সাজানো হয়েছে। দেশি-বিদেশি হাজারও প্রজাতির কয়েক লাখ ফুলের গাছ এখানে শোভা পাবে।
তিনি বলেন, একদিকে সমুদ্র, অন্যদিকে মেরিন ড্রাইভ ঘিরে সরকারের এই ১৯৪ একর জায়গাকে নিয়ে মহাপরিকল্পনার আওতায় নিয়ে এসে দেশবাসীকে আমরা একটি নান্দনিক আকর্ষণীয় পর্যটন স্পট উপহার দিতে চাই। এই আয়োজন চট্টগ্রামের মানুষকে মেধা, মনন ও সংস্কৃতির বিকাশ ঘটাতে সহায়তা করবে বলে প্রত্যাশা চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসকের।
নিউজ /এমএসএম