

জানা যায়, সাবিহা সাইকি ফ্যাশন নামের প্রতিষ্ঠানটি ম্যানস টিশার্ট ও লেডিস ড্রেস রপ্তানির ঘোষণা দেয়। তবে সাতটি কনটেইনার খুলে দেখা যায়, প্রতিষ্ঠানটি ম্যানস্ ট্রাউজার, টিশার্ট, পোলো শার্ট ও বেবি সেট রপ্তানি করছিল। যার ওজন ১১৮ টন, ঘোষিত মূল্য ৩ কোটি টাকা।
নগরের কাঠগড় এলাকার এসইপিএল ডিপোর মাধ্যমে পণ্যচালানগুলো রপ্তানি হচ্ছিল। সেখানে অভিযান চালিয়ে ইতোমধ্যে সাতটি কনটেইনার আটক করেছে শুল্ক গোয়েন্দা। চালানগুলো মালয়েশিয়া, সুদান, ইউএই, ত্রিনিদাদ, টোবাগো নেয়ার কথা ছিল।

শুল্ক গোয়েন্দা সূত্র জানায়, রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানটি দলিল জালিয়াতি করে পণ্য রপ্তানি করছিল এমন খবর পেয়ে গত ৩১ জানুয়ারি সন্ধ্যা ৭টা থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত কাঠগড় এলাকার এসইপিএল ডিপোতে অভিযান চালানো হয়। রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানটির বিল অব এক্সপোর্টের ১৫টি বিল যাচাই করে দেখার জন্য অগ্রণী ব্যাংকে পাঠানো হয়।
অগ্রণী ব্যাংক জানায়, সাবিহা সাইকি ফ্যাশন নামে তাদের কোন গ্রাহক নেই। ব্যাংকটি জানায়, বিল অব এক্সপোর্ট অগ্রণী ব্যাংক প্রধান শাখার অন্য রপ্তানিকারকের নামে ইস্যু করা। অর্থাৎ প্রতিষ্ঠানটি ভুয়া এলসি ব্যবহার করে বিদেশে পণ্য রপ্তানি করছিল। প্রতিষ্ঠানটির মোট ৯৪টি চালান ছিল।
ইতোমধ্যে ৮৫টি চালান জালিয়াতি করে মালয়েশিয়া, সুদান, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ত্রিনিদাদ ও টোবাগোতে রপ্তানি করেছে। তাই বৈধ উপায়ে বৈদেশিক মুদ্রা আসার সুযোগ না থাকায় প্রতিষ্ঠানটি মানিলন্ডারিং করেছে। এ চালানের বিষয়ে সহযোগিতা চাইলে নগরের হালিশহর এলাকার সিএন্ডএফ এজেন্ট লিমাক্স শিপার্স লিমিটেড কোন সহযোগিতা করেনি।
কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. শাকিল খন্দকার জানান, এসব রপ্তানি চালানের বিষয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। এ ধরনের আরও কিছু রপ্তানিকারকের বিষয়ে গোপন সংবাদ থাকায় তদন্ত চলমান রয়েছে। সার্বিক অনিয়মের বিষয়টি তদন্ত করে প্রতিবেদন দেয়ার জন্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক কার্যালয়ের যুগ্ম পরিচালক মো. সাইফুর রহমানকে আহ্বায়ক করে ৮ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
নিউজ/এম.এস.এম