সুনামগঞ্জ জেলার ছাতকে রেলওয়ের সরকারি ভূমি উদ্ধারে অভিযানে অর্ধ শতাধিক অবৈধ স্থাপনা ভেঙ্গে দখলদারদের উচ্ছেদ করা হয়েছে।
রেলওয়ের ভূমিতে অবৈধভাবে গড়ে ওঠা দোকানকোটা ও বেশ কয়েকটি বসতঘর গুড়িয়ে দেয়া হয়। একই সাথে রেলওয়ের কর্মকর্তাদের বাসা দখল করে অবৈধ অবস্থানকারী আরো ২০/২৫ টি পরিবারকে বের করে দিয়ে প্রতিটি বাসায় তালা ঝুলিয়ে বাসাগুলো সিলগালা করে দেন অভিযানে অংশ নেয়া কর্মকর্তারা।
রেলওয়ের এসব কোয়াটার দীর্ঘদিন ধরে কর্তৃপক্ষের নিয়ন্ত্রনে ছিলনা বলে জানা গেছে।
গতকাল সকাল থেকে বিকেল ৩ টা পর্যন্ত এ উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হয়। ছাতকের সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ইসলাম উদ্দিনের নেতৃত্বে পরিচালতি উচ্ছেদ অভিযানে রেলওয়ের বিভাগীয় ভু-সম্পত্তি কর্মকর্তা ( ডি ই ও) শফি উল্লাহ, সহকারী বিভাগীয় ভু-সম্পত্তি কর্মকর্তা (এ ডি ই ও) আতিকুর রহমান, ছাতক থানার অফিসার ইনচার্জ মাহবুবুর রহমান, ইন্সপেক্টর (তদন্ত) আরিফ আহমদ, ছাতক রেলওয়ের সহকারী নির্বাহী প্রকৌশলী, জুবায়ের আহমদ সরকার, ঊর্ধ্বতন উপ-সহকারী প্রকৌশলী জুয়েল হোসেন, রেলওয়ের কানুনগো রুহুল আমিন, সার্ভেয়ার দ্বীপক মল্লিক, রেলওয়ে পুলিশের সি আই ( আর এন বি) এনায়েত উল্লা, ছাতক রেলওয়ের উর্ধ্বতন উপ-সহকারী প্রকৌশলী (বিদ্যুৎ) মাহবুবুর আলমসহ বিপুল সংখ্যক রেলওয়ে পুলিশ, থানা পুলিশ এবং রেলওয়ে বিভাগ, ভূমি অফিস ও বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীগন উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য সম্প্রতি ঘটে যাওয়া শতাব্দির ভয়াবহ বন্যায় ছাতক-সিলেট রেল লাইন মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্থ হয়। ছাতক-সিলেট ৩৭ কিলোমিটার রেল লাইনের মধ্যে ছাতক-গোবিন্দগঞ্জ প্রায় ১৩ কিলোমিটার রেল লাইন অস্থিত্বহীন হয়ে পড়েছে। দেশের প্রাচীনতম ছাতক-সিলেট রেল লাইন ভয়াবহ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থ হওয়ার বিষয়টি স্থানীয় সাংবাদিকদের মাধ্যমে বিভিন্ন স্থানীয় ও জাতীয় দৈনিক পত্রিকা ও অনলাইনে ফলাও করে ছাপা হয়।
রেল লাইন ক্ষতির বিষয়টি সরকারের নজরে আসলে ছাতক-সিলেট রেললাইন আধুনিকায়ন করনে এবং পরবর্তিতে সুনামগঞ্জ হয়ে মোহনগঞ্জ পযর্ন্ত বর্ধিত করার লক্ষে রেল কর্তৃপক্ষ ও এডিবি’র কর্মকর্তারা লাইন পরিদর্শন সহ ছাতকে এসে জনপ্রতিনিধি, সাংবাদিক, রাজনৈতিক, সামাজিক ও পেশাজীবী মানুষের সাথে কয়েক দফা বৈঠক করে।
ইতিমধ্যে ছাতক-সিলেট রেল লাইন আধুনিকায়নে ২২২ কোটি টাকার একটি প্রকল্প প্রনয়ন করা হয়েছে বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। ছাতক-সিলেট রেলপথ সংস্কার ও আধুনিকায়নের লক্ষেই এ উচ্ছেদ অভিযান পরিচালিত হয়েছে বলে জানিয়েছেন অভিযানে উপস্থিত রেলওয়ের কর্মকর্তাগন।