

ফল খেতে কার না ভালো লাগে। গর্ভবতী মায়েরাও জানেন ফলে প্রচুর ভিটামিন, খনিজ, এন্টিঅক্সিডেন্ট এবং কোষ্ঠকাঠিন্য নিবারনের জন্য আঁশ থাকে। মা ও গর্ভস্থ শিশুর জন্য এগুলো অতীব প্রয়োজন। আর তাইতো চেকআপে আসা মায়েরা জিজ্ঞেস করেন কি কি ফল খেতে পারবেন, বিশেষ করে পেঁপে , আনারস বা আঙ্গুর খাওয়া যাবে কি না তা প্রায়শই জিজ্ঞেস করে থাকেন।
মেডিকেল সায়েন্স পড়ার সময় কোথাও লেখা পাইনি যে অমুক ফল খাওয়া যাবে না। আপনি গর্ভবতী হোন বা না হোন, আপনি সব ধরনের ফল খেতে পারবেন। তবে খাওয়ার আগে সাবান বা ডিটারজেন্ট দিয়ে ভালোভাবে ধুয়ে নিতে হবে।
গবেষকদের মতে কাঁচা পেঁপেতে প্রচুর লেটেক্স জাতীয় পদার্থ এবং পেপেইন নামক এনজাইম থাকে। এগুলো গর্ভবতী মায়েরা খেলে গর্ভপাত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। তাই কাঁচা পেঁপে, কাঁচা পেঁপের তরকারী বা আধা পাকা পেঁপে খেতে মায়েদেরকে নিষেধ করা হয়। তবে সম্পূর্ণ হলুদ রঙের পাকা পেঁপে খেতে মানা নেই। পুষ্টির জন্য সপ্তাহে অন্তত ৩ দিন ১০০ গ্রাম বা এক কাপ করে পাকা পেঁপে খাওয়া শরীরের জন্য খুবই উপকারী। তবে কখনোই আধা পাকা পেঁপে খাবেন না।
আনারস খেতে কার না লোভ হয়। দেখলেই জিহ্বায় জল চলে আসে। আমরা চাই গর্ভবতী মায়েরা খাওয়া থেকে বঞ্চিত না হোক। আনারসে ব্রমোলেইন নামক এক প্রকার এনজাইম থাকে যা প্রচুর পরিমানে শরীরে গেলে গর্ভপাত ঘটাতে পারে। মধ্যম সাইজের ৭ টি আনারস একবারে একজন মা যদি খান তখনই কেবল গর্ভপাত ঘটার সম্ভাবনা থাকতে পারে। এরকম পেটুক আমাদের মায়েরা নন। সুতরাং প্রতিদিন ২/৩ পিস আনারস অনায়াসেই খেতে পারেন।
আঙ্গুর মায়েদের পছন্দের ফল। আঙ্গুর গাছে থাকতেই প্রচুর কীটনাশক প্রয়োগ করা হয়। এই কীটনাশক খোসার মধ্যে থাকে যা ধুয়েও মুক্ত করা যায় না। তাই আঙ্গুর ডিটারজেন্ট দিয়ে ধুয়ে এবং খোসা ছাড়িয়ে খেতে পারেন।
কলা, পেয়ারা, বরই, কলা, আম, জাম, আপেল, কমলা, ডালিম, লিচু, কাঁঠাল এরকম ফল সহজে পাওয়া যায় এবং খেতে কোন মানা নেই। তবে অবশ্যই ডিটারজেন্ট দিয়ে ধুয়ে এবং খোসা ছাড়িয়ে খাবেন। আপনার ও আপনার শিশুর জন্য খাদ্য তালিকায় ফল রাখুন এবং সুস্থ থাকুন।
লেখক: গাইনী বিশেষজ্ঞ , AICOG Conference. বিশ্ব বাংলা মেলা প্রাঙন, কোলকাতা থেকে ।
নিউজ /এমএসএম