বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬, ০৩:৫৭ পূর্বাহ্ন

প্রবীন সাংবাদিক আহসান উল্লাহ’র যাপিত জীবন

আবদুল মান্নান
  • খবর আপডেট সময় : মঙ্গলবার, ২০ ডিসেম্বর, ২০২২
  • ২৯১ এই পর্যন্ত দেখেছেন

গত ১৫ আগস্ট যার সাংবাদিকতার ৬০ বছর পূর্তি হয়েছে। সাংবাদিকতার ইতিহাসে এমন দীর্ঘ পেশাগত জীবন এক বিরল ঘটনা। এ হচ্ছে সাংবাদিকতা জীবনকে ভালোবাসারই নমুনা। একটি বারের জন্যও তিনি পেশাগত জীবন থেকে ছিটকে পড়েননি। খেয়ে- না খেয়ে, বেতন পেয়ে না পেয়ে তিনি সাংবাদিকতা থেকে কখনো নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েননি। হেঙলা- পাতলা, উজ্জ্বল- ফর্সা গড়নের এই ভদ্রলোক সবসময়ই পেশার প্রতি থেকেছেন একাগ্র ও ন্যায়নিষ্ঠ। তিনি সাদা দিলের মানুষ।

তার প্রধান গুন হচ্ছে তিনি সৎ ও সত্যবাদী মানুষ। অকপটে সবকিছু বলে ফেলেন । বর্তমানে দৈনিক জনতার সম্পাদক। নিয়মিত বেতন না হওয়ায় তিনি এবং তার সহকর্মীরা অনেক কষ্টে আছেন বলে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে। তিনি সাংবাদিকদের কাছে আহসান উল্লাহ ভাই নামেই সুপরিচিত। অনেক সাংবাদিকের উত্থান-পতনের সাক্ষী তিনি। অনেকের বদলে যাওয়া দিন, উত্থানের সময় তিনি প্রত্যক্ষ করেছেন। কেবল নিজের ভাগ্য বদলাতে পারেননি।

আহসান উল্লাহ ভাই ১৯৬২ সালে ২৫০ টাকা বেতনে দৈনিক ইত্তেফাকে সাব এডিটর হিসেবে সাংবাদিকতা শুরু করেন। ১৯৬৮ সালে হইত্তফাক পুনরায় প্রকাশিত হলে পাকিস্তান অবজারভার থেকে তিনি আবার ইত্তফাকে যোগ দেন। ১৯৬৬ সালে তৎকালিন আয়ুব খান সরকার ইত্তফাক বন্ধ করে দিয়েছিল। ১৯৭২ সালে বাংলার বাণী দৈনিক হলে তিনি সেখানে যোগ দেন। এরপর অনেক চড়াই-উৎরাই পেরিয়ে ১৯৭৫ সালে বাংলার বাণী থেকে তিনি সম্পাদক হিসেবে ভারত বিচিত্রায় যোগ দেন।

১৯৮৫ সালে ভারত বিচিত্রা ছেড়ে তিনি দৈনিক জনতায় যোগ দেন। ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত জনতায় ছিলেন। এ সময় তিনি বাসস, আবাস লাবণী, কনকসহ বিভন্ন পত্রিকায় চাকরি করেন। ২০০৩ সালে বার্তা সম্পাদক হয়ে তিনি জনতায় ফিরে আসেন। ২০১২ সালে আহসান উল্লাহ দৈনিক জনতার সম্পাদক হন ২০২০ সালে তিনি কাব্যচচর্চা শুরু করেন। জাতীয় প্রেসক্লাব থেকে প্রকাশিত কবিতাপত্রে তিনি নিয়মিত কবিতা লিখছেন। তার একটি অনুবাদ গ্রন্থ রয়েছে।

ইউক্রেনের লেখক এন কারাজিনের লেখা ‘The cranes flying south’ বাংলায় অনুবাদ করেছেন। যা বাংলায় দাঁড়ায় ‘বলকারা উড়ে যায়’। এছাড়া তিনি পত্রিকায় প্রবন্ধও লিখে থাকেন। এই ত্যাগী সাংবাদিক ও কবি ১৯৪২ সালের ৫ জানুয়ারি যশোরের শালিখা থানার শরুশুনা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। দৈনিক ইত্তেফাকের শহীদ সাংবাদিক সিরাজুদ্দীন হোসেন তার মামা। মামা বাড়িতেই তিনি মানুষ হয়েছেন।

কবি আল মাহমুদ তার ঘনিষ্ট বন্ধু ছিলেন। কয়েক বছর আগে তার স্ত্রী বিয়োগ ঘটে। দুই ছেলে ও এক মেয়ের জনক। এক ছেলে স্বাস্থ্য প্রতিবন্ধী। আরেক ছেলে একটি সংস্থায় চাকরি করছেন। সবমিলে নানা সমস্যা তিনি মোকাবিলা করেই চলছেন। এমন নিবেদিতপ্রাণ সাংবাদিকের জন্য আমরা গর্বিত। এই ত্যাগী সাংবাদিক ও কবির প্রতি অশেষ সালাম, শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা।

লেখক: বিশিষ্ট কবি, সাহিত্যিক

দয়া করে খবরটি শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

এই ক্যাটাগরিতে আরো যেসব খবর রয়েছে
All rights reserved © UKBDTV.COM
       
themesba-lates1749691102