শুক্রবার, ১৪ অগাস্ট ২০২৬, ০২:২৫ পূর্বাহ্ন

ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে সেমিনারে পররাষ্ট্রমন্ত্রী

অভ্যন্তরীণ বিষয়ে বিদেশি কূটনীতিকদের হস্তক্ষেপ না করার আহ্বান সরকারের

কূটনৈতিক প্রতিবেদক
  • খবর আপডেট সময় : সোমবার, ১২ ডিসেম্বর, ২০২২
  • ১৯৭ এই পর্যন্ত দেখেছেন

ঢাকায় নিযুক্ত বিদেশি কূটনীতিকদের বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করার আহ্বান জানিয়েছে সরকার। বাংলাদেশ সরকার বিদেশি অতিথিদের সঙ্গে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখার বিষয়ে আন্তরিক, এ কথা উল্লেখ করে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে স্পষ্ট করে জানানো হয়েছে, সরকারের ক্ষমতার উৎস এ দেশের জনগণ। তারাই তাদের প্রতিনিধি নির্বাচন করবে। কোনো বিদেশি শক্তি বা অভ্যন্তরীণ ষড়যন্ত্র সাংবিধানিক প্রক্রিয়ায় আগামী জাতীয় নির্বাচনকে বাধাগ্রস্ত করতে পারবে না।

রোববার (১১ ডিসেম্বর) রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে অনুষ্ঠিত ‘মানবাধিকার রক্ষা ও প্রসার: বাংলাদেশের দৃষ্টিভঙ্গি’ শীর্ষক সেমিনারে বক্তারা এ আহ্বান জানান। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার দিবস উপলক্ষে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে এ সেমিনারের আয়োজন করা হয়।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সেমিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন আইন, বিচার ও সংসদবিষয়কমন্ত্রী আনিসুল হক। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম। বক্তব্য রাখেন—জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান ড. কামাল উদ্দিন আহমেদ, বিলিয়ার পরিচালক অধ্যাপক ড. মিজানুর রহমান, রাষ্ট্রদূত আব্দুল হান্নান, বাংলাদেশ নারী প্রগতি সংঘের নির্বাহী পরিচালক রোকেয়া কবিরসহ অনেকে।

নির্বাচন নিয়ে বিদেশি হস্তক্ষেপ ও দেশীয় ষড়যন্ত্রকে সরকার সফল হতে দেবে না, উল্লেখ করে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, দেশের সাংবিধানিক প্রক্রিয়াকে বিদেশি প্রভাব বা অভ্যন্তরীণ ষড়যন্ত্র কোনো কিছুই বাধাগ্রস্ত করতে পারবে না। জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশন বাংলাদেশের গুমের ভুল তথ্য উপস্থাপন করায় তাদের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।

ড. মোমেন বলেন, আগামী জাতীয় নির্বাচনে বিদেশি হস্তক্ষেপ ও অভ্যন্তরীণ ষড়যন্ত্র করতে দেওয়া হবে না। সরকার ভোটের অধিকার রক্ষায় প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। আওয়ামী লীগ সুষ্ঠু নির্বাচনে বিশ্বাসী। আমরা ভোটের অধিকার রক্ষায়ও প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। বাংলাদেশে মানুষ স্বাধীনভাবে ভোট দিচ্ছে। বাংলাদেশে স্বাধীন নির্বাচন কমিশন আছে। নির্বাচন কমিশনের সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা আছে।

বাংলাদেশ মানবাধিকারের চর্চা করে আসছে, দাবি করে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মানবাধিকার রক্ষা ও প্রসার ঘটানো আমাদের সাংবিধানিক দায়িত্ব। সবার সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে আমরা এটি করছি এবং করতে থাকব। আমরা মানবাধিকার চর্চা করে আসছি। অথচ, অন্যরা আমাদের এখন শেখাতে আসে। বর্তমান সরকার মানবাধিকার, ন্যায়বিচার ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা রক্ষায় প্রতিজ্ঞাবদ্ধ।

এ সময় মন্ত্রী মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মানবাধিকার পরিস্থিতি গণতন্ত্র ব্যবস্থার সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, কেউই সঠিক নয়। সব ক্ষেত্রে বাংলাদেশও সঠিক নয়। কিছু দুর্বলতা বাংলাদেশেরও আছে। তাই, সরকার সেসব ক্ষেত্র নিয়ে কাজ করছে।

বর্তমান সরকার জনগণের সরকার, এ মন্তব্য করে আইনমন্ত্রী বলেন, গণতন্ত্রের চর্চায় অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমেই মানবাধিকার নিশ্চিত হয়। জনগণ ভোটেই ঠিক করবে, বর্তমান সরকার মানবাধিকার রক্ষা করতে পেরেছে কি না।

তিনি আরও বলেন, ঐতিহাসিকভাবে বাংলাদেশিরা মানবাধিকারকে সম্মান করে। এর বড় উদাহরণ হচ্ছে—রোহিঙ্গাদের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আশ্রয় দিয়েছেন। জনগণের ইচ্ছার প্রতিফলনের মধ্য দিয়ে মানবাধিকার রক্ষায় বর্তমান সরকার অঙ্গিকারবদ্ধ।

অনুষ্ঠানে ঢাকার বিদেশি মিশনগুলোতে দায়িত্বরত দূতদের কূটনৈতিক শিষ্টাচার লঙ্ঘন না করার পাশাপাশি বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো. শাহরিয়ার আলম।

গত ৬ ডিসেম্বর ঢাকার ১৫টি কূটনৈতিক মিশনের দেওয়া যৌথ বিবৃতি সরকারের নজরে এসেছে, উল্লেখ করে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বিদেশি কূটনীতিকদের শিষ্টাচার লঙ্ঘন না করার পাশাপাশি বাংলাদেশের আভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, সম্প্রতি ঢাকার ১৫টি কূটনৈতিক মিশনের যৌথ বিবৃতি আমাদের নজরে এসেছে। এ প্রসঙ্গে আমি কয়েকটি কথা বলতে চাই। আমি আগেও বলেছি, বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় মর্যাদা ও নীতির মূলে রয়েছে গণতান্ত্রিক নীতি ও মূল্যবোধ। স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যে সংগ্রাম করেছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ক্ষমতায় এসে সে যাত্রা অব্যাহত রেখেছে।

শাহরিয়ার আলম বলেন, গণতন্ত্র ও সাংবিধানিক পথ থেকে জাতি যাতে লাইনচ্যুত না হতে হয়, সেজন্য বাইরের কোনো চাপের কাছে মাথানত করবেন না শেখ হাসিনা। আমি আজ পরিষ্কার করে বলতে চাই, বঙ্গবন্ধুর সৈনিকরা এ মাটিতে গণতন্ত্র ও মৌলিক স্বাধীনতা রক্ষার লড়াইয়ে কখনো হাল ছাড়বে না।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় মর্যাদা ও নীতির মূলে রয়েছে গণতান্ত্রিক নীতি ও মূল্যবোধ। স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যে সংগ্রাম করেছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকারের দায়িত্বে এসে সেই যাত্রা অব্যাহত রেখেছেন। এই গণতন্ত্র ও সাংবিধানিক পথ থেকে জাতিকে লাইনচ্যুত যাতে না হয় সেজন্য সচেষ্ট সরকার। এ ব্যাপারে বাইরের কোনো চাপের কাছে সরকার মাথা নত করবে না।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ সাংবিধানিকভাবেই মানবাধিকার ও মৌলিক অধিকারের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। বর্তমান সরকারের কাছে মানবাধিকার সর্বোচ্চ অগ্রাধিকারে আছে। দারিদ্র্য হ্রাস, শিশুশ্রম নির্মূল, সামাজিক নিরাপত্তার ক্ষেত্রে সরকার সচেষ্ট।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী জানান, জাতিসংঘ বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ৭৬টি গুম নিয়ে অভিযোগ করেছে। এর মধ্যে ১০ জনের খোঁজ পাওয়া গেছে। একটি অভিযোগ ২৮ বছরের পুরোনো, যখন আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় ছিল না।

উল্লেখ্য, মানবাধিকার দিবসকে ঘিরে বিদেশি কূটনীতিকদের দৌড়ঝাঁপ, বক্তব্য ও উত্তপ্ত রাজনৈতিক পরিস্থিতির মধ্যেই এই সেমিনার অনুষ্ঠিত হলো। যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত পিটার হাস, ব্রিটিশ হাইকমিশনার রবার্ট ডিকসন, ইউরোপীয় ইউনিয়নের ডেলিগেশন প্রধান রাষ্ট্রদূত চার্লস হোয়াইটলিসহ একাধিক দেশের মিশন প্রধান ও প্রতিনিধিরা সেমিনারে উপস্থিত ছিলেন।

নিউজ /এমএসএম

দয়া করে খবরটি শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

এই ক্যাটাগরিতে আরো যেসব খবর রয়েছে
All rights reserved © UKBDTV.COM
       
themesba-lates1749691102