

সভ্যতার বিকাশে মানুষের সঞ্চরণ এবং কর্মক্ষেত্রের সৃজন সীমানার বাঁধা পেরুতে যুগিয়েছে প্রেরণা। আজ সীমানা থাকলেও সীমান্ত যেন মিলেছে দিগন্তে; বিশেষ করে অভিবাসনে। পৃথিবীর প্রায় ১৭০টি দেশে কান পাতলে শোনা যায় বাংলা শব্দ এবং বাঙালি ভাইবোনদের মধুর কন্ঠস্বর। শোনা যায় কর্মবীরের আওয়াজ।
প্রতিবছর বাংলাদেশের শ্রমবাজারে নতুন করে যুক্ত হচ্ছে প্রায় ২০ লক্ষ কর্মী। তার প্রায় এক তৃতীয়াংশ কর্মসংস্থানের সুযোগ পাচ্ছে বিদেশের শ্রমবাজারে। মানুষের উন্নত জীবন, সমৃদ্ধি আর সামনে চলার চিরন্তন অভিপ্রায়ে কর্মসংস্থান ও অভিবাসন প্রসঙ্গে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের উক্তি “এ স্বাধীনতা আমার পূর্ণ হবে না যদি এদেশের মানুষ যারা আমার যুবক শ্রেণি আছে তারা চাকরি না পায় বা কাজ না পায়” একান্তভাবে প্রাসঙ্গিক। বঙ্গবন্ধুর সেই উক্তির পথ ধরে অভিবাসী কর্মীর অবদানে বাড়ছে আমার দেশে রেমিটেন্স এবং খরস্রোতা হচ্ছে বাংলাদেশের অর্থনীতি ও উন্নয়ন। আমাদের কর্মীদের শ্রম-ঘামে গন্তব্য দেশের অর্থনীতিও হচ্ছে উন্নত। উন্নয়নের পাশাপাশি অভিবাসন বৈশ্বিক সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্যের সেতুবন্ধন হিসেবেও কাজ করছে।
নতুন নতুন দেশ বিশেষ করে পূর্ব ইউরোপ ও ল্যাটিন আমেরিকার দেশগুলোতে এখন কর্মীর চাহিদা বাড়ছে। কোভিড-১৯ এর প্রভাবে থমকে গিয়েছিল পৃথিবী। কিন্তু পরিস্থিতি উন্নতির সাথে সাথে আবার চাঙ্গা হতে শুরু করেছে শ্রমবাজার। দক্ষ কর্মীর চাহিদা বাড়ছে। তাই আমাদের প্রয়োজন জনশক্তি ও ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ডকে কাজে লাগিয়ে উচ্চতর দক্ষতা অর্জন। একই সঙ্গে নিশ্চিত করা প্রয়োজন মর্যাদা। মর্যাদা প্রসঙ্গে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আলোকময় উক্তি “বাঙালি জাতি এখন বিশে^ মাথা উঁচু করে চলছে, আগামীতেও মাথা উঁচু করে চলবে, সেটাই হবে আমাদের আজকের দিনের প্রতিজ্ঞা” প্রণিধানযোগ্য। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কালজয়ী উক্তিকে সত্যে পরিণত করতে দৃঢ়তর অনুভব- বঙ্গবন্ধুর দেশের মাটি আমাদের অঙ্গে, আমরা হারতে পারি না।
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বলিষ্ঠ কূটনৈতিক নেতৃত্বে বাংলাদেশের অভিবাসন প্রক্রিয়ার শুভযাত্রা। অভিবাসী কর্মীগণ বছরে গড়ে প্রায় ১৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলার রেমিটেন্স প্রেরণ করছে। এটি দেশের মোট জাতীয় উৎপাদনের (জিডিপি) প্রায় ৭ ভাগ, সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগের ১১ গুণ এবং বৈদেশিক সহায়তার প্রায় ৮ গুণ। উল্লেখ্য যে সর্বশেষ ২০২০-২১ অর্থবছরে রেমিটেন্সের পরিমাণ ২৪.৭৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে উন্নীত হয়েছে।
অভিবাসন ব্যবস্থাপনায় গতিময়তা
প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় বাংলাদেশের ৮ম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা এবং ২০৩০ সালের মধ্যে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার আলোকে সুষ্ঠু, নিরাপদ, নিয়মিত ও দায়িত্বশীল শ্রম অভিবাসন নিশ্চিত করার মিশন নিয়ে নিরলস কাজ করছে। মন্ত্রণালয়ের মিশন বাস্তবায়ন করছে- জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো (বিএমইটি), ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ড, বাংলাদেশ ওভারসীজ এমপ্লয়মেন্ট এন্ড সার্ভিসেস লিঃ (বোয়েসেল) এবং প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক। এর পাশাপাশি আছে ২৬ টি গুরুত্বপূর্ণ গন্তব্য দেশে বাংলাদেশ মিশনের ২৯ টি শ্রম কল্যাণ উইং।
জননেত্রী শেখ হাসিনার বলিষ্ঠ নেতৃত্বে সরকারের অভিবাসন ব্যবস্থাপনায় ইতিবাচক পদক্ষেপের ফলে গত এক দশকে বৈদেশিক কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে সাধিত হয়েছে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি। ২০০৯ থেকে অদ্যাবধি প্রায় ৭৩.১৫ লক্ষ কর্মী বিদেশে গমন করেছেন এবং বিভিন্ন পেশায় সুনামের সাথে কর্মরত আছেন। ২০০৯ সালের শুরুতে যেখানে ৯৭ টি দেশে বাংলাদেশের শ্রমবাজার ছিল বর্তমানে তা প্রায় ১৭০ টি দেশে সম্প্রসারিত হয়েছে।
অভিবাসন ব্যবস্থায় সুশাসন প্রতিষ্ঠা, দক্ষতা উন্নয়ন, বৈদেশিক শ্রমবাজার সম্প্রসারণ এবং অভিবাসী কর্মীদের সার্বিক কল্যাণে প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং তার আওতাধীন প্রতিষ্ঠানসমূহ যে সকল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে তার কয়েকটি নিম্নরূপ:
# সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার ২০১৮ অনুযায়ী প্রতি উপজেলা হতে গড়ে এক হাজার জন যুব/যুব মহিলাকে বিদেশে কর্মসংস্থানের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের নিমিত্ত ৪০টি উপজেলায় কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপনের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। ২য় পর্যায়ে আরো ১০০টি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এ প্রক্রিয়ায় সরকারের ৮ম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় ঘোষিত আগামী ৫ বছরে ৩১ লক্ষ লোকের বৈদেশিক কর্মসংস্থানের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সম্ভব হবে।
# অভিবাসনে সুশাসন আনতে ব্যয় হ্রাস এবং দালাল মুক্ত করতে বিদেশ গমনেচ্ছু কর্মীদের রেজিস্ট্রেশন, বাছাই ও নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অটোমেশন এবং সেবা সহজীকরণের উদ্যোগ হিসেবে মোবাইল অ্যাপ চালু করা হয়েছে। ‘আমি প্রবাসী’ অ্যাপ ব্যবহার করে বিগত ৪ মাসে প্রায় ৮ লক্ষ কর্মী রেজিস্ট্রেশন স¤পন্ন করেছে। এর ফলে টিসিভি (টাইম, কস্ট, ভিজিট) কমেছে এবং স্বাস্থ্য ঝুঁকি হ্রাস পেয়েছে। রেজিস্ট্রেশন বাবদ সরকারের নন-ট্যাক্স রেভিনিউ খাতে এ বছর ইতোমধ্যে প্রায় ২৫.১৮ কোটি টাকা সরকারি কোষাগারে জমা প্রদান করা হয়েছে ।
# নিরাপদ ও সম্মানজনক বৈদেশিক কর্মসংস্থানের জন্য নতুন নতুন দেশে শ্রমবাজার সম্প্রসারণ, অভিবাসন প্রক্রিয়া সহজীকরণ এবং কর্মীদের সার্বিক কল্যাণে গন্তব্য দেশসমূহের সাথে কূটনৈতিক প্রয়াস জোরদার করা হচ্ছে। কোভিড-১৯ কালেও সম্প্রতি রোমানিয়া, ক্রোয়েশিয়া, আলবেনিয়া, সার্বিয়া, বসনিয়া-হার্জেগোভিনা, মালটা, উজবেকিস্তানসহ বিভিন্ন অপ্রচলিত নতুন শ্রমবাজারে দক্ষ কর্মীর কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে।
অগ্রগতি অভিমুখে দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ
# বর্তমান বিশ্বে দক্ষ কর্মীর চাহিদা উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাচ্ছে, পক্ষান্তরে অদক্ষ কর্মীর চাহিদা দিন দিন হ্রাস পাচ্ছে। দেশে ও বিদেশে কর্মসংস্থানের জন্য দক্ষ জনবল তৈরির নিমিত্ত দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ সম্প্রসারণ ও মানোন্নয়নের লক্ষ্যে বিএমইটি বাস্তবমুখী কার্যক্রম গ্রহণ করেছে।
ষ বর্তমান প্রশিক্ষণ কার্যক্রম আরো সুসংহত করতে প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের জঞঙ নিবন্ধন ও ঘঞঠছঋ এর আওতায় প্রশিক্ষকদের উন্নত প্রশিক্ষণ প্রদানের ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। প্রশিক্ষকগণের মান উন্নয়নের জন্য ডিটিটিআই (ঢাকা টেকনিক্যাল ট্রেনিং ইন্সটিটিউট) নামে অত্যাধুনিক ইনস্টিটিউট স্থাপনের কাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে।
# যুক্তরাজ্যভিত্তিক সনদায়ন সংস্থা “সিটি এন্ড গিল্ডস” এর মাধ্যমে এবং চীন ও দক্ষিণ কোরিয়ার প্রশিক্ষণ ব্যবস্থার সাথে এফিলিয়েশনের মাধ্যমে আমাদের দক্ষতা প্রশিক্ষণকে আন্তর্জাতিক সনদায়নের আওতায় নিয়ে আসার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।
# ৪১টি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে বিদেশগামীদের জন্য জাপানি, কোরিয়ান ও চাইনিজ ভাষাসহ বিভিন্ন বিদেশি ভাষার প্রশিক্ষণ কার্যক্রম চালু রয়েছে।
# চীনের JMI (Xiasu Maritime Institute) এর সাথে ক্রেডিট ট্রান্সফার প্রোগ্রাম এর আওতায় আইএমটি’র প্রশিক্ষণার্থীরা চীনে উচ্চশিক্ষা লাভের সুযোগ পাচ্ছে।
# টিটিসিসমূহে জব ফেয়ার এর আয়োজন করা হচ্ছে। এ জব ফেয়ার এর মাধ্যমে টিটিসির প্রশিক্ষণার্থীরা বিভিন্ন নিয়োগকারী কোম্পানিতে সরকার নির্ধারিত অভিবাসন ব্যয়ে গমন করে কাজ করার সুযোগ পাচ্ছে।
অভিবাসন সেক্টরে কোভিড-১৯ ও তার মোকাবেলা
# অভিবাসনে কোভিড-১৯ অভিঘাত মোকাবেলায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সাহসী ও গতিশীল দিকনির্দেশনায় প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী জনাব ইমরান আহমদ এর সুযোগ্য নেতৃত্বে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও সুরক্ষা সেবা বিভাগসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগ এবং এর আওতাধীন দপ্তর ও সংস্থাসমূহ কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করে। সরকারের সফল কূটনৈতিক যোগাযোগের ফলে অনেক দেশ ভিসা ও ইকামার মেয়াদ বৃদ্ধি করে। ফলে চাকুরি হারিয়ে দেশে ফেরত আসা এবং কোভিড শুরুর আগে আটকে পড়া অভিবাসী কর্মীগণ টিকা নিয়ে তাদের স্ব স্ব কর্মস্থলে গমন করতে সক্ষম হয়েছে।
# কোভিড অভিঘাতে ফেরত আসা অভিজ্ঞ কর্মীগণকে বিএমইটি বর্তমানে ৪৪টি কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে বিভিন্ন ট্রেডে সম্পূর্ণ সরকারি খরচে Recognition of Prior Learning (RPL) সনদ প্রদান কার্যক্রম শুরু করেছে। বাংলাদেশে কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অংংবংড়ৎ দিয়ে স্বল্পকালীন প্রশিক্ষণ ও মূল্যায়নের মাধ্যমে জচখ সনদ প্রদান করা হচ্ছে। এছাড়াও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা হবার জন্য এবং দেশে কর্মসংস্থানে আগ্রহী বিদেশ ফেরত কর্মীগণও কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের সংশ্লিষ্ট ট্রেডে প্রশিক্ষণ গ্রহণের সুযোগ পাচ্ছেন।
# মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণার প্রেক্ষিতে বিদেশগামী কর্মীদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ঢাকায় ৭টি কেন্দ্রে কোভিড-১৯ টিকা কার্যক্রম চালু করা সম্ভব হয়েছে। এর ফলে বিদেশগামী কর্মীরা অতি দ্রুত টিকা নিয়ে কর্মক্ষেত্রে যোগদান করতে পারায় বৈদেশিক কর্মসংস্থানে ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে। ২০২১ সালে নভেম্বর পর্যন্ত বিদেশগামী কর্মীর সংখ্যা ৪ লক্ষ ৬৩ হাজার ৬৪৬ জন যা পূর্ববতী বছরের দি¦গুণেরও বেশি।
# কোভিড-১৯ এর কারণে গন্তব্য দেশে ক্ষতিগ্রস্ত বাংলাদেশি কর্মীদের বিদেশস্থ বাংলাদেশ মিশনের মাধ্যমে সরকার ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের ফান্ড থেকে ৯.৮৫ কোটি টাকা সাহায্য প্রদান করে। লকডাউন বা সাধারণ ছুটিকালীন বিদেশ ফেরত ৫,৯৭৪ জন কর্মীকে বিমানবন্দর হতে বাড়ি যাওয়ার ভাড়া ও আনুষঙ্গিক খরচ বাবদ ২.৯৭ কোটি টাকা প্রদান করা হয়। সৌদি আরব, ভিয়েতনাম ও লেবাননে আটকে পড়া বাংলাদেশি কর্মীদের বিমানভাড়া দিয়ে দেশে ফেরত আনা হয়। প্রত্যাগত কর্মীদের পুনর্বাসনের লক্ষ্যে প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকের মাধ্যমে ৪% সরল সুদে ২০০ কোটি টাকা ঋণ প্রদান কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় অর্থ বিভাগ কর্তৃক প্রদত্ত আরো ৫০০ কোটি টাকা দিয়ে প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকের মাধ্যমে অভিবাসীদের মধ্যে ঋণ প্রদান কার্যক্রম চলমান আছে। এছাড়াও বিশ্ব ব্যাংকের অর্থায়নে বিদেশ ফেরত ২ লক্ষ কর্মীকে পুনর্বাসনের লক্ষ্যে ৪২৭ কোটি টাকার একটি প্রকল্প বাস্তবায়নাধীন রয়েছে।
# বৈদেশিক কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে রিক্রুটিং এজেন্সিসমূহ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। রিক্রুটিং এজেন্সিসমূহের মধ্যে সুস্থ প্রতিযোগিতা সৃষ্টি ও কার্যক্রম মূল্যায়নের নিমিত্ত রিক্রুটিং এজেন্সি শ্রেণিবিভাগকরণ বিধিমালা প্রণয়ন করা হয়েছে।
# বিমানবন্দরে আরটি-পিসিআর ল্যাব স্থাপন করা হয়েছে। প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের অধীন ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের তহবিল থেকে ব্যয় বহন করার ফলে অভিবাসী কর্মীরা বিনা খরচে কোভিড পরীক্ষা করে বিদেশ যেতে পারছে। এছাড়াও সৌদিআরবগামী কর্মীদের কোয়ারেন্টাইন খরচ বাবদ কর্মী প্রতি ২৫ হাজার টাকা করে নগদ অর্থ সহায়তা প্রদান করা হয়েছে।
ভবিষ্যত সম্ভাবনা ও প্রত্যয়
যে কোনো দুর্যোগ বা মহামারির পর সম্ভাবনার দ্বারও উন্মোচিত হয়। কোভিড-১৯ মহামারির মধ্যেই কয়েকটি নতুন রেকর্ড গড়ছে বাংলাদেশ। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৪৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের মাইলফলক অতিক্রম করেছে। অভিবাসন সেক্টরে কাজে কাক্সিক্ষত সফলতা আনতে সম্মানিত জনপ্রতিনিধিবৃন্দ, সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, সুশীলসমাজ, দেশীয় ও আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা, রিক্রুটিং এজেন্টস ও মিডিয়ার সম্মিলিত প্রয়াস অগ্রণী ভূমিকা রাখবে বলে আমরা দৃঢ়ভাবে আশাবাদী।
# আমরা অভিবাসী কর্মীর মর্যাদাপূর্ণ জীবন ও বৈদেশিক কর্মক্ষেত্রে কাক্সিক্ষত নিরাপত্তা পেতে লাগসই প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করবো। আমরা অভিবাসন সংক্রান্ত সকল সেবা সহজ ও নৈতিক করবো। কর্মক্ষেত্রে উদ্ভাবন ও সৃজনশীলতাকে অগ্রাধিকার দিয়ে আমরা ডিজিটাল পদ্ধতিতে সেবার সকল দুয়ার উন্মুক্ত করার মাধ্যমে মানুষের শুধু পাশে নয় সাথে থাকবো।
# জাতির পিতার জন্মশতবর্ষ উদ্যাপন এবং মহান স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী পালনের স্বার্থকতা পেতে এবং সময়ের দাবি পূরণে শুভ এই মাহেন্দ্রক্ষণে আমরা তাই প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করেছি- ‘শতবর্ষে জাতির পিতা, সুবর্ণে স্বাধীনতা, অভিবাসনে আনবো মর্যাদা ও নৈতিকতা’। আমরা এক অনন্য জাতির সন্তান। আমরা কিছুতেই হারবো না। সফল হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে আন্তর্জাতিক অভিবাসী দিবস ২০২১ এর সাফল্য কামনা করি।
লেখক: জনশক্তি , কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি)’র মহাপরিচালক ও অতিরিক্ত সচিব ।