রবিবার, ০৩ মে ২০২৬, ০৬:৩৪ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
দক্ষিণ সুরমা প্রেসক্লাবের নির্বাচন অনুষ্ঠিত প্রচন্ড বৃষ্টির মধ্যে মাজার জিয়ারতে প্রধানমন্ত্রী মব জাষ্টিস বন্ধ না হলে বাংলাদেশ জঙ্গিবাদী রাষ্ট্রে পরিনত হতে পারে —ব্যারিস্টার সারা হোসেন মে দিবস উপলক্ষ্যে বর্ণাঢ্য র‍্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত ইসলামী শ্রমিক আন্দোলনের উদ্যোগে শ্রমিক সমাবেশ অনুষ্ঠিত ব্র্যাক ইনস্টিটিউট অব ল্যাঙ্গুয়েজেসের ২০ বছর পূর্তি উদযাপিত বিএটি বাংলাদেশ পিএলসির ৫৩তম এজিএম অনুষ্ঠিত বুদ্ধ পূর্ণিমা উপলক্ষে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রীর শুভেচ্ছা বার্তা জাতিসংঘে পার্বত্য চুক্তির অগ্রগতি উপস্থাপন সাধু বাবুর অভিনয়ে কুমিরের পিঠে দেশ

টিসিবি একটি বস্তাই বেড় করে দিল নির্মম হত্যার রহস্য

সংবাদদাতার নাম :
  • খবর আপডেট সময় : শুক্রবার, ২৮ অক্টোবর, ২০২২
  • ১৯৯ এই পর্যন্ত দেখেছেন

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি: চট্টগ্রাম নগরের কোতোয়ালি থানা এলাকার জামালখান সিকদার হোটেলের পাশের নালা থেকে সাত বছর বয়সী এক শিশুটি লাশ উদ্ধারের পর ছিল না কোনও ক্লু। শুধু যে বস্তায় লাশটি ছিল সেটির সূত্র ধরেই খুনিকে শনাক্ত করেছে পুলিশ। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীটি জানিয়েছে, বিস্কুট কিনতে দোকানে গেলে দোকান কর্মচারী লক্ষণ দাস তাকে ধর্ষণের পর হত্যা করে।

গতকাল শুক্রবার বিকাল ৩টায় সংবাদ সম্মেলন করে এ তথ্য জানান চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার (দক্ষিণ) মো. মোস্তাফিজুর রহমান। জামালখান ডিসি দক্ষিণ কার্যালয়ে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। উপ-পুলিশ কমিশনার (দক্ষিণ) মো. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, বৃহস্পতিবার (২৭ অক্টোবর) বিকালে বস্তাভর্তি লাশটি ড্রেন থেকে উদ্ধার করা হয়।

বস্তা কেটে লাশটি বের করা হলে আমাদের নজরে আসে, বস্তাতে টিসিবির সিল আছে। টিসিবির সেই বস্তাকে টার্গেট করে এমন সিলযুক্ত বস্তায় মালামাল বিক্রির দোকান ও আশপাশের বিভিন্ন রেস্তোরাঁর গুদামে খুঁজতে থাকি। একপর্যায়ে জামালখান এলাকার শ্যামল স্টোরের গুদামে তল্লাশি করার সময় একটি নতুন খালি টিসিবির সিলযুক্ত বস্তা খুঁজে পাই।

এরপর ওই দোকানের মালিক ও কর্মচারীদের তথ্য সংগ্রহ ও ঘটনাস্থলের আশপাশের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করি। তিনি বলেন, টিসিবির সিলযুক্ত বস্তা ও সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ পর্যালোচনা করে দোকান কর্মচারী লক্ষণ দাশকে শনাক্ত করা হয়। জামালখান এলাকার শ্যামল স্টোরে অভিযান চালিয়ে গত বৃহস্পতিবার রাত দেড়টায় তাকে গ্রেফতার করা হয়।

এই পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে লক্ষণ দাশ স্বীকার করে, ওই শিশু বিভিন্ন সময়ে দোকানে এলে চিপস ও চকলেট দিত। ঘটনার দিন সোমবার (২৪ অক্টোবর) সে ভুক্তভোগীকে ১০০ টাকা দেওয়ার লোভ দেখিয়ে দোকানের গুদামে নিয়ে নাক-মুখ চেপে ধর্ষণ করে। ধর্ষণের পর ভুক্তভোগীর রক্তপাত হওয়ায় ওই কর্মচারী ভয় পেয়ে যায়।

শিশুটির মুখ ও নাক চেপে ধরে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। পরে সে তার গুদামে রাখা টিসিবির সিলযুক্ত প্লাস্টিকের বস্তার ভেতরে লাশ ঢোকায়। বস্তাবন্দি লাশটি বাইরে এনে গুদামের ডান পাশে দেয়াল সংলগ্ন ড্রেনে দেয়ালের ওপর দিয়ে ফেলে দেয়।

মোস্তাফিজুর রহমান আরও বলেন, এর কিছুক্ষণ পরে সে ভুক্তভোগীর কাপড়চোপড় পেঁয়াজের খোসার বস্তার ভেতর খোসাসহ ঢুকিয়ে বস্তাটিও ড্রেনে ফেলে দেয়। আর কিছুক্ষণ পরে সে শিশুটির ব্যবহৃত স্যান্ডেলটি নিয়ে ড্রেনে ফেলে দেয়। লক্ষণ দাশ লোহাগড়া উপজেলার ফেলোরাম দাশের ছেলে।

কোতোয়ালি থানার ওসি জাহিদুল কবির বলেন, বৃহস্পতিবার বিকালে লাশ উদ্ধারের পর শিশুটির মা বাদী হয়ে থানায় মামলা করেন। মামলার তদন্ত করে রাতেই হত্যাকারীকে গ্রেফতার করা হয়।

এর আগে ২৪ অক্টোবর বিকালে বাসা থেকে ২০ টাকা নিয়ে দোকানের যাওয়ার কথা বলে বের হয় শিশুটি। ঘটনার পরদিন শিশুটির বোন বাদী হয়ে কোতোয়ালি থানায় মামলা করেন। সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন- সিএমপির এডিসি (দক্ষিণ) নোবেল চাকমা, এসি (কোতোয়ালি জোন) মো. মুজাহিদুল ইসলাম, পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) আতিকুর রহমান।

ইউকেবিডিটিভি/ বিডি / এমএসএম

দয়া করে খবরটি শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

এই ক্যাটাগরিতে আরো যেসব খবর রয়েছে
All rights reserved © UKBDTV.COM
       
themesba-lates1749691102