বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬, ০৬:৫২ পূর্বাহ্ন

নির্বাচনে অর্থ না দেওয়ায় প্রবাসীর জমিতে রাস্তা নির্মানের অভিযোগ

সংবাদদাতার নাম :
  • খবর আপডেট সময় : শনিবার, ২৩ এপ্রিল, ২০২২
  • ২৫৭ এই পর্যন্ত দেখেছেন

ওসমানীনগর সংবাদদাতা: সিলেটের ওসমানীনগরে যুক্তরাজ্য প্রবাসীর ফসলী জমি দখল করে জোরপূর্বক রাস্তা নির্মানের অভিযোগ উঠেছে সদ্য পরাজিত এক ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে।নির্বাচনী ব্যয়ের জন্য দাবিকৃত টাকা না পাওয়ায় পরবর্তী সময়ে সরকারী কাবিকা প্রকল্পের দোহাই দিয়ে এমন কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন বলেও অভিযোগ করেছেন প্রবাসীর স্বজনরা।এ বিষয়ে প্রতিকার চেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও থানা পুলিশকে লিখিত অভিযোগ দিলেও প্রশাসন এ ব্যাপারে নিরব রয়েছে।

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, বুরুঙ্গা বাজার ইউনিয়নের সিরাজনগর গ্রামের হাজী নূর মিয়ার স্ত্রী মনোয়ারা বেগম স্বপরিবারে যুক্তরাজ্যে বসবাস করায় দেশে থাকা তার সম্পত্তি দেখাশুনা করে আসছেন তার ভাতিজা উপজেলার ব্রাম্মন গ্রামের মৃত মজনুর রহমানের পুত্র ইয়াওর আলী। গত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে নির্বাচনী ব্যয়ের জন্য ওই প্রবাসীর কাছে বিভিন্ন ভাবে টাকা দাবি করেন বুরুঙ্গা ইউনিয়নের সদ্য সাবেক চেয়ারম্যান এম.জি খালেক আহমদ। কিন্তু ওই প্রবাসী দাবীকৃত টাকা না দেয়ায় নির্বাচন পরবর্তী সময়ে এম. জি খালেক আহমদ চেয়ারম্যান থাকা কালে গ্রামীন অবকাটামো সংস্কার ও রক্ষনাবেক্ষন কর্মসূচীর আওতায় প্রকল্পের চলমান কার্যক্রমে প্রবাসীর ভূমি দখলের পায়তারা করেন। এর ধারাবাহিকতায় গত ৩১ মার্চ ইউনিয়নের সিরাজ নগর গ্রামে রাস্তা সংস্কারের কথা বলে কাবিকা প্রকল্পের মাধ্যমে যুক্তরাজ্য প্রবাসী মনোয়ারা বেগমের মালিকানাধীন প্রায় ৩০ শতাংশ ফসলী ধানী জমির কাচা ধান কেটে এস্কোভেটার মেশিন দিয়ে জোরপূর্বক মাঠি ভরাটের কাজ শুরু করেন সাবেক ওই চেয়ারম্যান। ফসলী জমি ধ্বংস করার খবর পেয়ে প্রবাসীর কেয়ারটেকার ইয়াওর আলী ঘটনাস্থলে পৌছে ফসলী জমি নস্ট করার কারণ জানতে চাইলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে সরকারী প্রকল্পের কার্যক্রম চলছে বলে ইয়াওর আলীকে জানান সাবেক চেয়ারম্যান এম. জি খালেক আহমদ। ঘটনাটি তাৎক্ষনিক মৌখিকভাবে বুরুঙ্গা ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যানসহ উপজেলা প্রশাসনের কর্তা ব্যাক্তিদের জানিয়ে কোন সুফল না পাওয়ায় এ বিষয়ে ১৩ এপ্রিল ওসমানীনগর থানায় ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে পৃথক লিখিত অভিযোগ প্রদান করেছেন। কিন্তু অভিযোগ প্রদানের ১০ দিন অতিবাহিত হলেও প্রভাবশালী ওই সাবেক চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে কার্যত কোন ব্যবস্থা গ্রহন করছে না প্রশাসন।

অভিযোগ পেয়ে থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করলেও উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনও ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়নি বলে জানিয়েছেন অভিযোগকারীরা।

স্থানীয়রা জানান,নিজের স্বার্থ হাসিলে ব্যর্থ হয়ে রাস্তা নির্মানের দোহাই দিয়ে মালিকানাধীন ফসলী জমিতে সরকারি টাকায় মাঠি ভরাটের মাধ্যমে সরকারের টাকা অপচয় করার পাশাপাশি প্রবাসী পরিবারকে হয়রানী করছেন সাবেক চেয়ারম্যান। সরকারি অধিগ্রহন বা মাঠি ভরাটের জন্য সরকারি কোন নোটিশ ছাড়াই ফসলী জমিতে মাঠি ভরাটের কারণে ব্যপক ক্ষতি সাধন হয়েছে জানিয়ে প্রবাসীর কেয়ারটেকার ইয়াওর আলী বলেন,নির্বাচনের সময় আমার ফুফু সাবেক চেয়ারম্যান এম. জি খালেক আহমদকে টাকা না দেয়ায় তিনি আমার ফুফুর ভূমি জোড়পূর্বক দখলের পায়তারা করছেন। এছাড়া তাঁর বিরুদ্ধে বরুঙ্গা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান থাকা কালে ক্ষমতার অপব্যাবহার করে প্রশাসনের ভয় দেখিয়ে এলাকার সাধারণ মানুষদের নাজেহাল করার অভিযোগ রয়েছে। এ ব্যাপারে ইউএনও, প্রকল্প বাস্থাবায়ন কর্মকর্তা ও থানা পুলিশের কাছে অভিযোগ দিয়ে কোনো কাজ হচ্ছে না।

এ বিষয়ে জানতে বুরুঙ্গা ইউপির সদ্য সাবেক চেয়ারম্যান এম. জি খালেক আহমদ এর সাথে মোবাইল ফোনের যোগাযোগ করা হলে তিনি অভিযোগগুলো অস্বীকার করে বলেন,এখানে তথ্য গত ভূল রয়েছে। আমি পরবর্তীতে ফোন দিয়ে কথা বলব বলে ফোন রেখে দেন।

বুরুঙ্গা ইউপির বর্তমান চেয়ারম্যান আখলাকুর রহমান বলেন,এসব প্রকল্পের বিষয়ে আমি কিছুই জানিনা। প্রবাসীর স্বজনরা মৌখিকভাবে বিষয়টি আমাকে জানিয়েছেন। এটা আমি দ্বায়িত্ব গ্রহনের আগের প্রকল্প হওয়ায় আমি এ নিয়ে কোনো মন্তব্য করছি না। প্রকল্প সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের দ্বায়িত্বপ্রাপ্তদের কাছে এ ব্যাপারে খোঁজ নিয়ে জানতে পারবেন।

উপজেলা প্রকল্প বাস্থবায়ন কর্মকর্তা মিলন কান্তি রায় বলেন,ওই রাস্তার নির্মান নিয়ে প্রবাসীর পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর প্রকল্পের বরাদ্ধকৃত অর্থ প্রকল্প কমিটিকে প্রদান করা হয়নি। তদন্তসাপেক্ষে সার্বিক বিষয়ে খতিয়ে দেখে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

ওসমানীনগর থানার অফিসার ইনচার্জ এস এম মাইন উদ্দিন বলেন, ফসলী জমিতে সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান কর্তৃক মাঠি ভরাট করে রাস্তা নির্মানের লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। যেহেতু সরকারী বরাদ্ধের বিষয় জড়িত তাই ইউএনও স্যারের সাথে কথা বলে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হচ্ছে।

ওসমানীনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নীলীমা রায়হানা বলেন,ব্যাক্তি মালিকানধীন ফসলী জমিতে সরাকরি ভাবে মাঠি ভরাটের কাজ হয়েছে এমন একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্তের জন্য উপজেলা প্রকল্প বাস্থবায়ন কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

দয়া করে খবরটি শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

এই ক্যাটাগরিতে আরো যেসব খবর রয়েছে
All rights reserved © UKBDTV.COM
       
themesba-lates1749691102