

স্টাফ রিপোর্টার: সরকারের প্রতি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, দিন শেষ। জনগণের কাছে ক্ষমা চেয়ে নিরপেক্ষ সরকারের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করুন।
শনিবার ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ বিএনপির যৌথ উদ্যোগে মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে বর্ণাঢ্য স্বাধীনতা র্যালির আগে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।
নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে শোভাযাত্রার আগে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের জন্য ট্রাক দিয়ে অস্থায়ী মঞ্চ তৈরি করা হয়। এই মঞ্চেই ব্যানার টানানো হয়। অস্থায়ী মঞ্চে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে র্যালির উদ্ধোধন ঘোষণা করেন মির্জা ফখরুল।
সরকারের প্রতি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে তিনি বলেন, এখনো সময় আছে- আমরা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং তার সরকারকে বলতে চাই, পদত্যাগ করুন এবং একটা নিরপেক্ষ সরকারের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করুন। নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশনারের পরিচালনায় নির্বাচনের মধ্যে দিয়ে জনগণের প্রতিনিধিদের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করুন।

মির্জা ফখরুল বলেন, দয়া করে এখন ছেড়ে দিয়ে জনগণের কাছে ক্ষমা চেয়ে একটা নিরপেক্ষ নির্বাচন করার জন্য নিরপেক্ষ সরকারের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করুন। জনগণের প্রতিনিধিদের দিয়ে দেশ পরিচালনার ব্যবস্থা করুন। অন্যথায় সকল স্বৈরাচারী ও ফ্যাসিবাদীর যে পরিণতি হয়েছে, আপনাদেরও সেই একই পরিণতি হবে।
আজ মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উল্লেখ করে তিনি বলেন, আজকে আমরা স্মরণ করতে চাই, সেসব লাখো শহীদদেরকে- আমরা অত্যন্ত শ্রদ্ধা ভরে স্মরণ করতে চাই আমাদের সেই নেত্রীকে। যিনি সেই ১৯৭১ সালে ওই চট্রগ্রামে মুক্তিযুদ্ধের যারা সৈনিক ছিলেন তাদেরকে অনুপ্রাণিত করেছিলেন। আর দীর্ঘ ৯ মাস কারাগারে থেকে প্রথম নারী মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে আমাদের কাছে চিহ্নিত হয়েছেন।
ফখরুল বলেন, আজকে সারাদেশের মানুষ এই ৫০ বছর পরে আক্ষেপ করছে যে, আমরা কী পেয়েছি? আজকে আমাদের কথা বলার স্বাধীনতা, নিজেদের প্রতিনিধি নির্বাচিত করবার স্বাধীনতা নেই। আজকে অর্থনীতি ধ্বংসের পথে চলে গেছে। আর গণতন্ত্রের কোনো অধিকার নেই।

বক্তব্য শেষে বিকেল পৌনে ৪টায় রাজধানীর নয়াপল্টন বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে শোভাযাত্রা বের হয়। শোভাযাত্রাটি বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে থেকে পুরানা পল্টন হয়ে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে গিয়ে শেষ হয়।
বিএনপির স্বাধীনতা শোভাযাতার ব্যানারে লেখা হয়েছে, শহীদ জিয়ার ঘোষণা মুক্তিযুদ্ধের সূচনা, মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে স্বাধীনতা র্যালি।
দুপুর ১২টা থেকেই ব্যানার, ফেস্টুন, জাতীয় পতাকা, দলীয় পতাকা, ঘোড়ার গাড়ি, ট্রাক ও ঢোলসহ বিভিন্ন রকমের বাদ্যযন্ত্র নিয়ে খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের হাজার হাজার নেতা কর্মীদেরকে শোভাযাত্রাস্থলে উপস্থিত হতে দেখা গেছে। এসময় খালেদা জিয়ার মুক্তি এবং সরকার বিরোধী বিভিন্ন স্লোগানে রাজপথ মুখরিত করে তুলেন তারা।
র্যালিতে বেশিভাগ ব্যানারে খালেদা জিয়ার নিঃশর্ত মুক্তি এবং দ্রব্যমূল্যের দাম কমানোর দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান লেখা দেখা গেছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, শোভাযাত্রা ঘিরে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের আশপাশে কঠোর অবস্থানে ছিলেন আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সদস্যরা। কার্যালয়ের আশপাশে সাদা পোশাকেও দায়িত্বরত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের মোতায়েন রাখা হয়। জনসমাগম ঘটিয়ে যাতে কোনো অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে না পারে, সে জন্য সার্বিক প্রস্তুতিও রাখা হয়েছিল।
এছাড়া নয়াপল্টন, পুরানা পল্টন ও জাতীয় প্রেসক্লাবের বিভিন্ন পয়েন্টে অতিরিক্ত পুলিশ ও ডিবি পুলিশও মোতায়েন করা হয়।
র্যালি পূর্ব সংক্ষপ্তি সমাবেশে বক্তব্য রাখেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মির্জা আব্বাস, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আমান উল্লাহ আমান এবং আবদুস সালাম।

এছাড়া র্যালিতে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, যুগ্ম মহাসচিব ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন, সাংগঠনিক সম্পাদক শামা ওবায়েদ, প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী, প্রশিক্ষণ বিষয়ক সম্পাদক এবিএম মোশাররফ হোসেন, স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক মীর সরাফত আলী সপু, সহ- দপ্তর সম্পাদক তাইফুল ইসলাম টিপু, নির্বাহী কমিটির সদস্য নাজিম উদ্দিন আলমসহ দলটির অঙ্গ ও সহযোগি সংগঠনের হাজার হাজার নেতা কর্মী ছিলেন।