

স্টাফ রিপোর্টার : বিভিন্ন মসজিদ-মাদ্রাসায় অনুদানের নামে অপরাধ জগতের ডন হিসেবে খ্যাত মোকবুল হোসেন পাঠান এবার কুমিল্লার হোমনায় ইন্টারনেট ক্যাবল ব্যবসায়ী যুবলীগকর্মী সালাহ উদ্দিন প্রকাশ জহিরকে (২৮) কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে।
এছাড়াও বিদেশে নারীপাচারসহ একাধিক মামলায় তিনি গ্রেফতার হয়েছেন। পরবর্তীতে আবারো অপরাধে জড়িয়ে পড়ছেন এবং প্রশাসনকে ম্যানেজ করে দিব্বি আড়াম আয়েশে ঘুরে বেড়াচ্ছেন।
সূত্রে জানা গেছে, রাজধানীর পাশ্ববর্তী জেলা নারায়ণ ও ঢাকার মতিঝিল, পল্টন থানা সহ বেশ কয়েকটি থানায় একাধিক মামলায় গ্রেফতার হয়েছেন। এইসব মামলায় সিআইডি ও র্যাব তাকে গ্রেফতার করেছে। তবে মানবপাচারের অভিযোগে তার ফকিরাপুলের একটি আদম ব্যাবসার অফিস প্রশাসন সিলগালা করে দেয়। জামিনে বের হয়ে তিনি আবারো মতিঝিলে জিনেট টাওয়ারে এম এস ট্রের্ড ইন্টারন্যাশনাল নামে একটি চালু করেন এবং ওই অফিসে বসেই অপরাধ জগৎ নিয়ন্ত্রণ করছেন। একইসাথে তার অপরাধ আড়াল করতে গোপনে বিএনপি -জামায়াতকে অর্থ সহায়তা দিচ্ছেন। এছাড়াও ডেমরার ডগাইর ও সাইনবোর্ড এলাকায় বিভিন্ন মাদ্রাসায় অর্থ সহায়তা দিয়ে দানবীর সেজেছেন। অল্প সময়ের মধ্যে রাজধানীর বনশ্রীতে কয়েকটি প্লট,ডেমরার ডগাইর এলাকার বাড়ী ও ৭ বিঘা জমি, গাজীপুর,সাভার ও কুমিল্লায় ৬০ বিঘা জমি কিনেছেন। রয়েছে গোড়ানে নিজস্ব ফ্লাট। সে অল্প সময়ের মধ্যে কোটি কোটি টাকার মালিক বনে গেছেন। রাজধানীর নামি দামি হোটেলে সুন্দরী রমনীদের নিয়ে আমোদ ফুর্তি করেন এমন অভিযোগ ও নেহায়েত কম নয়। যদিও (২০০৬) একসময় মোকবল রাজধানীর কাওরানবাজারে কাঁচা তড়িতরকারী বিক্রেতা ছিলেন। পরে চাকরি নেন মতিঝিল একটি অফিসে। পরে বিদেশে মানবপাচারের মাধ্যমে নিজেই বনে যান মালিক। তার বাবা বাসাবোর গুড়ানে ভাঙ্গারী বিক্রি করতেন। যা নিয়ে গুড়ান এলাকায় ২০১৭ সালে পোস্টার ছেপে এলাকাবাসী জানতে চেয়েছিল ভাঙ্গারীর ছেলে কিভাবে কোটি কোটি টাকার মালিক বনে গেল?

তবে সর্বশেষ কুমিল্লার হোমনায় ইন্টারনেট ক্যাবল ব্যবসায়ী যুবলীগকর্মী সালাহ উদ্দিন প্রকাশ জহিরকে (২৮) কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে মামলা হওয়ার পর আবারো আলোচনায় এসেছেন মোকবল হোসেন। তবে এসব অভিযোগ বিষয়ে তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায় নি।
ওই মামলায় উপজেলার আসাদপুর ইউনিয়ন চেয়ারম্যান মো. জালাল উদ্দিন পাঠান ও তার ভাতিজা মোকবল পাঠানসহ ৪৮ জনকে আসামি করা হয়েছে।
শনিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) নিহতের বড় বোন পারুল আক্তার বাদী হয়ে হোমনা থানায় মামলাটি করেন। এতে ২৩ জনের নাম উল্লেখ ও অজ্ঞাত ১৫ জনকে আসামি করা হয়েছে।
বিষয়টি নিশ্চিত করে হোমনা থানার ওসি আবুল কায়েস আকন্দ বলেন, আসামি গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। এ ঘটনায় কাউকে গ্রেফতার করা যায়নি। সবাই পলাতক রয়েছে।
এদিকে, অভিযুক্তদের গ্রেফতারের দাবিতে উপজেলা আওয়ামী লীগ বিক্ষোভ মিছিল করেছে। এলাকায় এখনও থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে।