সোমবার, ০২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৩:৩৬ পূর্বাহ্ন

ঢাকায় উত্তাপ দিয়ে সরগরম করতে চায় বিএনপির

সংবাদদাতার নাম :
  • খবর আপডেট সময় : বৃহস্পতিবার, ২৩ ডিসেম্বর, ২০২১
  • ২৩৮ এই পর্যন্ত দেখেছেন

স্টাফ রিপোর্টার: খালেদা জিয়া আগের চেয়ে শুকিয়ে গেছেন, স্বাস্থ্যের আরও অবনতি ঘটেছে। খাবারে রুচি নেই। অল্প পরিমাণে স্যুপ খাওয়ার চেষ্টা করেন। কোনো উন্নতি নেই। রক্তও স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়নি। এখন ওষুধে সাময়িক রক্ত বন্ধ হয় মাত্র। যেকোনো সময় ঘটতে পারে দুর্ঘটনা। 

খালেদা জিয়া ইস্যু নিয়ে আন্দোলন ও ‘নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য’ নির্বাচন কমিশন গঠনের দাবিতে জেলা এবং উপজেলায় কর্মসূচি শুরু করেছে বিএনপি। টার্গেট, জেলা-উপজেলায় সমাবেশ শেষে  ঢাকা গরমের। দীর্ঘ এক যুগ পর কার্যত কর্মসূচি নিয়ে দলের হাইকমান্ডের শীর্ষ নেতারা জেলায় জেলায় ছড়িয়ে গেছেন। 

সমপ্রতি বেশ কিছু ইস্যু নিয়ে সরকার চাপে পড়েছে। সামনে ইসি গঠনসহ আরো বেশ কয়েকটি রাজনৈতিক মাঠ গরমের ইস্যু রয়েছে— এটিকে কাজে লাগাতে আগে জেলার কর্মসূচির মাধ্যমে সক্রিয়তা গুরুত্ব দিচ্ছে হাইকমান্ড। ঢাকায় চূড়ান্ত কর্মসূচির আগে আন্দোলনের রূপরেখা স্থানীয় নীতিনির্ধারকদের দিয়ে আসা হবে। বিশেষ করে খালেদা জিয়ার কিছু হলে যাতে তাৎক্ষণিক আন্দোলন জমানো যায় সে বিষয়ে বিশেষ নির্দেশনা দিয়ে আসা হবে। যারা আগামী নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার চিন্তা রাখবে তারদেরকে আন্দোলনের ভূমিকা পালনে দেয়া হবে লন্ডন নির্দেশনা। 

গতকাল থেকে ধারাবাহিকভাবে ৩২ জেলায় সমাবেশের কর্মসূচি শুরু করেছে বিএনপি। এ কর্মসূচি ৩০ ডিসেম্বর পর্যন্ত চলবে। এর মধ্যে ২২, ২৪ ও ২৬ ডিসেম্বর বিভিন্ন বিভাগের জেলা সদরে প্রতিদিন ছয়টি করে সমাবেশ হবে। আর ২৮ ও ৩০ ডিসেম্বর প্রতিদিন সাতটি করে সমাবেশ হবে জেলা পর্যায়ে। এরপর নির্বাচনের আগ পর্যন্ত ঢাকায় সিরিজ কর্মসূচির পরিকল্পনা রেখেছে দলটির নীতিনির্ধারণী ফোরাম। 

বিএনপির নীতিনির্ধারণী ফোরামের সাথে কথা বলে জানা গেছে, নির্বাচন কমিশন গঠনে রাষ্ট্রপতির সংলাপের পর কাদের দিয়ে সার্চ কমিটি গঠন হবে এ ইস্যুতে দলটি তৎপর থাকবে। আন্দোলনের প্রেক্ষাপট তৈরি হবে। তা কাজে লাগানো হবে। শক্তভাবে অবস্থানে থাকবে।

এছাড়া র‌্যাব এবং এর বর্তমান-সাবেক সাত কর্মকর্তার ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে এখনো ভালোভাবে নজর রেখেছে দলটি। চলমান ইস্যুসহ সামনে সম্ভাব্য ইস্যু নির্ধারণ করে জেলায় জেলায় সমাবেশের উদ্দেশ্যে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতারা সমাবেশ শুরু করেছেন। 

গতকাল টাঙ্গাইলের সমাবেশে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর প্রধান অতিথি ছিলেন। হবিগঞ্জের সমাবেশে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন, বগুড়ার সমাবেশে গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, দিনাজপুরে নজরুল ইসলাম খান এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সমাবেশে আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী প্রধান অতিথি থেকে দিকনির্দেশনা দেন। 

এছাড়া ২৪ ডিসেম্বর গাজীপুরের সমাবেশে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, জয়পুরহাটে গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, জামালপুরে নজরুল ইসলাম খান, নোয়াখালীতে আবদুল্লাহ আল নোমান ও ভোলায় মেজর (অব.) হাফিজউদ্দিন আহমেদ প্রধান অতিথির বক্তব্য দেবেন। দলটির সিনিয়র নেতারা মনে করছেন, গতকাল থেকে ৩২ জেলায়  সমাবেশ শুরু করছে বিএনপি এটি শেষের পরেই ঢাকা থেকে চূড়ান্ত নির্দেশনা দেয়া হবে। ৩০ ডিসেম্বর ঢাকায় মহাসমাবেশে থাকবে বিশেষ বার্তা। 

এরপর পরিস্থিতি বুঝে ট্রেন মার্চ ও লংমার্চ কর্মসূচিতে যাওয়ার পরিকল্পনা আছে তাদের। ঢাকার কোনো স্থানে আসতে পারে বৃহৎ কর্মসূচিও। ইসি ঘেরাওসহ আরো নানান বিষয়ে নোট রাখা হয়েছে। সব মিলিয়ে বিএনপি কৌশলও পরিবর্তন করছে। সরকারের রাজনৈতিক সমালোচনা ও প্রতিবাদের সাথে আগামীর চিন্তায় প্রস্তুতিকে বিশেষ গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। খালেদা জিয়া ইস্যুতে বিএনপির চলমান রাজনৈতিক কর্মসূচি  সাধারণ মানুষ সমর্থন করছে বলে মনে করা হচ্ছে। তার চিকিৎসার ব্যাপারে একদিকে মানুষের সহানুভূতি তৈরি হচ্ছে, অন্যদিকে সরকারের প্রতি ক্ষোভ ও বিরক্তি বাড়ছে। এটাকে সুযোগ হিসেবে নিয়ে ফের মাঠে নামার পরিকল্পনা চূড়ান্তভাবে নেয়া হয়েছে। 

এদিকে খালেদা জিয়াও খুব ভালো অবস্থানে নেই। খালেদা জিয়া আগের চেয়ে শুকিয়ে গেছেন, স্বাস্থ্য  ভেঙে গেছে। তার খাবারের রুচি একদমই নেই। তেমন কোনো খাবারই খান না। মাঝে মাঝে অল্প পরিমাণে স্যুপ খাওয়ার চেষ্টা করেন। এর বাইরে কোনো খাবারেই তার আগ্রহ নেই। 

খালেদা জিয়ার চিকিৎসার সাথে যুক্ত সূত্রগুলো বলছে, বিএনপি চেয়ারপারসনের বর্তমানে দুটি বড় সমস্যা রয়েছে। একটি হচ্ছে, তার রক্তক্ষরণ হয়ে হিমোগ্লোবিন কমে যায় এবং ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। 

অন্যদিকে আর্থ্রাইটিস, কিডনি, ফুসফুস, চোখের সমস্যা আছেই। বর্তমানে ওষুধ দিয়ে তার রক্তক্ষরণ নিয়ন্ত্রণে রাখা হয়েছে। তারপরও মাঝে মধ্যে রক্তক্ষরণ হচ্ছে। এ পরিস্থিতে যেকোনো সময় অঘটন ঘটতে পারে। সেটিকে রাজনৈতিকভাবে কাজে লাগাতে ততপর রয়েছে। 

সরকার পতনে দলের রাজনৈতিক কৌশল পরিবর্তন করা প্রয়োজন বলে মন্তব্য করে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমান বলেন, ‘এই সরকার ফ্যাসিবাদী সরকার। এই সরকারের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল এবং জাতীয়বাদী ঐক্যের যে রাজনীতি সেটার কৌশল পরিবর্তন প্রয়োজন। সেই কৌশলের পরিবর্তন যদি না হয়, তাহলে আন্দোলনে আমরা সফল হতে পারব না। এই স্বৈরাচারী সরকারের রূপটা ফ্যাসিবাদী হয়ে গেছে। এই যে ফ্যাসিবাদ আর স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে আন্দোলনের একটি মৌলিক পার্থক্য আছে। এই পার্থক্য অনুধাবন করে রাজনৈতিক কর্মসূচি দিতে না পারলে আমরা সফলতা অর্জন করতে পারব না।’

বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান বলেন, ‘খালেদা জিয়ার বাঁচা-মরা আল্লাহর হাতে। চিকিৎসা দেবেন শেখ হাসিনা। কোনো কারণে যদি শেখ হাসিনা চিকিৎসা দিতে ব্যর্থ হন, তাহলে সৃষ্ট পরিস্থিতি দায় প্রধানমন্ত্রীকে নিতে হবে।’ বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, ‘আমরা বলি তার (খালেদা জিয়া) যদি কিছু হয়, তাহলে এ সরকারকে জবাবদিহি করতে হবে। তার কিছু হওয়া পর্যন্ত কেন আমরা অপেক্ষা করব?, তার কিছু হবে কেন? কিছু হওয়ার আগেই এ মুহূর্তেই আমাদের রাস্তায় নামতে হবে।’ 

গতকাল বুধবার টাঙ্গাইল জেলা সদর মাঠে জেলা বিএনপি আয়োজিত জনসভায় বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া দেশের মানুষের সবচেয়ে প্রিয় মানুষ। তিনি যদি বেরিয়ে আসেন, তিনি যদি এই দানবীয় সরকারের পতনের ডাক দেন তাহলে হ্যামিলনের বংশীবাদকের মতো লাখ লাখ মানুষ রাজপথে বেরিয়ে এসে এই সরকারের পতন ঘটাবে। এই ভয়ে তারা দেশনেত্রী খালেদা জিয়াকে আটক করে রেখেছে। তিনি এখন জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে। 

ডাক্তাররা পর্যন্ত প্রেস কনফারেন্স করে বলেছেন, বেগম জিয়াকে এখনই বিদেশে পাঠানো দরকার, যদি তার জীবন রক্ষা করতে হয়। কিন্তু তারা শুনছেন না। আমরা সারা দেশে গণঅনশন করেছি, সমাবেশ করেছি। একটাই দাবি জানিয়ে আসছি যে, বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্তি দিয়ে তাকে চিকিৎসার সুযোগ দিন। কিন্তু তারা তা দিচ্ছে না। আমরা বারবার তাদের বলেছি, আপনারা মানবিক কারণে বাধা দেবেন না। তাও তারা শুনছে না। কিন্তু আইন দেখান আইনমন্ত্রী।’
 

দয়া করে খবরটি শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

এই ক্যাটাগরিতে আরো যেসব খবর রয়েছে
All rights reserved © UKBDTV.COM
       
themesba-lates1749691102