বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬, ০৪:০০ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
প্যারিসে প্রদর্শিত হলো প্রামাণ্যচিত্র ভাসমান জীবন অতিবৃষ্টিতে তলিয়ে গেছে ৪শত হেক্টরের পাকা ফসল মাদকাসক্ত যুবকের ছুরিকাঘাতে পিতার পর বড়ভাইয়ের মৃত্যু প্রেস মিনিস্টার গোলাম মুর্তুজার সাথে বাংলাদেশি-আমেরিকান প্রবাসী কমিউনিটির মতবিনিময় অনুষ্ঠিত ব্রিটিশ নাগরিকত্ব জন‍্য বিয়ে প্রকাশিত ছাত্রীকে শ্লীলতাহানির দায়ে প্রধান শিক্ষক আটক পঞ্চগড়ে বজ্রপাতে এক শ্রমিকের মৃত্যু ফুয়েল কার্ড চেক করার সময় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার ওপর হামলা পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রীকে কটাক্ষের দায়ে যুবক আটক স্বপ্না ফিজিওথেরাপি ও হিজামা সেন্টারের বিরুদ্ধে মিথ্যা সংবাদ প্রকাশের প্রতিবাদ

রিজার্ভ এখন শুধু কমছে

সংবাদদাতার নাম :
  • খবর আপডেট সময় : শুক্রবার, ১৯ নভেম্বর, ২০২১
  • ২২৮ এই পর্যন্ত দেখেছেন

অর্থনৈতিক ডেস্ক: চলতি বছরের গত আগস্টে ইতিহাস গড়েছিল বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ। কিন্তু এরপর থেকেই রিজার্ভ আর বাড়ছে না।সেপ্টেম্বর থেকেই সেই রিজার্ভ কমতে কমতে এখন ৪৪ বিলিয়ন ডলারে এসেছে। গত আড়াই মাসে ৪ বিলিয়নেরও বেশি ডলার কমে গেছে।

স্বাধীন বাংলাদেশের ইতিহাসে গত ২৪ আগস্ট প্রথমবারের মতো ৪৮ দশমিক ৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের নতুন রেকর্ড গড়ে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ।  গত ১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এই রেশ ছিল। কিন্তু সেপ্টেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহের শুরুতেই ধাক্কা খেল রিজার্ভ। ২ বিলিয়ন কমে নেমে গেল ৪৮ এ। তার একমাস পর গতকাল (১৭ নভেম্বর) এই রিজার্ভ ৪৪ বিলিয়ন ডলারে নেমে আসে।

বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রকাশিত হালনাগাদ প্রতিবেদন বলছে, বর্তমানে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৪৪ বিলিয়ন বা ৪ হাজার ৪৯৫ কোটি ডলার।

বাংলাদেশ, ভুটান, ভারত, ইরান, মিয়ানমার, নেপাল, পাকিস্তান, শ্রীলংকা ও মালদ্বীপ- এই ৯টি দেশ বর্তমানে আকুর সদস্য। এই দেশগুলো থেকে বাংলাদেশ যেসব পণ্য আমদানি করে তার বিল দুই মাস পরপর আকুর মাধ্যমে পরিশোধ করতে হয়। আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী, একটি দেশের কাছে অন্তত তিন মাসের আমদানি ব্যয় মেটানোর সমপরিমাণ বিদেশি মুদ্রার মজুদ থাকতে হয়।

রিজার্ভ এভাবে কমতে শুরু করার কারণ হিসেবে অর্থনীতিবিদদের ভাষ্য, রপ্তানি আয় বাড়লেও অস্বাভাবিকভাবে আমদানি ব্যয় বেড়েছে। একইসঙ্গে অস্বাভাবিকভাবে প্রবাসী আয়ও (রেমিটেন্স) কমেছে। ফলে ডলারের ওপর চাপ তৈরি হওয়ায় রিজার্ভে প্রভাব পড়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য পর্যালোচনায় দেখা যায়, গত বছর মহামারিকালে মাত্র ৪ মাসের ব্যবধানে রিজার্ভে ৮ বার রেকর্ড হয়েছে। কিন্তু এ বছর তেমনটা হচ্ছে না। রেমিটেন্স আসাও কমে যাচ্ছে। 

২০১৯ সালের ১ জুলাই থেকে প্রবাসীদের পাঠানো রেমিটেন্সে ২ শতাংশ হারে প্রণোদনা দিচ্ছে সরকার। অর্থাৎ কোনো প্রবাসী ১০০ টাকা দেশে পাঠালে তার সঙ্গে আরও ২ টাকা যোগ করে ১০২ টাকা পাচ্ছেন সুবিধাভোগী। এছাড়া ঈদ ও উৎসবে বিভিন্ন ব্যাংক ও মোবাইল ব্যাংকিংয়ের সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান সকারের প্রণোদনার সঙ্গে বাড়তি আরও এক শতাংশ দেওয়ার অফার দিয়ে আসছে। এতে করে বৈধ চ্যানেলে রেমিটেন্স পাঠাতে উৎসাহী হয়ে উঠেন প্রবাসীরা। কিন্তু গত কয়েক মাস ধরে আবার নেতিবাচক ধারায় নেমে আসে রেমিটেন্স। 

সংশ্নিষ্টরা বলছেন, গত বছরের শুরুতে মহামরি করোনার কারণে প্রবাসীরা এক ধরনের অনিশ্চয়তা থেকে তাদের জমানো টাকা দেশে পাঠিয়েছিলেন। অনেকে চাকরি হারিয়ে কিংবা ব্যবসা-বাণিজ্য বন্ধ করে সব অর্থ দেশে এনেছেন। এ ছাড়া গত বছরের শুরুতে করোনার স্থবিরতার কারণে হুন্ডি প্রবণতা কমে যায়। ফলে ব্যাংকিং চ্যানেলে পাঠানো অর্থের অংক বেড়ে যায়। এসব কারণে মহামারির মধ্যেও রেমিটেন্স প্রবাহ বেড়েছিল। এখন অনেকে দেশে এসে আটকা পড়েছেন। আবার অনেক প্রবাসী নতুন করে ব্যবসা শুরু করতে গিয়ে দেশে রেমিটেন্স পাঠানো কমিয়ে দিয়েছেন। হুন্ডিও আবার বাড়ছে। এসব কারণে রেমিটেন্স নেতিবাচক ধারায় রয়েছে।

২০২০ সালের অক্টোবরে বাংলাদেশের রিজার্ভ প্রথম ৪০ বিলিয়ন ডলারের মাইলফলক অতিক্রম করে। তারপর থেকে রেমিটেন্সের ওপর ভর করে রেকর্ডের পর রেকর্ড গড়ে সে বছরের ডিসেম্বরেই রিজার্ভ ৪২ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যায়। 

স্বাধীনতার পর বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রথম বার্ষিক রিপোর্টে (১৯৭১-১৯৭৩) বলা হয়, স্বাধীনতা প্রাপ্তির পরপর বাংলাদেশের কোনো বৈদেশিক মুদ্রা সঞ্চয় ছিল না। কিন্তু ইতোমধ্যেই বাংলাদেশ আস্তে আস্তে তার বৈদেশিক মুদ্রা সঞ্চয় করে নিয়েছে। ১৯৭২ সালের ৩০ জুন রিজার্ভ ছিল ১১০ কোটি ৫০ লাখ টাকা।  তার পরের বছরের ২৯ জুনে স্বাধীন দেশের রিজার্ভ বেড়ে দাঁড়ায় ১২৫ কোটি ৩৪ লাখ টাকা।

দয়া করে খবরটি শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

এই ক্যাটাগরিতে আরো যেসব খবর রয়েছে
All rights reserved © UKBDTV.COM
       
themesba-lates1749691102