মঙ্গলবার, ০২ জুন ২০২৬, ১২:১৯ পূর্বাহ্ন

কিংবদন্তি নেতা তোফায়েল আহমেদের প্রয়াণে বিভিন্ন মহলের শোক প্রকাশ

ইউকে বিডি টিভি নিউজ ডেস্ক
  • খবর আপডেট সময় : মঙ্গলবার, ২ জুন, ২০২৬
  • ৬ এই পর্যন্ত দেখেছেন

প্রবীণ রাজনীতিবিদ, সাবেক মন্ত্রী, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা তোফায়েল আহমেদ আর নেই (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। উনসত্তরের গণ-অভ্যুত্থান ও মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম এই সংগঠক সোমবার(১ জুন) বেলা সাড়ে তিনটায় রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেছেন। তাঁর বয়স হয়েছিল ৮২ বছর।

তোফায়েল আহমেদের জামাতা ডা. তৌহিদুজ্জামান তুহিনের বরাত দিয়ে জানা যায় তোফায়েল আহমেদ চিকিৎসাধীন অবস্থায় আজ হাসপাতালে ইন্তেকাল করেছেন।

তোফায়েল আহমেদ ১৯৪৩ সালের ২২ অক্টোবর ভোলা সদর উপজেলার দক্ষিণ দিঘলদী ইউনিয়নের কোড়ালিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৬৭ থেকে ১৯৬৯ সাল পর্যন্ত তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি ছিলেন। ৬৯-এর গণ-অভ্যুত্থানে নেতৃত্বস্থানীয় ভূমিকা রেখে দেশজুড়ে পরিচিতি পান তিনি।

১৯৭০ সালের নির্বাচনে মাত্র ২৭ বছর বয়সে তোফায়েল আহমেদ পাকিস্তান জাতীয় পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন। তিনি ৯ বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। একাধিকবার মন্ত্রী হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। আমৃত্যু তিনি আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য ছিলেন।

১৯৬৯-এর ২৩ ফেব্রুয়ারি শেখ মুজিবুর রহমানকে ‘বঙ্গবন্ধু’ উপাধিতে ভূষিত করা হয়। সেদিন ঐতিহাসিক রেসকোর্স ময়দানে লাখো জনতার সমাবেশে ‘সর্বদলীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ’-এর বিশাল গণসংবর্ধনায় তখনকার ছাত্রলীগের সভাপতি ও ডাকসু ভিপি তোফায়েল আহমেদ বাঙালি জাতির পক্ষ থেকে শেখ মুজিবকে ‘বঙ্গবন্ধু’ উপাধিতে ভূষিত করেন। পরে এই নামটিই হয়ে ওঠে বাঙালির স্বাধীনতার প্রতীক।

বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসে ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ অবিস্মরণীয় একটি দিন। বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ভাষণের আগে ও পরে রাজনৈতিক পরিস্থিতি সংগঠিত রাখতে ছাত্রনেতাদের ভূমিকা ছিল গুরুত্বপূর্ণ।

বাদ মাগরিব ধানমন্ডির তাকওয়া মসজিদ প্রাঙ্গণে তোফায়েল আহমেদের প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। আগামীকাল মঙ্গলবার (২ জুন) নিজ জেলা ভোলাতেও জানাজা নামাজ শেষে নিজ গ্রামে তাঁকে দাফন করা হবে।

পরিবারের সদস্য ও ঘনিষ্ঠজনেরা জানান, দীর্ঘদিন ধরে বার্ধক্যজনিত নানা জটিলতায় ভুগছিলেন তোফায়েল আহমেদ। মৃত্যুকালে তিনি এক মেয়েসহ অসংখ্য শুভানুধ্যায়ী রেখে গেছেন।

স্কয়ার হাসপাতাল সুত্রে জানা যায়, গত ২৪ সেপ্টেম্বর তোফায়েল আহমেদ নিউমোনিয়াজনিত শ্বাসকষ্ট, হৃদরোগ ও শারীরিক দুর্বলতা নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন।

রাজনৈতিক ইতিহাসের জীবন্ত কিংবদন্তী তোফায়েল আহমেদের মৃত্যুতে দেশ বিদেশের বিভিন্ন মহল শোক ও সমবেদনা জানিয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক এম এ সালাম,  যুক্তরাষ্ট্র বঙ্গবন্ধু পরিষদের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা ড. নুরুন নবী, সাবেক মেয়র আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী প্রমূখ।

ইউকে বিডি টিভির পক্ষ থেকে ইউকে বিডি টিভির চেয়ারম্যান মোহাম্মদ মকিস মনসুর এবং ম্যানেজিং ডিরেক্টর ইঞ্জিনিয়ার খায়রুল আলম লিংকন সহ সকল ডিরেক্টর ও উপদেষ্টাবৃন্দ এক যুক্ত শোকবার্তায় বর্ষিয়ান রাজনীতিবিদ, ১৯৬৯ এর গণঅভ্যুত্থানের কিংবদন্তী ছাত্রনেতা,বরেণ্য রাজনীতিবিদ, কিংবদন্তি পুরুষ, মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক, বঙ্গবন্ধুর ঘনিষ্ঠ সহচর, সাবেক সফলমন্ত্রী,জননেতা তোফায়েল আহমেদের মৃত্যুতে গভীর শোক ও শোকাবহ পরিবারবর্গ এর প্রতি সমাবেদনা সহ মহাণ আল্লাহু রাব্বুল আলামিন যেনো এই ভালোমানুষটিকে জান্নাতবাসী করেন এই দোয়া করার জন্য সবার প্রতি বিনীতভাবে অনুরুধ জানিয়েছেন।

শোকবার্তায় ইউকে বিডি টিভির চেয়ারম্যান ও যুক্তরাজ্য ওয়েলস আওয়ামী লীগের সভাপতি মোহাম্মদ মকিস মনসুর বলেন আমাদের গৌরব ও গর্বের প্রতীক”
রাজনৈতিক ইতিহাসের কিংবদন্তির দীর্ঘ সংগ্রামী
বর্ণাঢ্য জীবনের জীবন্ত অধ্যায় আজ চিরতরে বন্ধ হয়ে গেল।
উনসত্তরের গণ-অভ্যুত্থানের সেই উত্তাল দিনগুলো, রেসকোর্স ময়দানে দাঁড়িয়ে শেখ মুজিবুর রহমানকে ‘বঙ্গবন্ধু’ উপাধিতে ভূষিত করা,কিংবা একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে মুজিব বাহিনীর অন্যতম প্রধান হিসেবে নেতৃত্ব দেওয়া- বাংলাদেশের ইতিহাসের প্রতিটি বাঁকে জড়িয়ে থাকবে উনার নাম।

তাঁর প্রজ্ঞা, রাজনৈতিক দূরদর্শিতা, সাংগঠনিক দক্ষতা ও দেশের প্রতিটি ক্রান্তিলগ্নে তাঁর আপসহীন ভূমিকা তরুণ প্রজন্মকে যুগ যুগ ধরে অনুপ্রাণিত করবে। এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম, গণতান্ত্রিক আন্দোলন ও জাতির রাজনৈতিক ইতিহাসে তার অবদান জাতি চিরদিন শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে বলে তিনি অভিমত ব্যাক্ত করেছেন।একজন রাজনীতিবিদের মৃত্যুতে শুধু একটি নামের বিদায় ঘটে না, বিদায় নেয় একটি ইতিহাস, একটি সংগ্রামী অধ্যায় এবং অসংখ্য স্মৃতি। তোফায়েল আহমেদ ছিলেন বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের এক গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষী ও অংশীদার। উনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান থেকে শুরু করে দেশের বিভিন্ন গণতান্ত্রিক আন্দোলনে তাঁর ভূমিকা ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

উল্লেখ্য যে, ইউকে বিডি টিভির বিভিন্ন লাইভ অনুষ্ঠানে একাধিক বার তিনি অংশ নিয়েছেন।এক অনুষ্ঠানে যখন তোফায়েল আহমেদকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল—মন্ত্রীত্ব, ক্ষমতা, সম্মান—এসবের মধ্যে তার সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি কী?
তিনি উত্তরে বলেন ,“বঙ্গবন্ধুর সান্নিধ্য।”

তোফায়েল আহমেদের জীবন ও কর্ম বাংলাদেশের জাতীয় ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। ছাত্রনেতা হিসেবে গণঅভ্যুত্থানে অবদান, মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ, বঙ্গবন্ধুর ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে রাজনৈতিক দায়িত্ব এবং পরবর্তীতে সাংসদ ও মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে তিনি বাংলাদেশের মানুষের কাছে এক প্রিয় ব্যক্তিত্বে পরিণত হয়েছেন।

বিশিষ্ঠজনের মধ‍্যে সাংবাদিক সুজাত মনসুর, শাহীন আজমল, জামাল আহমদ খান, ইসলাম উদ্দিন, রুহুল আমীন রুহেল, মোহাম্মদ জাকারিয়া, আব্দুর রউফ তালুকদার, নুরুল ইসলাম, সাংবাদিক আজিজুল আম্বিয়া মরহুমের মৃত্যুতে গভীর শোকপ্রকাশ করে বিবৃতি প্রদান করেছেন।

দয়া করে খবরটি শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

এই ক্যাটাগরিতে আরো যেসব খবর রয়েছে
All rights reserved © UKBDTV.COM
       
themesba-lates1749691102