মঙ্গলবার, ২৬ মে ২০২৬, ০৩:০১ অপরাহ্ন

সিলেট জেলার গোলাপগঞ্জ উপজেলার ঢাকাদক্ষিণে

হাইকোর্টের আদেশ অমান্য‍ করে ডাক বাংলা পুকুর ভরাটের অভিযোগ

সিলেট সংবাদদাতা
  • খবর আপডেট সময় : মঙ্গলবার, ২৬ মে, ২০২৬
  • ৪ এই পর্যন্ত দেখেছেন

সিলেট জেলার গোলাপগঞ্জ উপজেলার ঢাকাদক্ষিণ ডাক বাংলা পুকুর ভরাটের অভিযোগ উঠেছে। একটি ভূমি খেকো চক্র উঠে পড়েছে লেগেছে পুকুর ভরাট করে মার্কেট নির্মাণ করতে। হাইকোর্টের জারিকৃত রুল ও স্টেটাস্কো আদেশ অমান্য করে মার্কেট নির্মাণ অব্যাহত রাখায় পরিবেশবাদীরা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

সোমবার (২৫ মে) পরিবেশ ও ঐতিহ্য সংরক্ষণ ট্রাস্ট সিলেটের পক্ষ থেকে একটি প্রতিনিধি দল গোলাপগঞ্জে ঢাকাদক্ষিণে অবস্থিত ডাকবাংলা পুকুর পরিদর্শন করেন।

জানা যায়, সম্প্রতি হাইকোর্টের আইনজীবী এডভোকেট খায়রুল আলম পুকুর ভরাট করে মার্কেট নির্মানের বিষয়ে জনস্বার্থে একটি মামলা দায়ের করলে মহামান্য হাইকোর্ট বিতর্কিত ভূমির ওপর তিন মাসের জন্য স্থিতাবস্থা (Status Quo)  বজায় রাখার নির্দেশ  দেয়।

বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের মাননীয় বিচারপতি মো. ইকবাল কবির এবং বিচারপতি এস এম সাইফুল ইসলামের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ বুধবার (২০ মে)  এ আদেশ দেন।

রিটকারী এডভোকেট খায়রুল আলম জনস্বার্থে করা মামলায় জানান, সিলেট জেলার গোলাপগঞ্জ উপজেলার দত্তরাইল মৌজায় অবস্থিত সরকারি পুকুর ভরাট করে মার্কেট নির্মাণের কাজ চলমান রয়েছে, যা পরিবেশ ও জনস্বার্থের পরিপন্থী। এই রিটের  প্রেক্ষিতে আদালত রুলে জানতে চেয়েছেন কেন পুকুরের ওপর মার্কেট নির্মাণকে বেআইনি ঘোষণা করা হবে না, কেন নির্মাণকাজ বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হবে না এবং কেন পুকুরটিকে পূর্বের প্রাকৃতিক অবস্থায় পুনরুদ্ধারের নির্দেশ দেওয়া হবে না।
এছাড়া আদালত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে পুকুরের শ্রেণি পরিবর্তন, ভরাট কার্যক্রম ও নির্মাণকাজ সংক্রান্ত অনুমতির বিস্তারিত তথ্য ৩০ দিনের মধ্যে আদালতে দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন। এই রীটের বিষয়ে অবগত হয়ে পরিবেশবাদীরা পুকুরটি আজ পরিদর্শন করেন।

পরিবেশ ও ঐতিহ্য সংরক্ষণ ট্রাস্ট, সিলেট এর চেয়ারম্যান ডা. মোস্তফা শাহজামান চৌধুরী (বাহার) এর নেতৃত্বে পরিদর্শন দলে অন্যানের মধ্যে ছিলেন ট্রাস্টি ও ধরিত্রী রক্ষায় আমরা (ধরা) কেন্দ্রীয় আদায় কমিটির সদস্য আব্দুল করিম কিম, ট্রাস্টি ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী গোলাম সোবহান চৌধুরী (দীপন), ট্রাস্টি রেজাউল কিবরিয়া, ঐতিহ্য গবেষক আসিফ আজহার, পরিবেশকর্মী রোমেনা রোজী, তাপস পুরকায়স্থ ও নাহিদ পারবেজ বাবু।

পরিদর্শন শেষে আব্দুল করিম কিম বলেন, ২০২০/২০২১ সালেও জেলা পরিষদ মার্কেট নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছিল। তবে স্থানীয় জনগণ ও পরিবেশবাদীদের প্রতিবাদে তা বাস্তবায়ন সম্ভব হয়নি। তবে ৫ আগস্টের পটপরিবর্তনের সুযোগে দ্রুততার সাথে মার্কেট নির্মাণের উদ্যোগ নেয় একটি ভূমিখেকো চক্র। যেই চক্রের সাথে সম্পৃক্ততা রয়েছে জেলা পরিষদের কিছু অসাধু কর্মকর্তার।

ডা. মোস্তফা শাহজামান চৌধুরী বলেন, প্রাকৃতিক জলাধার ধ্বংস করে কোনো ধরনের স্থাপনা নির্মাণ জনস্বার্থের পরিপন্থী। পুকুর ও জলাভূমি সংরক্ষণ পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

রিটের পিটিশনার আইনজীবি খায়রুল আলম বলেন, এই সম্পত্তিটি মূলত প্রখ্যাত জমিদার কালী প্রসাদ দত্ত চৌধুরী স্থানীয় জনগণের কল্যাণের জন্য ভূমি ও পুকুর দান করে ছিলেন। সেই স্থানে পরবর্তীতে সরকার চিকিৎসা কেন্দ্র, ডাকবাংলো ও সরকারি কোয়ার্টার নির্মাণ করে। কিন্তু সম্প্রতি ব্যক্তিস্বার্থে সেখানে মার্কেট নির্মাণ করা হচ্ছে। জনস্বার্থে তাই আদালতের দ্বারস্থ হয়েছি।

পরিদর্শন শেষে পরিবেশবাদীরা ঢাকাদক্ষিণ ইউনিয়ন পরিষদ ভবনে স্থানীয় বিশিষ্টজন এর সাথে এক মতবিনিময় সভায় মিলিত হন। এতে উপস্থিত ছিলেন ঢাকাদক্ষিণ ইউনিয়ন পরিষদের  চেয়ারম্যান এস এম আব্দুর রহিম, ঢাকাদক্ষিণের বিশিষ্ট মুরুব্বি শাহ জামাল, কবির আহমদ, যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী মিছবাহ আহমদ, সাংবাদিক মাহফুজ আহমদ চৌধুরী, আজিজ খান, জাবেদ মাহবুব প্রমুখ।

দয়া করে খবরটি শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

এই ক্যাটাগরিতে আরো যেসব খবর রয়েছে
All rights reserved © UKBDTV.COM
       
themesba-lates1749691102