

রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছেন সাবেক সংসদ সদস্য ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক গোলাম মাওলা রনি। সম্ভাব্য রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে দায়িত্ব গ্রহণের পর কী ধরনের চ্যালেঞ্জ সামনে আসতে পারে সে বিষয়ে বিশদ বিশ্লেষণ করেন।
সম্প্রতি এক বক্তব্যে তিনি বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান-এর প্রতি একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সতর্ক বার্তা তুলে ধরেছেন।
গোলাম মাওলা বলেন, তারেক রহমানের আশেপাশের লন্ডন থেকে আশা কিছু লোক ঘিরে রেখেছে তাদের কারণে দলের নেতাকর্মীরা তার কাছে ভিড়তে পারছে না এটা এখনই দূর করতে হবে। বৈদেশিক বিনিয়োগের ব্যাপারে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেন গোলাম মাওলা রনি।
তিনি আরও বলেন, ক্ষমতায় আসা যতটা কঠিন, তার চেয়ে বেশি কঠিন ক্ষমতা ধরে রাখা। নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই দেশের প্রকৃত অর্থনৈতিক চিত্র স্পষ্টভাবে বুঝে নিতে হবে।
রনি বলেন, শুধু সরকারি ব্রিফিংয়ের ওপর নির্ভর না করে ব্যাংকিং খাতের শীর্ষ কর্মকর্তাদের, অবসরপ্রাপ্ত অভিজ্ঞ অর্থনীতিবিদ এবং আর্থিক খাতের নিরপেক্ষ বিশেষজ্ঞদের নিয়ে ধারাবাহিক বৈঠক করা প্রয়োজন। বৈদেশিক ঋণের পরিমাণ, রিজার্ভের অবস্থা, ব্যাংকিং খাতের তারল্য সংকট এবং মুদ্রাস্ফীতির প্রকৃত চিত্র না বুঝলে যেকোনো সরকার শুরুতেই হোঁচট খেতে পারে।
মুদ্রার মান অবমূল্যায়ন ও দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধিকেও তিনি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, জনগণের ক্রয়ক্ষমতা কমে গেলে রাজনৈতিক অস্থিরতা তৈরি হয়। তাই বাজার নিয়ন্ত্রণ, ডলার সংকট মোকাবিলা এবং খাদ্য ও জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা হবে প্রথম দিকের অগ্রাধিকার।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও কঠোর অবস্থানের আহ্বান জানিয়ে রনি বলেন, ক্ষমতায় এলে দলীয় পরিচয়ে কেউ অপরাধ করলে তার বিরুদ্ধে দৃশ্যমান ব্যবস্থা না নিলে জনগণের আস্থা দ্রুত নষ্ট হবে। নিজ দলের অপরাধীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে না পারলে সরকার নৈতিক অবস্থান হারাবে।প্রশাসনকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত রেখে পেশাদারিত্বের ভিত্তিতে কাজ করতে দিতে হবে।
দলীয় ঐক্যের বিষয়েও সতর্ক করেন তিনি। দীর্ঘদিন আন্দোলন-সংগ্রামে থাকা তৃণমূল নেতাকর্মীদের যথাযথ মূল্যায়ন না করা হলে অভ্যন্তরীণ বিভাজন তৈরি হতে পারে বলে মন্তব্য করেন রনি। বিদেশভিত্তিক বা কেন্দ্রীয় বলয়ের সঙ্গে মাঠপর্যায়ের নেতাদের সমন্বয় নিশ্চিত করা জরুরি। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-এর ভেতরে শৃঙ্খলা ও সমন্বয় রক্ষা হবে অন্যতম চ্যালেঞ্জ।
প্রশাসন, ব্যাংক ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়োগ প্রসঙ্গেও তিনি গুরুত্বারোপ করেন। রনির মতে, দলীয় বিবেচনার বদলে দক্ষতা, সততা ও অভিজ্ঞতাকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে যোগ্য নেতৃত্ব নিশ্চিত না হলে শিক্ষাঙ্গনে অস্থিরতা বাড়তে পারে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের বিষয়ে তিনি সংযত ও কৌশলী অবস্থানের পরামর্শ দেন। প্রতিশোধপরায়ণ মনোভাবের পরিবর্তে আইনের শাসনের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আহ্বান জানান। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দৃষ্টি সবসময় বাংলাদেশের রাজনীতির ওপর থাকে, ফলে যেকোনো কঠোর পদক্ষেপ কূটনৈতিক প্রভাব ফেলতে পারে।
সব মিলিয়ে গোলাম মাওলা রনির বক্তব্যে স্পষ্ট বার্তা হলো,সম্ভাব্য ক্ষমতার পথ যতই উন্মুক্ত হোক না কেন, সামনে রয়েছে বহুমাত্রিক চ্যালেঞ্জ। অর্থনীতি, আইনশৃঙ্খলা, দলীয় ঐক্য ও প্রশাসনিক দক্ষতা—এই চার স্তম্ভ মজবুত করতে না পারলে রাজনৈতিক সাফল্য দীর্ঘস্থায়ী হবে না। তার এই মন্তব্য রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিশ্লেষণ ও বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।