

মুশফিকুর রহিমের রেকর্ড সেঞ্চুরি ও চার ফিফটিতে পাকিস্তানের বিপক্ষে রাওয়ালপিন্ডিতে প্রথম টেস্টের প্রথম ইনিংসে ৫৬৫ রান তুলেছে বাংলাদেশ। এর আগে ৬ উইকেট হারিয়ে ৪৪৮ রান তুলে প্রথম ইনিংস ঘোষণা করেছিল পাকিস্তান। এতে প্রথম ইনিংসে ১১৭ রানের লিড পেলো সফরকারী দল।
শনিবার (২৪ আগস্ট) ১৩২ রানে পিছিয়ে থেকে চতুর্থ দিনের খেলা শুরু করে বাংলাদেশ। দিনের শুরুতেই শতরান পেরিয়ে যায় মুশফিকুর ও লিটন জুটি। তবে এরপর বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি লিটন।
চতুর্থ দিনের নবম ওভারে নাসিমের হাত ধরে প্রথম সাফল্য পায় পাকিস্তান। নাসিমের অফ-স্টাম্পের বাইরে শট লেংথের ডেলিভারি কাট করতে চেয়েছিলেন লিটন। তবে ব্যাটের কিনারায় লেগে সরাসরি উইকেটকিপার মোহাম্মদ রিজওয়ানের হাতে গিয়ে পড়ে। লিটন ফেরায় তাদের ১১৪ রানের জুটি ভাঙে। ফেরার আগে ৫৬ রানের ইনিংস সাজান উইকেটকিপার এই ব্যাটার।
এরপর মিরাজকে সঙ্গে গিয়ে দলীয় রানের চাকা সচল রাখেন মুশফিক। পিচ আঁকড়ে ধরে ক্যারিয়ারের ১১তম সেঞ্চুরি তুলে নেন উইকেটকিপার এই ব্যাটার। দ্য গ্রিন ম্যানদের বিপক্ষে এটি তার প্রথম সেঞ্চুরি। সব মিলিয়ে তৃতীয় বাংলাদেশি হিসেবে পাকিস্তানের মাটিতে তিন অঙ্কের ম্যাজিক ফিগার ছুঁলেন মুশি। এই সেঞ্চুরিতে তামিম ইকবালকেও (১০টি সেঞ্চুরি) যান তিনি। তার সেঞ্চুরির পরপর ৬ উইকেট হারিয়ে ৩৮৯ রান নিয়ে মধ্যাহ্নবিরতিতে যায় লাল-সবুজেরা।
বিরতি থেকে ফেরার পর দেখেশুনে খেলে দেড়শ রানের মাইলফলক স্পর্শ করেন মুশি। ২৮৬ বলে ১৫০ ছুঁয়ে ফেলেন তিনি। এর আগে, চতুর্থ দিনের দ্বিতীয় সেশনে প্রথম ইনিংসের ১৩৭তম ওভারে লিড নেয় বাংলাদেশ।
এরপর মিরাজও ফিফটির দেখা পেয়ে যান। ক্যারিয়ারের সপ্তম হাফ-সেঞ্চুরি তুলে নেন তিনি। চা-বিরতির আগে ১২৪ বলে ৫০ রান করে অপরাজিত থাকেন মিরাজ। অন্যপ্রান্তে ৩১৪ বলে ১৭৩ রান করে অপরাজিত ছিলেন মুশফিক। শেষমেশ ৬ উইকেট হারিয়ে ৪৯৫ রান নিয়ে চা বিরতিতে গিয়েছিল বাংলাদেশ।
চা-বিরতির পর সাবলীল ব্যাটিংয়ে দলীয় রান পাঁচশ পার করেন মুশফিক-মিরাজ। এরপর মুশফিকের ডাবল সেঞ্চুরির দিকে নজর ছিল সবার। তবে মোহাম্মদ আলির অফস্টাম্পের বাইরে লাফিয়ে ওঠা বলে খোঁচা মেরে বসেন তিনি। এরপর নিজের হতাশা লুকাতে পারেননি তিনি। ১৯১ রান করে উইকেটের পেছনে রিজওয়ানের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন উইকেটকিপার এই ব্যাটার।
তার বিদায়ে ৫২৮ রানে সপ্তম উইকেট হারায় বাংলাদেশ। এতে মিরাজের সঙ্গে তার ১৯৬ রানের জুটিও ভাঙে।
এরপর মিরাজের সেঞ্চুরির সম্ভাবনাও জেগেছিল। তবে আগ্রাসী হতে গিয়ে ৭৭ রানে থামেন তিনি।
শেষদিকে শরীফুল ইসলামের ঝোড়ো ইনিংসে সাড়ে পাঁচ শ পার হয় বাংলাদেশের পুঁজি। ১৪ বলে সমান দুটি করে চার-ছক্কায় ২২ রান করেন এই পেসার। তার বিদায়েই ৫৬৫ রানে বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস শেষ হয়।
পাকিস্তানের হয়ে সর্বোচ্চ ৩ উইকেট নেন নাসিম শাহ। আর শাহিন আফ্রিদি, খুররম শাহজাদ ও মোহাম্মদ আলি দুটি করে উইকেট নিয়েছেন।
এর আগে, দ্বিতীয় দিনে ৬ উইকেট হারিয়ে ৪৪৮ রানে প্রথম ইনিংস ঘোষণা করে পাকিস্তান। রিজওয়ান ২৩৯ বলে ১৭১ রানে এবং শাহিন শাহ আফ্রিদি ২৪ বলে ২৯ রানে অপরাজিত থাকেন। এ ছাড়া সৌদ শাকিল করেন ১৪১ রান।
লাল-সবুজের হয়ে বল হাতে সর্বোচ্চ দুটি করে উইকেট নেন হাসান ও শরিফুল। এ ছাড়া সাকিব এবং মেহেদীর শিকার একটি করে উইকেট।
নিউজ /এমএসএম