শনিবার, ২০ জুন ২০২৬, ১০:১৯ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে যুক্তরাজ্যের হাইকমিশনার এর সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত পর্যটনের বিকাশে শুরু হচ্ছে ‘হারমোনি ফেস্টিভ্যাল সিজন ২ বিদ্যুতের প্রিপেইড মিটার রিচার্জে ভোগান্তিতে গ্রাহকরা মহররম মাসের গুরুত্ব ও ফজিলত সাবেক মন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ স্মরণে সভা অনুষ্ঠিত সিলেটে শীঘ্রই চালু হচ্ছে ২৫০ শয্যা হাসপাতাল শ্রীমঙ্গলের উন্নয়নে প্রধানমন্ত্রীর কাছে প্রত্যাশা প্রধানমন্ত্রীর মৌলভীবাজার সফর উপলক্ষে চলছে ব্যাপক প্রস্তুতি স্বাদ, সংস্কৃতি ও সম্প্রীতির মিলনমেলায় বিগ-হালাল ফুড ফেস্টিভ্যাল অনুষ্ঠিত চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের চ্যালেঞ্জ মোকবেলায় বিশ্বমানের উদ্যোক্তা তৈরি করতে হবে— মোঃ আব্দুর রফিক

সংকটের সমাধানে প্রয়োজন জেনারেশনকে বোঝা

অধ্যাপক ডা. সৈয়দ মোদাচ্ছের আলী
  • খবর আপডেট সময় : রবিবার, ৪ আগস্ট, ২০২৪
  • ১২০ এই পর্যন্ত দেখেছেন
আমি নিজেকে খুব সৌভাগ্যবান মনে করি কেননা আমি ৬০ দশকে ছাত্র রাজনীতির নেতৃত্ব ছিলাম। সেসময় আমি ঢাকা মেডিকেল কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি এবং কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি ছিলাম। ৬০ এর দশকে ছাত্র রাজনীতি আমরা যে আঙ্গিকে করেছি এবং যেই মানসিকতা নিয়েছি তার সাথে বর্তমান প্রজন্মের ছাত্ররা যে আন্দোলনের একটি জেনারেশন গ্যাপ আছে। এর একটি উদহারণ হিসেবে বলা যায়, আমাদের সময় যাদের সাথে আন্দোলন করবো বা যাদের কাছ থেকে আন্দোলনের বুদ্ধি প্রয়োজন হতো আমরা তাদের কাছে যেতাম। এছাড়াও আমাদের প্রাপ্ত তথ্যের সীমানাও ছিল অনেক সংকীর্ণ। আর বর্তমান প্রজন্ম যা করে তা গ্লোবাল ভাবনায় করে। সুতরাং এখন এদের কাছে আমাদের পৌঁছতে হবে। যাদের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীরা আন্দোলন করছে তাদের উচিত শিক্ষার্থীদের কাছে যাওয়া। ছাত্ররা তাদের কাছে আসবে না। এ বিষয়টি যতক্ষণ বুঝবো না ততক্ষণ এ সমস্যার কোন স্থায়ী সমাধান হবে না।
আমি অত্যন্ত খুশী এই ভেবে যে, দার্শনিক শেখ হাসিনা বিষয়টি ঠিকই বুঝেছেন যা তাঁর সহকর্মীরা বুঝতে পারেন নি। যাতে তিনি এখন শিক্ষার্থীদের সাথে যোগাযোগ করার জন্য জাহাঙ্গীর কবির নানক, বাহাউদ্দিন নাছিম এবং মাহবুবউল আলম হানিফকে দায়িত্ব প্রদান করেছেন। আমার বিশ্বাস এই তিন জন অচিরেই ছাত্রদের সঙ্গে তাদের সাথে আলোচনা শুরু করবে।
একটি বিষয় লক্ষণীয়, যখন ছাত্রদের আন্দোলনের সকল দাবি মেনে হলো ঠিক তখনই ছাত্রদের আন্দোলনকে তুষের আগুনের মতো জ্বালিয়ে রাখতে বুদ্ধিজীবীরা রাস্তায় নামলো। এদের উদ্দেশ্য একটায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ক্ষমতাচ্যুত করা। যদি এই বুদ্ধিজীবীরা ১৬ তারিখের পূর্বে রাস্তায় নামতো তাহলে বুদ্ধিজীবীদের এই মাঠে নামার একটি যৌক্তিক অর্থ থাকতো। কিন্তু তারা না করে যখন কোমলমতি ছাত্র-ছাত্রীদের দাবি মেনে নেয়া হয়েছে তখন তারা রাস্তায় নামে। এবং আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় যখন জামায়াতকে নিষিদ্ধ করা হলো সেই সময় এই বুদ্ধিজীবীরা রাস্তায় নামে। এই মুহূর্তে তাদের রাস্তায় নামার একটিই অর্থ হতে পারে আর তা হলো জামায়াতকে সাহায্য করা।
কিন্তু এখানে লক্ষণীয় বিষয় এই যে, এই বুদ্ধিজীবী এবং সাংস্কৃতিক কর্মীদের মধ্যে অধিকাংশই হচ্ছে উদীচী গোষ্ঠী, যারা গণভবনের পিঠা-পুলি খেয়েছে তারা। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যেহেতু মানুষ, কোন ফেরেশতা না তাই তিনি শয়তানদের চিনতে পারেননি। এতোদিন আমার একটি বিশ্বাস ছিল, বঙ্গবন্ধু হয়তো মানুষ চিনতে ভুল করেছিলেন, কিন্তু শেখ হাসিনা তা করবেন না। কিন্তু আজ সময়ের পরিক্রমাই, এটি বলতে হয় আমার সেই বিশ্বাসটি আজ আর নেই। কেননা শেখ হাসিনার আশে-পাশে থাকা মুখোশধারীরা এই আন্দোলন চলাকালীনই তাদের ‘দাঁত’ দেখিয়ে দিয়েছে এবং বুঝিয়ে দিয়েছে তারা আসলে কি? গত বৃহস্পতিবার (৩১ জুলাই) যখন বিভিন্ন শিল্পীরা রাস্তায় নামলো তখন দেখা গেলো আওয়ামী লীগ পন্থি কিছু শিল্পী আগুনে দগ্ধ বিটিভি ভবন দেখতে গেলেন। অথচ তাদের যাওয়া উচিত ছিল রাজপথে। আমার বিশ্বাস ভবিষ্যতে দার্শনিক রাষ্ট্রনায়ক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যখন পিঠা-পুলি খাওয়াবেন তখন কাদের তা খাওয়াচ্ছেন তা মনে রাখবেন!
৬০ দশকের ছাত্রদের মনোভাব আর এখনকার ছাত্রদের মনোভাব এক না। বর্তমান প্রজন্মের ছাত্ররা কাউকে বিশ্বাস করতে পারে না। প্রতিদিনই একেক মন্ত্রী একেক ধরনের বিবৃতি দিচ্ছে। এতেই ছাত্ররা হারিয়েছে বিশ্বাস। আর আমলারা তাদের স্বভাব সুলভ আচরণই করছে। আমলাদের স্বভাবগত আচরণের উদহারণ আমরা ৯০’র দশকের সময়ই দেখতে পেয়েছি। সেই সময় যেসব আমলারা এরশাদের অনুগত ছিলো সেসব আমলারাই এরশাদের পতনের পর কেউ আওয়ামী লীগ কিংবা কেউ বিএনপিতে যোগ দিয়েছিলো। এটিই আমলাদের আসল চরিত্র। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আমলাদের উপর এখনও ভরসা করেন। অথচ এই সিভিল আমলারা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আধা-পয়সা কাজে লাগবে না। কাজে লাগবে দলের রাজনীতিবিদরা। কিন্তু তাদের তিনি ততোটা গুরুত্ব দিচ্ছেন না।
বর্তমানে সরকারের মধ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ছাড়া শিক্ষার্থীরা আর কাউকেই বিশ্বাস করে না। সবার প্রতিই তাদের অবিশ্বাস। সুতরাং আন্দোলনের সমন্বয়কদের সাথে যোগাযোগের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে দ্রুতই এই সমন্বয়কদের  সাথে প্রধানমন্ত্রীর আলোচনা করিয়ে দিতে হবে। চিকিৎসা বিজ্ঞানে একটি কথা প্রচলন আছে, সর্ব ঔষধের মহৌষধ হচ্ছে সাপের বিষ। মরণ ব্যাধি ক্যান্সারের চিকিৎসায় এর ব্যবহার হয়ে থাকে। আর তেমনই চলমান এই আন্দোলন থামানোর একমাত্র পন্থা হচ্ছে দার্শনিক রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনা। তার প্রতি এখনও জনগণের বিশ্বাস আছে। তাঁর সাথে আন্দোলনকারীদের সংলাপ ছাড়া এই আন্দোলন থামানো সম্ভব না।
লেখক: চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ মেডিকেল রিসার্চ কাউন্সিল।

দয়া করে খবরটি শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

এই ক্যাটাগরিতে আরো যেসব খবর রয়েছে
All rights reserved © UKBDTV.COM
       
themesba-lates1749691102