শুক্রবার, ০৩ এপ্রিল ২০২৬, ০১:৫৪ পূর্বাহ্ন

গ্রেপ্তারের পূর্বানুমতি বহাল থাকলে মামলার তদন্ত অসম্পূর্ণ থাকবে: হাইকোর্ট

সংবাদদাতার নাম :
  • খবর আপডেট সময় : শনিবার, ৩ সেপ্টেম্বর, ২০২২
  • ১৫৮ এই পর্যন্ত দেখেছেন

আদালত রির্পোটার: সরকারি কর্মকর্তাদের গ্রেপ্তারের পূর্বানুমতির বিধান বহাল থাকলে তাদের বিরুদ্ধে করা মামলার তদন্ত কোনো দিন শেষ হবে না বলে হাইকোর্টের পূর্ণাঙ্গ রায়ের একটি পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে।

শনিবার (৩ সেপ্টেম্বর) হাইকোর্টের ওয়েবসাইটে এ পর্যবেক্ষণ প্রকাশ করা হয়েছে। এতে বলা হয়, এর আগে ২৫ আগস্ট সরকারি কর্মকর্তাদের গ্রেপ্তারের পূর্বানুমতির বিধান বাতিল করে রায় দেন হাইকোর্টের বিচারপতি মজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি কাজী মো. ইজারুল হক আকন্দের বেঞ্চ। দুই বিচারপতির সইয়ের পর ওই রায়ের ১৭ পৃষ্ঠার পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে আজ শনিবার প্রকাশিত হয়েছে।

রায়ের পর্যবেক্ষণে হাইকোর্ট বলেন, আমাদের দেশে প্রচলিত রীতি (কমন প্র্যাকটিস) হচ্ছে কোনো ফৌজদারি মামলার তদন্ত শেষ হতে দীর্ঘ সময়, এমনকি বছরের পর বছর লেগে যায়। এক্ষেত্রে যদি আইনের এই বিধান (পূর্বানুমতির বিধান) বহাল থাকে, তাহলে সরকারি কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে করা ফৌজদারি মামলার তদন্ত কোনো দিন শেষ হবে না।

এদিকে এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে আবেদন করেছে রাষ্ট্রপক্ষ। এ আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গত ১ সেপ্টেম্বর আপিল বিভাগের চেম্বার বিচারপতির আদালত আগামী ২৩ অক্টোবর পর্যন্ত এই রায়ের কার্যকারিতা স্থগিত করেছেন। একই সঙ্গে রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের ওপর ওই দিন আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে শুনানির দিন ধার্য করেছেন।

২০১৮ সালের নভেম্বরে সরকারি চাকরি আইন প্রণয়ন করা হয়। ২০১৯ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে একই বছরের ১ অক্টোবর থেকে আইনটি কার্যকর হয়।

আইনটির ৪১(১) ধারার ভাষ্য, কোনো সরকারি কর্মচারীর দায়িত্ব পালনের সঙ্গে সম্পর্কিত অভিযোগে করা ফৌজদারি মামলায় আদালত কর্তৃক অভিযোগপত্র গৃহীত হওয়ার আগে তাকে গ্রেপ্তার করতে হলে সরকার বা নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষের পূর্বানুমতি গ্রহণ করতে হবে।

আইনের ধারাটি সংবিধানের কয়েকটি অনুচ্ছেদের পরিপন্থী উল্লেখ করে হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশের (এইচআরপিবি) পক্ষে তিন আইনজীবী ২০১৯ সালের ১৪ অক্টোবর হাইকোর্টে রিট করেন।

রিটের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে ২০১৯ সালের ২১ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল দেন। রুলে ২০১৮ সালের সরকারি চাকরি আইনের ৪১(১) ধারা কেন বাতিল এবং সংবিধানের ২৬, ২৭ ও ৩১ অনুচ্ছেদের সঙ্গে সাংঘর্ষিক ঘোষণা করা হবে না—তা জানতে চাওয়া হয়।

রুলের ওপর চূড়ান্ত শুনানি শেষে গত ২৫ আগস্ট হাইকোর্ট রুল অ্যাবসলিউট (যথাযথ) ঘোষণা করে রায় দেন। ফলে ফৌজদারি অভিযোগে মামলা হলে সরকারি কর্মচারীদের গ্রেপ্তারের আগে কর্তৃপক্ষের অনুমতি লাগবে না বলে সেদিন জানিয়েছিলেন রিট আবেদনকারীদের আইনজীবী মনজিল মোরসেদ।

রায়ের পর আইনজীবী মনজিল মোরসেদ আরও বলেন, আদালত রায়ে সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮-এর ৪১(১) ধারা বেআইনি, সংবিধান পরিপন্থী, মৌলিক অধিকার পরিপন্থী বলে ঘোষণা করেছেন। আদালত বলেছেন, সংবিধানের ২৭ অনুচ্ছেদে আছে, আইনের দৃষ্টিতে সবাই সমান। তারপরও ৪১(১) ধারা করে সেখানে সরকারি কর্মচারীদের আলাদাভাবে একটি সুরক্ষা দেওয়া হয়েছে। তা কোনোভাবেই সংবিধান সম্মত নয়। এ আইনটি একটি মেলাফাইড (অসৎ) উদ্দেশ্যে করা হয়েছে। তবে রায়ের কার্যকারিতা স্থগিত করায় আপাতত সরকারি কর্মচারীদের গ্রেপ্তারের পূর্বানুমতি লাগবে বলে জানান রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন।

ইউকেবিডিটিভি/ বিডি / এমএসএম

দয়া করে খবরটি শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

এই ক্যাটাগরিতে আরো যেসব খবর রয়েছে
All rights reserved © UKBDTV.COM
       
themesba-lates1749691102