

স্টাফ রিপোর্টার: এক শ্রেণির ব্যবসায়ীর কারণে বিভিন্ন সুযোগে চালের বাজার অস্থির হয়ে যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন খাদ্যমন্ত্রী সাধন কুমার মজুমদার। তাই চালের বাজার নিয়ন্ত্রণে তিন স্তরের মূল্য সংক্রান্ত তথ্য ওয়েবসাইটের মাধ্যমে প্রকাশ করার একটি পদ্ধতি চালুর পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছেন খাদ্যমন্ত্রী।
মঙ্গলবার সচিবালয়ে বাংলাদেশ সেক্রেটারিয়েট রিপোর্টার্স ফোরাম (বিএসআরএফ) আয়োজিত সংলাপে মন্ত্রী আরো বলেন, আমরা এমন একটি ওয়েবসাইট চালু করতে চাচ্ছি, সেখানে প্রতিদিন বিভিন্ন জেলার মিলাররা মিলগেইটের চালের দাম ঘোষণা করবেন, একইভাবে পাইকারি বাজারগুলোর ব্যবসায়ীরা পাইকারি বাজারের দাম ঘোষণা করবেন। আর খুচরা বাজারে চালের মূল্যও সেখানে থাকবে। এভাবেই চালের দাম নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। দেশে মিলারদের সরবরাহ করা চাল খুচরা বাজারে পৌঁছানোর পর দামের পার্থাক্য হয়ে যায় ১০ থেকে ১৫ টাকা। বাজারের এই অস্থিরতা নিয়ে পাল্টাপাল্টি দোষারোপ চলে।
অনুষ্ঠানে খাদ্যমন্ত্রী বলেন, এক শ্রেণির ব্যবসায়ীর কারণে বিভিন্ন সুযোগে চালের বাজার অস্থির হয়ে যাচ্ছে। তিনি বলেন, কয়েকদিন আগে তেলের দাম যেভাবে বেড়েছে, তাতে চালের দাম কেজিতে বড় জোর ৭০ পয়সা থেকে ১ টাকা বাড়তে পারে। কিন্তু বাজারে প্রতি কেজিতে ৭/৮ টাকা করে বেড়ে গেছে।
মিলাররা দাবি করেন যে, মিলগেইটে দাম বাড়েনি। দাম বৃদ্ধির কথা কেউ স্বীকার করে না। তাহলে দামটা বাড়ায় কে? আসলে বাজার যে রকম অস্থির, ব্যবসায়ীদের মধ্য কিছু লোক আছে যারা অস্থিরতায় থাকেন। তাদের অস্থিরতার কারণে পরিস্থিতি খারাপ হচ্ছে।
আগামী অক্টোবরের শুরু থেকে সব জেলা ও সিটি কর্পোরেশন এলাকায় ওএমএস ডিলারদের কাছে প্রতিদিন ২ টন করে আটা দেওয়া হবে বলে ঘোষণা দেন খাদ্যমন্ত্রী। তাতে খাদ্যপণ্যের বাজার ‘অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে চলে আসবে’ বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
খাদ্যমন্ত্রী বলেন, গমের সমস্যা হবে না। গম আসছে। জেলা পর্যায়ে ১ অক্টোবরে থেকে প্রতি ডিলারকে ১ টন করে বরাদ্দ দেওয়া শুরু করব। এটা প্যাকেটজাত করা যায় কিনা সেটা চিন্তা করছি। এতে দাম একটু বেশি পড়বে, কিন্তু বাজার মূল্যের চেয়ে দাম অর্ধেক হবে। এতে কালো বাজারি বন্ধ হবে বলে আশা করি। মন্ত্রী দাবি করেন, এখনও দেশে যে খাদ্যের মজুদ আছে, তাতে হাহাকারের সম্ভাবনা নেই। তারপরও ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে সরকার চাল গম আমদানি করে রাখছে।
ইউকেবিডিটিভি/ বিডি / এমএসএম