শুক্রবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৪, ০৫:২০ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
ওয়াশিংটন বাংলাদেশ দূতাবাসে ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবস পালিত ওয়েলস আওয়ামী লীগের উদ্যোগে ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবস পালিত রাণীশংকৈলে প্রাণীসম্পদ প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত ঘুষ, দূর্নীতি, অনিয়ম ও তদবির বানিজ্য বরদাশত করা হবে না ছাতকে সড়ক দুর্ঘটনায় সঙ্গীত শিল্পী পাগল হাসান সহ নিহত ২ আগামী বছর মুজিবনগর দিবসের পুর্বে মুজিবনগরকে আন্তর্জাতিক মানের পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা হবে—-আ ক ম মোজাম্মেল হক বৃহস্পতিবার থেকে দেশব্যাপী প্রাণিসম্পদ সেবা সপ্তাহ ও প্রদর্শনী শুরু পঞ্চগড়ে সময় টিভির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদ্‌যাপিত লোকসভা নির্বাচন উপলক্ষে বাংলাবান্ধা চেকপোস্ট ৩ দিনের ছুটি নবীগঞ্জে লটারির মাধ্যমে কৃষকের তালিকা তৈরী

মির্জা ফখরুল

ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের মধ্য দিয়ে আ’লীগকে পরাজিত করতে হবে

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • খবর আপডেট সময় : শনিবার, ১৪ অক্টোবর, ২০২৩
  • ৫৪ এই পর্যন্ত দেখেছেন

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, তারা ( সরকার) বারবার তলে তলে আপস হয়ে গেছে কেন বলেন? কারণ আসলে কিছুই হয়নি। পুরো গণতান্ত্রিক বিশ্ব তাদের ক্ষমতা থেকে সরে যেতে বলছে। অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন করতে বলেছে।

তিনি বলেন, অনেক চড়াই-উতরাই পার হয়ে এসেছি। এখন লক্ষ্য একটাই। দেশ, অর্থনীতি ও মানুষকে বাঁচাতে হলে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের মধ্য দিয়ে এদের পরাজিত করা। গণতন্ত্র ও খালেদা জিয়ার মুক্তি অনেকটাই সমার্থক। দুটিকে একত্র করে আগামী দিনে দুর্বার আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে।

আওয়ামী লীগ গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে না অভিযোগ করে মির্জা ফখরুল ইসলাম বলেন, বিএনপি দেশের সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক দল, ৩ বার ক্ষমতায় ছিল।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, বিএনপি নাকি তাদের শত্রু। গণতন্ত্রে বিশ্বাস করলে কোনো রাজনৈতিক দলকে শত্রু বলতে পারে না।

আসন্ন দুর্গাপূজার সময়ে নেতা-কর্মীদের সতর্ক থাকতে বললেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

তিনি বলেন, আমরা চাই পূজার মধ্যে শান্তিপূর্ণ ও অসাম্প্রদায়িক পরিবেশ থাকুক। আন্দোলনের সুযোগ নিয়ে তারা কিছু করুক চাই না। ইতিমধ্যে তারা শুরু করেছে। গতকাল কুমিল্লায় হিন্দু-বোদ্ধ-খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের কর্মসূচিতে হামলা করে লোকজনকে আহত করেছে আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীরা।

শনিবার (১৪ অক্টোবর) দুপুরে রাজধানীর নয়াপল্টনে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে দলীয় চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তি ও সুচিকিৎসার দাবিতে অনশন কর্মসূচিতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

বেলা ১১ টা ২০ মিনিটে এ কর্মসূচি শুরু হয়ে দুপুর ২টায় শেষ হয়। এছাড়াও সারাদেশে জেলা ও মহানগরে একই দাবিতে অনশন কর্মসূচি পালন করেছে বিএনপি।

অনশন শেষে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগী সহ সিনিয়র নেতাদের ফলের রস খেয়ে অনশন ভাঙান- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভাইস ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর আনোয়ার উল্লাহ, প্রফেসর মাহবুব উল্লাহ, এলডিপির চেয়ারম্যান কর্ণেল অলি।

ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির আহ্বায় আব্দুস সালামের সভাপতিত্বে অনশন কমসূচিতে আরো বক্তব্য রাখেন- বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য- ড. আব্দুল মঈন খান, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, নজরুল ইসলাম খান, সেলিমা রহমান, ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল নোমান সহ সিনিয়র নেতারা বক্তব্য রাখেন।

এছাড়া কেন্দ্রীয় ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠন, পেশাজীবী, যুগপৎ আন্দোলনে শরিক জোট ও দলের শীর্ষ নেতারাও সংহতি জানিয়ে বক্তব্য রাখেন।

ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ বিএনপি আয়োজিত অনশন কর্মসূচিতে অংশ নিতে শনিবার সকালে থেকেই রাজধানীর বিভিন্ন ইউনিট থেকে নেতাকর্মীরা ব্যানার, প্লেকাড হাতে মিছিল সহ নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যারয়ের সামনে জড়ো হতে থাকে।

এসময় তারা খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে এবং সরকারের বিরুদ্ধে স্লোগান দিতে থাকেন। তাদের স্লোগান ছিলো-‘মুক্তি, মুক্তি চাই, খালেদা জিয়ার মুক্তি চাই খালেদা জিয়ার কিছু হলে, জ্বলবে আগুন ঘরে ঘরে। হটাও হাসিনা বাঁচাও দেশ, টেকব্যাক বাংলাদেশ।

এসময় অনশনরত নেতাকর্মীরা বলেন, দলীয় চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তি না হওয়া পর্যন্ত যে কোনো আন্দোলনে রাজপথে অটল থাকবে তারা।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. মঈন খান বলেন, তিন বারের প্রধানমন্ত্রী ও দুই বারের বিরোধী দলীয় নেত্রীকে মিথ্যা মামলা দিয়ে দেশনেত্রীকে আটকে রেখে চিকিৎসার পথে বাধা সৃষ্টি করছে সরকার। এটা হতে পারে না। দেশের ১৮ কোটি মানুষ এ অবস্থান মেনে নিতে পারেনা। সব গণতন্ত্রকামী বিরোধীদল আজ একই মঞ্চে খালেদা জিয়াকে মুক্তি করতে ঐক্যবদ্ধ।

তিনি অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগ সরকার গণতন্ত্র হরণ করেছে। তারা যেভাবে লুটপাট করেছে তা দেশে না, সারাবিশ্বে সেই গোমড় ফাঁস হয়ে গেছে।

তাই এ সময় আমাদের রাজপথে আন্দোলনের মাধ্যমে খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে অঙ্গীকাবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান।

মির্জা আব্বাস বলেন, দেশনেত্রীর মুক্তির জন্য এমন কিছু নেই আমরা করিনি। আহ্বান, আবেদন জানিয়েছি, এবার দূর্বার আন্দোলন করতে হবে।

তিনি বলেন, আমাদের নেত্রীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল হত্যার উদ্দেশ্যে। কারণ, তার মামলা একেবারেই ভুয়া মামলা।

তিনি বলেন, এর আগেও বহু নেতা কারাগারে থাকা অবস্থায় চিকিৎসার জন্য বিদেশে গেছেন। অথচ খালেদা জিয়াকে যাওয়ার অনুমতি দেয়া হচ্ছে না কারণ, বিদেশে চিকিৎসা নিতে গেলে সরকার ধরা খেয়ে যাবে। তাকে যে স্লো পয়জননিং করা হয়েছিলো তা প্রমাণ হয়ে যাবে।

সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বিএনপির এই নেতা বলেন, কারো জন্যই সময় বেশি নেই, এখনো সময় আছে দেশ নেত্রীকে চিকিৎসার জন্য দেশের বাইরে পাঠান। তাহলে হয়তো কিছুটা রেহাই পেতে পারেন।

গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, শেখ হাসিনা কখনো খালেদা জিয়াকে চিকিৎসা করতে দিবে না। লন্ডনে হাসিনা দেশনেত্রীকে নিয়ে যে কথা বলেছেন, সে কথার উত্তর মুখে নয়, রাজপথে দিতে হবে। কোনো রক্তচক্ষুকে আমরা ভয় পাই না। যদি আঘাত আসে, আমরা পাল্টা আঘাত করতে না পারি সেই সাহস রেখে রাজপথে নামতে হবে।

তিনি বলেন, বিচার বিভাগের প্রতি আহ্বান রেখে বলছি- হাসিনাকে খুশি রাখতে যা করছেন তা বন্ধ করুন। বিচারের নামে অবিচার করবেন নাা। নির্বাচন কমিশনকে বলি, আপনি পারবেন না নির্বাচন করতে, কারন আমরা দিবো না নির্বাচন করতে। আগে হাসিনার পতন হবে পরে নির্বাচন হবে। আমাদের বিজয় হওয়া পযর্ন্ত দেশনেত্রীকে আল্লাহ অবশ্যই হেফাজতে রাখবেন।

নজরুল ইসলাম খান বলেন, দেশনেত্রী খালদা জিয়া গণতন্ত্রের জন্য যে অবদান রেখেছেন দেশবাসী তা মনে রেখেছে। তার সুচিকিৎসা না দিয়ে সরকার অমানবিক আচরণ করছে। তিনি বলেন, এই সরকার যতদিন ক্ষমতায় থাকবে, অন্যায় অনাচার চলতেই থাকবে। আমরা স্পষ্ট বলে দিতে চাই- এবারের লড়াই স্বৈরাচারী পতনের লড়াই। এ লড়াইয়ে আমাদের বিজয় হবেই।

সেলিমা রহমান বলেন, দেশনেত্রী আজ প্রতিহিংসার শিকার। ভোটবিহীন সরকার তাকে হত্যার চেষ্টা করছে। দেশের মানুষ আজ ঐক্যবদ্ধ, সরকারের সময় শেষ। খালেদা জিয়াকে মুক্তি না দিলে তাদের পরিণতি অত্যন্ত ভয়াবহ হবে বলে হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

এলডিপির চেয়ারম্যান অলি আহমেদ বলেন, একজন সাবেক প্রধানমন্ত্রীকে চিকিৎসার জন্য এতো আকুতি মিনতি করতে হবে কেনো? কারন, বিনা ভোটের প্রধানমন্ত্রী তাকে ভয় পায়।

তরুণ যুবকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, খালেদা জিয়ার মুক্তির জন্য অনুমতি ভিক্ষা নয়, তালা ভেঙে তাকে মুক্ত করতে হবে। এসময় হাত তুলে সবাইকে রাজপথে থাকার শপথ করান তিনি।

নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, দেশের একজন মানুষ সরকারের কাছে সুচিকিৎসা চাইতে পারে,। তিন বারের প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে ভোট চুরির প্রধানমন্ত্রী বলে- প্রতিদিন যায় যায়, কিন্তু শকুনের দোয়ায় গরু মরে না। বেগম জিয়া অনেক দিন বেঁচে থাকবেন।

তিনি বলেন, সরকারকে বলে রাখি, খালেদা জুয়ার ওপর যে অন্যায় করছেন, এর বিচার হবেই, দেশে বিদেশে কোথাও জায়গা হবেনা। তাই বিবেক যদি কিছু থাকে- বিনা চিকিৎসায় যেনো তিনি মারা না যান, এজন্য বিদেশে পাঠিয়ে তার চিকিৎসার ব্যবস্থা করুন।

সভাপতির বক্তব্য আব্দুস সালাম বলেন, হাসিনা সোজা কথায় রাজি হবে না, আঙুলটা বাঁকা করতে হবে। প্রস্তুতি নিতে হবে, হাসিনা ক্ষমতায় থাকলে খালেদা জিয়াকে বাঁচানো যাবে না। তাই তাকে ক্ষমতা থেকে নামাতেই হবে।

নিউজ /এমএসএম

দয়া করে খবরটি শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

এই ক্যাটাগরিতে আরো যেসব খবর রয়েছে
All rights reserved © UKBDTV.COM
       
themesba-lates1749691102