রবিবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৪, ০৮:১৯ অপরাহ্ন

নেতাকর্মীদের সতর্ক থাকার আহ্বান মির্জা ফখরুলের

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • খবর আপডেট সময় : শনিবার, ৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৩
  • ৪৭ এই পর্যন্ত দেখেছেন

বিরোধী দলের ওপর দোষ চাপাতে সরকার চক্রান্ত করছে অভিযোগ করে সকলকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেছেন, সরকার চক্রান্ত করছে, গত দুইদিন আগে আওয়ামী লীগরে সাধারণ সম্পাদক বলেছেন এখানে নাকি সন্ত্রাস, সাম্প্রদায়কি আক্রমণ হতে পারে।

শনিবার (৯ সেপ্টেম্বর) বিকেলে সরকারের পদত্যাগের দাবিতে বিএনপির ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ শাখার গণমিছিল শেষে সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন। বিকেল সাড়ে ৪ টায় পবিত্র কোরআন তেলোয়াতের মাধ্যমে সমাবেশ শুরু হয়। কোরআন তেলাওয়াত করেন ওলামা দলের আহ্বায়ক, শাহ মো. নেসারুল হক।

চলমান আন্দোলনে বেশকিছু দিন বিরতি দিয়ে নয়াপল্টনে বড় ধরনের শোডাউন করে বিএনপির সিনিয়র নেতারা বলেছেন, গণতান্ত্রিক আন্দোলনে আরও ত্যাগ স্বীকারের ঝুঁকি নিয়ে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে রাজপথে থাকবে বিএনপি। একই সঙ্গে দলীয় প্রধান খালেদা জিয়ার মুক্তি দাবিসহ সরকারের নানা অপকর্মের ফিরিস্তি তুলে ধরে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা হলে ক্ষমতাসীনদের প্রতিটি অপকর্মের বিচার হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বিএনপির নীতি-নির্ধারকরা।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, আজকে প্রবল বৃষ্টির মধ্যেও লাখো জনতার উপস্থিতিতে জনগণ সরকারকে না বলে দিয়েছে। কারণ, ফ্যাসিবাদী সরকার জনগণের সবধরণের অধিকার কেড়ে নিয়েছে। এরা ক্ষমতায় টিকে থাকতে সকল অনৈতিক কাজ করে যাচ্ছে। জনগণের আওয়াজ স্তব্ধ করে আবারো এরা ক্ষমতায় আসতে চায়।

খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়েছে জানিয়ে বিএনপির মহাসচিব বলেন, দেশনেত্রীকে প্রতিহিংসামূলকভাবে আটকে রেখে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেয়া হচ্ছে। অবিলম্বে তাকে মুক্তি দিতে হবে। সকল নেতাকর্মীদের মুক্তি দিতে হবে। সকল মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করতে হবে।

নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে ফখরুল বলেন, আসুন সবাই ঐক্যবদ্ধ হই। সরকার জোর করে ক্ষমতায় আসতে চাইবে। সবাইকে সতর্ক থাকবে হবে। নেতাকর্মীদের বুকে সাহস নিয়ে রাজপথে নামতে হবে। ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের মাধ্যমে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে। সংসদ বিলুপ্ত করে জনগণের ভোটাধিকার ফিরিয়ে দিতে হবে। মির্জা ফখরুল বক্তব্য দেয়ার মূহর্তেই মুষলধারে বৃষ্টি শুরু হলে বক্তব্য সংক্ষেপ করেন তিনি। বক্তব্য শেষে তিনি শ্লোগান ধরেন, ‘সকল রাজনৈতিক দল একহও, একহও’।

ঢাকা মহানগর উত্তরের আহ্বায়ক আমান উল্লাহ আমানের সভাপতিত্বে সদস্য সচিব আমিনুল হকের পরিচালনায় গণমিছিল পরবর্তী সমাবেশে বক্তব্য রাখেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, বেগম সেলিমা রহমান, চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা আব্দুস সালাম, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক রকিবুল ইসলাম বকুল, যুবদলের সভাপতি সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, বিএনপির আন্তর্জাতিক বিষয়ক কমিটির সদস্য ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন, স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক রাজিব আহসান, ছাত্রদলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রাশেদ ইকবাল খান, মহানগর দক্ষিণের যুগ্ম আহবায়ক আনম সাইফুল ইসলাম।

এ সময় নেতাকর্মীরা সরকারের বিরুদ্ধে ভোট চুরিসহ নানা অভিযোগ তুলে মুক্তি, মুক্তি চাই, খালেদা জিয়ার মুক্তি চাই। চোর চোর ভোট চোর, শেখ হাসিনা ভোট চোর। ওবায়দুল কাদেরের উদ্দেশ্য ভুয়া ভুয়া বলে স্লোগান দিতে থাকেন।

এর আগে ঢাকা কমলাপুর স্টেশন থেকে পীরজঙ্গী মাজার হয়ে আরামবাগ, ফকিরাপুল হয়ে নয়াপল্টনে এসে মহানগর দক্ষিণের গণমিছিল নয়াপল্টনে জড়ো হয়। অপরদিকে রামপুরা ডেল্টা হাসপাতাল থেকে শুরু হয়ে গণমিছিলটি হাজীপাড়া, মালিবাগ চৌধুরীপাড়া, মৌচাক, শান্তিনগর হয়ে নয়াপল্টন বিএনপি কার্যালয়ের সামনে এসে জড়ো হয়। দুটি গণমিছিল এক জায়গায় মিলিত হলে পুরো নয়াপল্টন জনসমুদ্রে পরিণত হয়।

কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দুটি ট্রাক দিয়ে তৈরি করা হয় ভাসমান মঞ্চ। মঞ্চের ব্যানারে বিশাল আকারে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান, চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ছবি টানানো হয়।

সমাবেশে মির্জা আব্বাস বলেন, জনগণ এই সরকারকে দেখতে চায় না। জনগণ চায় খালেদা জিয়া মুক্তি পাক, তারেক রহমান দেশে এসে ১৮ কোটি মানুষের নেতৃত্ব দেন। একজন মন্ত্রী বলেছেন, বিএনপি ক্ষমতায় আওয়ামী লীগ এক রাতেই শেষ হয়ে যাবে। আমরা বলতে চায়, আওয়ামী লীগ আবারও ক্ষমতায় আসলে দেশের স্বাধীনতা থাকবে না, সার্বভৌমত্ব থাকবে না। এ সরকারের লজ্জা নেই, থাকলে এত মিথ্যাচার এই করতো না। আজকে আপনাদের টিকে থাকার আর কোনো রাস্তা নেই। আজকে বলেন, বিএনপি আন্দোলনে ব্যর্থ হয়েছে। রাজপথে আজ সরকারের লাখো জনতা মাঠে নেমেছে। আন্দোলন কি লগি-বইঠা নিয়ে আন্দোলন!

গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, খালেদা জিয়া যদি মুক্তি না পায় তাহলে, আমরা আন্দোলনে কি পেলাম, পেলাম না তাতে কিছু আসে যায় না। কারণ, এই সরকার তাকে তিলে তিলে মেরে ফেরার ষড়যন্ত্র করেছেন। তাকে যদি বিদেশে যাওয়ার চিকিৎসা করতে না দেয়া হয়, আর কেউ যেনো বিদেশে যেতে না পারে।

তিনি আরও বলেন, আমরা কেউ কর্মী হতে চাই না, সবাই নেতা হতে ব্যস্ত। সভা সমাবেশে যতো লোক হয়, রাজপথের শক্ত আন্দোলনে কেনো নেতাকর্মীদের পাই না। পুলিশের কাছে কি এতো গুলি আছে যে আমাদের সবাই গুলি করে নিরাপদে বাড়ি ফিরবে।

নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, আপনার দাবি আদায় না হওয়া পযর্ন্ত আমাদের সঙ্গে রাস্তায় থাকুন। কারণ, কর্মীরাই ভরসা। তারা যদি নির্ভয়ে রাজপথে নামে তাহলে শেখ হাসিনার গদি ছাড়া কোনো পথ থাকবে না। খালেদা জিয়াকে মুক্ত পাবে, আমরা একদফা আন্দোলনের দাবি আদায়ের শুভ সূচনা করতে পারবো।

বেগম সেলিমা রহমান বলেন, বর্তমান সরকারের সময় আর নেই। আজ দ্রব্যমূল্যে উর্ধ্বগতির কারণে মানুষ পেট ভরে খেতে পারছে না। আর প্রধানমন্ত্রী নিজের অবৈধ ক্ষমতা টিকিয়ে রাখতে রাষ্ট্রের অর্থ খরচ করে বিদেশ ভ্রমণ করছেন। আজকে তরুণ সমাজ আন্দোলনের সাথে থাকুন, অবশ্যই এই সরকারকে বিদায় নিতে হবে।

নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে প্রশ্ন রেখে তিনি বলেন, রুহুল কবীর রিজভী বলেন, আন্দোলনে এতোগুলো নেতাকর্মী জীবন দিয়েছেন, এতো ঘাম, রক্ত এসব আত্মাদান এসব কি বৃথা যাবে? নেতাকর্মীরা না না বলে আওয়াজ তোলেন।

সেলিমা রহমান বলেন, এই সংগ্রামে আমাদের শেষ পর্যন্ত এগিয়ে যেতে হবে।

মহানগর দক্ষিণ বিএনপির আহ্বায়ক আব্দুস সালাম বলেন, বিএনপি নয়, দেশের বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগ ষড়যন্ত্র করছে। বিএনপির আন্দোলনের স্রোত আর থামবে না, এই স্রোত এরপর গণভবন, নির্বাচন কমিশনের দিকে যাবে। জেলে নিয়ে হত্যা করে বিএনপির নেতাকর্মী ও আন্দোলন দমিয়ে রাখা যাবে না।

নিউজ /এমএসএম

দয়া করে খবরটি শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

এই ক্যাটাগরিতে আরো যেসব খবর রয়েছে
All rights reserved © UKBDTV.COM
       
themesba-lates1749691102