শনিবার, ০২ মার্চ ২০২৪, ০৯:০১ পূর্বাহ্ন

বাণিজ্যিক অডিট অধিদপ্তর

আমদানি-রপ্তানির আড়ালে ৯ হাজার কোটি টাকা পাচার

অর্থনৈতিক প্রতিবেদক
  • খবর আপডেট সময় : বৃহস্পতিবার, ১০ আগস্ট, ২০২৩
  • ৭১ এই পর্যন্ত দেখেছেন

পণ্য আমদানি-রপ্তানির আড়ালে প্রায় সাড়ে ৯ হাজার কোটি টাকা পাচার হয়েছে বলে অভিযোগ জানিয়েছে বাণিজ্যিক অডিট অধিদপ্তর। সম্প্রতি গণমাধ্যমে এরকম একটি নথি থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

সংস্থাটি বলছে, পাচার হওয়া অর্থ দেশে ফেরাতে কোনো আইনি পদক্ষেপই নেয়নি বাংলাদেশ ব্যাংক।

তবে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের দাবি করেছে, তাদের তদারকি অব্যাহত আছে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, প্রায় ৪ বছর ধরে বন্ধ সাভারের রিমিক্স ফুটওয়ার লিমিটেড পণ্য রপ্তানির নামে বিপুল টাকা পাচার করেছে। তল্পিতল্পা গুটিয়ে নেয়ার আগে ২০১৭-১৮ ও ২০১৮-১৯…এই দুই অর্থবছরে প্রতিষ্ঠানটি হংকং ও চীনে ৪৩৭ কোটি টাকার পণ্য রপ্তানি করে। জনতা ব্যাংকের ইমামগঞ্জ শাখার মাধ্যমে এ পণ্য রপ্তানি হলেও কানাকড়ি মূল্য দেশে আসেনি। প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও মেলেনি কোনও বক্তব্য।

নথি পর্যালোচনা করে দেখা যায়, একইভাবে ৩৫৮ কোটি টাকা পাচার করেছে জনতা ব্যাংকেরই আরেক গ্রাহক রূপালী কম্পোজিট লেদারওয়্যার লিমিটেড।

অর্থপাচারের প্রমাণ মিলেছে এসবি এক্সিম বাংলাদেশ, অঞ্জন লেদার কমপ্লেক্স ও ক্রিসেন্ট গ্রুপসহ বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধেও। তবে পণ্য রপ্তানির আড়ালে মুদ্রা পাচারের বিষয়ে বক্তব্য মেলেনি জনতা ব্যাংক কর্তৃপক্ষের।

দেশে পণ্য জাহাজীকরণের ৪ মাসের মধ্যে রপ্তানি মূল্য প্রত্যাবাসনের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। কিন্তু বাণিজ্যিক অডিট অধিদপ্তর বলছে, রপ্তানির আড়ালে পাচার হওয়া এসব অর্থ দেশে আনতে কোনো আইনি পদক্ষেপ নেয়নি বাংলাদেশ ব্যাংক। তবে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের দাবি, আমদানি-রপ্তানির আড়ালে অর্থপাচার রোধে অব্যাহত রয়েছে তদারকি।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সহকারী মুখপাত্র সারোয়ার হোসেন জানান, এ বিষয়ে আমাদের বিভিন্ন ডিপার্টমেন্ট রয়েছে। পরিদর্শন বিভাগ আছে। তারা সবসময় সরেজমিনে যায়। অনিময়ম উদঘাটিত হলে বাংলাদেশ ব্যাংক ব্যবস্থা নিয়ে থাকে।

২০১৯-২০ ও ২০২০-২১ অর্থবছরে বন্দরনগরী চট্টগ্রামে ২৪টি বাণিজ্যিক ব্যাংকের মাধ্যমে একইভাবে পাচার হয়েছে ২৫৭ কোটি টাকা। আর খুলনা ৮৭ কোটি, রংপুর ১১ কোটি এবং বরিশাল থেকে হয়েছে আড়াই কোটি টাকা। শুধুমাত্র রপ্তানির ক্ষেত্রে নয়, আমদানির মাধ্যমেও অর্থপাচারের একাধিক প্রমাণ মিলেছে। বৈদেশিক মুদ্রা ছাড়করণের পরও দেশে আসেনি প্রায় ৮ হাজার কোটি টাকার পণ্য। অথচ দায়ীদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেয়ার বিষয়ে অনেকটাই উদাসীন বাংলাদেশ ব্যাংক।

নিউজ /এমএসএম

দয়া করে খবরটি শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

এই ক্যাটাগরিতে আরো যেসব খবর রয়েছে
All rights reserved © UKBDTV.COM
       
themesba-lates1749691102