রবিবার, ১৯ মে ২০২৪, ০১:৫০ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
ঠাকুরগাঁওয়ে টেকসই নদী ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত ম‌হিলা আওয়ামী লীগ নেত্রী সৈয়দা রা‌জিয়ার বসত ঘরে অগ্নিকাণ্ডে তত্বাবধায়ক নিহত গুণীজনদের সম্মানিত করা সকলের দায়িত্ব ও কর্তব্য- পার্বত্য প্রতিমন্ত্রী বাংলাদেশে ভ্যাকসিন সেন্টার স্থাপনে অক্সফোর্ড গ্রুপের সহযোগিতা চেয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী মিডিয়া ব্যক্তিত্বদের সাথে বাংলাদেশ কনসাল জেনারেল এর মতবিনিময় অনুষ্ঠিত প্রতিভাবান অস্বচ্ছল খেলোয়াড়দের কল্যাণে প্রধানমন্ত্রী সবসময় সহানুভূতিশীল-পার্বত্য প্রতিমন্ত্রী শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ ও যুক্তরাজ্যের মধ্যে প্রত্যাবর্তন সংক্রান্ত এসওপি স্বাক্ষর সম্পন্ন উন্নয়নের গতি ত্বরান্বিত করতে প্রকল্পগুলো দ্রুত সম্পন্ন করতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ শেখ হাসিনাকে অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রীর অভিনন্দন

প্রতিনিধি নিয়োগের নামে প্রতারণা, কলকাতা এক্সপ্রেসের বিরুদ্ধে জিডি

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • খবর আপডেট সময় : রবিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩
  • ৩২৬ এই পর্যন্ত দেখেছেন

হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলা প্রেস ক্লাবের সভাপতি ও দৈনিক সমকালের আঞ্চলিক প্রতিনিধি এম এ আহমদ আজাদের নাম ব্যবহার করে কলকাতা এক্সপ্রেস নামে একটি অনলাইন পত্রিকায় ভুয়া প্রতিবেদন প্রকাশের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় এম এ আহমদ আজাদ নবীগঞ্জ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেছেন।

এ ব্যাপারে এম এ আহমদ আজাদ বলেন, ‘কলকাতা এক্সপ্রেস নামে একটি অনলাইন পত্রিকায় গত ১০ ফেব্রুয়ারি হবিগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আবু জাহিরের নামে একটি মিথ্যা সংবাদ প্রকাশিত হয়। ওই সংবাদে প্রতিবেদক হিসেবে আমার নাম ব্যবহার করা হয়েছে। অথচ ওই প্রতিবেদনটি আমি লিখিনি। এ নিয়ে প্রতিবাদ করায় কলকাতা এক্সপ্রেস কর্তৃপক্ষ আমাকে নানাভাবে হুমকি দেয়। তারা আমার ওপর চরম ক্ষিপ্ত হয়ে আমার নামে সাংবাদিকতার নীতি লঙ্ঘন করে নানা রকম অপপ্রচার চালায়।’

তিনি বলেন, কলকাতা এক্সপ্রেস পত্রিকাটি বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলা-উপজেলায় তাদের প্রতিনিধি নিয়োগ দেওয়ার নাম করে অনেকের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। তারা আমাকেও সিলেট বিভাগের হাওরাঞ্চল প্রতিনিধি হিসেবে নিয়োগ দিয়েছিল। এর বিপরীতে তারা কলকাতা এক্সপ্রেসের বাংলাদেশ ব্যুরোপ্রধান রেদোয়ান আহমদের বিকাশ নম্বরে আমাকে টাকা পাঠাতে বলে। আমি সেই বিকাশ নম্বরে ১৮০০ টাকা পাঠাই। আমার মতো প্রায় ৫০ জন প্রতিনিধি ১৮০০ টাকা পাঠান। এ ছাড়া যে কোনো প্রয়োজনে বাংলাদেশের ব্যুরোপ্রধান রেদোয়ান আহমদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলা হয়।

এম এ আহমদ আজাদ জানান, কলকাতা এক্সপ্রেসের কথিত প্রতিনিধি ও সম্পাদকদের নিয়ে বানানো হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে রেদোয়ান আহমদ নামে এক ব্যক্তি বাংলাদেশের ব্যুরোপ্রধান হিসেবে নিজেকে পরিচয় দেন এবং জানান যে তিনি যুক্তরাজ্যের বিবিসি বাংলা, দ্য গার্ডিয়ান এবং নিউজ এজেন্সি এএফপিসহ অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে কাজ করেছেন। প্রমাণ হিসেবে তিনি বিভিন্ন খবরের লিঙ্ক দিতেন, তবে আদতে সেগুলো একই নামের অন্য সাংবাদিকের লেখা। যা আমি পরে জানতে পেরেছি।

তিনি বলেন, কথিত ওই রেদোয়ান আহমদ তার ফেসবুক পেজে বাংলাদেশের সব প্রতিনিধিকে ইন্ডিয়ার ভিসা নিতে অনুরোধ করেন। সবাইকে বলা হয়, ১ ফেব্রুয়ারি কলকাতার নদিয়াতে প্রতিনিধি সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। ওই সম্মেলনে প্রেস কাউন্সিল অব ইন্ডিয়ার চেয়ারম্যান ও আলজাজিরা টিভির চেয়ারপারসনসহ আরও অনেক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি উপস্থিত থাকবেন। তবে পরে ওই তারিখে কেন সম্মেলন হয়নি, তা এখন পর্যন্ত জানানো হয়নি।

এম এ আহমদ আজাদ বলেন, ‘আমি ইন্টারনেটে খোঁজ নিয়ে দেখি, আসলেই রেদওয়ান আহমেদ নামে বাংলাদেশে একজন সাংবাদিক আছেন, যিনি দ্য গার্ডিয়ান পত্রিকা, বার্তা সংস্থা এএফপি ও বিবিসি বাংলাতে কাজ করেছেন। কিন্তু এই ব্যক্তি কলকাতা এক্সপ্রেসের রেদোয়ান নন বলে আমি নিশ্চিত। কারণ রেদওয়ান আহমেদের সঙ্গে যোগাযোগ করে কলকাতা এক্সপ্রেসের সঙ্গে তার কোনো যোগসূত্র আমি খুঁজে পাইনি।’

কলকাতা এক্সপ্রেসের বিরুদ্ধে একই অভিযোগ করেন সিলেটের ফটো সাংবাদিক রাফায়েত খান। তিনি বলেন, তারা আমার কাছ থেকে অগ্রিম টাকা নিয়েছে, কিন্তু এখনো আমাকে কোনো কার্ড বা নিয়োগপত্র দেয়নি কলকাতা এক্সপ্রেস। আমি বারবার যোগাযোগ করলেও কথিত রেদোয়ান আহমদ ফোন রিসিভ করেন না। পরে আমি আমার ফেসবুক বন্ধু আসল রেদওয়ান আহমেদের সঙ্গে যোগাযোগ করে জানতে পারি যে কলকাতা এক্সপ্রেসের রেদোয়ান ভুয়া।

তিনি আরও বলেন, ফেক রেদোয়ান আহমদের কথায় আমরা ভিসা-পাসপোর্ট করেছি। তিনি কখনো ভিডিও কল বা তার ছবি কোনো অনলাইনে ব্যবহার করেন না। তিনি কখনো নিজের ঠিকানা দেননি। তিনি আজাদ ভাইয়ের বিরুদ্ধে করা একটি নিউজে এনডিটিভির একটি ফেক ছবি ব্যবহার করে নিজের ছবি বলে চালিয়ে দেন। বিষয়টি নিয়ে কয়েকজন কমেন্ট করার পর ছবি ডিলিট করে দেন। এ ছাড়া কলকাতা এক্সপ্রেস ভারতের নদিয়ার ঠিকানায় শুভা দত্ত নামে একজন সম্পাদক রয়েছেন। জিডি এন্ট্রি করার পরে পত্রিকার প্রিন্ট লাইন থেকে ঠিকানা ও সম্পাদক শুভা দত্তের নাম তুলে দিয়েছেন। এখন তার কোনো খোঁজ নেই। আমিও এ ব্যাপারে সিলেট সদর থানায় একটি জিডি এন্ট্রি করেছি।

কলকাতা এক্সপ্রেস যে রেদওয়ান আহমেদের ক্যারিয়ার প্রোফাইল কপি করে তাদের ফেক বাংলাদেশ ব্যুরোপ্রধান সাজিয়েছে, সে সাংবাদিক রেদওয়ান আহমেদ বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছেন। উনার সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, কলকাতা এক্সপ্রেস নামের কোনো পত্রিকার সঙ্গে তিনি যুক্ত নন।

রেদওয়ান আহমেদ বলেন, কয়েক দিন আগে দু-একজন সাংবাদিক ফেসবুকে কলকাতা এক্সপ্রেস পত্রিকায় কাজ করার আগ্রহ জানিয়ে আমাকে বার্তা পাঠায়। আমি তখন কিছুই বুঝতে পারিনি। এর কিছুদিন পর তাদেরই একজন আমাকে কিছু স্ক্রিনশট পাঠান। আমি অবাক হয়ে লক্ষ করি যে সেসব স্ক্রিনশটে আমার নাম-পরিচয়, কাজ এবং সাংবাদিকতার স্বীকৃতি সব আরেকজন অবলীলায় নিজের নামে চালিয়ে দিচ্ছে।’

বিদেশে অবস্থানের কারণে এই ব্যাপারে বিশেষ কোনো ব্যবস্থা নিতে পারেননি উল্লেখ করে রেদওয়ান জানান, নিজের ফেসবুক প্রোফাইলে দেওয়া একটি বিবৃতিতে কলকাতা এক্সপ্রেসের সঙ্গে জড়িত না থাকার বিষয়টি তিনি সবার কাছে পরিষ্কার করেছেন।

এম এ আহমদ আজাদের জিডির ব্যাপারে নবীগঞ্জ থানার ওসি ডালিম আহমেদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, বিষয়টি আমরা অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করছি। জিডিতে কোনো ব্যক্তির নাম উল্লেখ করা না হলেও একটি মোবাইল নম্বর রয়েছে, এই নম্বরটি ট্রেকিং করা হচ্ছে। বর্তমানে ওই ব্যক্তি ঢাকার গাজীপুরে অবস্থান করছে। যিনি মোবাইল ইউজ করছেন, তিনি দেশে অবস্থান করছেন। আমরা জিডিটি ফরেনসিক রিপোর্টের জন্য সিআইডির ক্রাইম ডিপার্টমেন্টে পাঠিয়েছি। প্রতিবেদন এলে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নিউজ /এমএসএম

দয়া করে খবরটি শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

এই ক্যাটাগরিতে আরো যেসব খবর রয়েছে
All rights reserved © UKBDTV.COM
       
themesba-lates1749691102