সোমবার, ২০ মে ২০২৪, ০২:৩৯ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
ঠাকুরগাঁওয়ে টেকসই নদী ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত ম‌হিলা আওয়ামী লীগ নেত্রী সৈয়দা রা‌জিয়ার বসত ঘরে অগ্নিকাণ্ডে তত্বাবধায়ক নিহত গুণীজনদের সম্মানিত করা সকলের দায়িত্ব ও কর্তব্য- পার্বত্য প্রতিমন্ত্রী বাংলাদেশে ভ্যাকসিন সেন্টার স্থাপনে অক্সফোর্ড গ্রুপের সহযোগিতা চেয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী মিডিয়া ব্যক্তিত্বদের সাথে বাংলাদেশ কনসাল জেনারেল এর মতবিনিময় অনুষ্ঠিত প্রতিভাবান অস্বচ্ছল খেলোয়াড়দের কল্যাণে প্রধানমন্ত্রী সবসময় সহানুভূতিশীল-পার্বত্য প্রতিমন্ত্রী শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ ও যুক্তরাজ্যের মধ্যে প্রত্যাবর্তন সংক্রান্ত এসওপি স্বাক্ষর সম্পন্ন উন্নয়নের গতি ত্বরান্বিত করতে প্রকল্পগুলো দ্রুত সম্পন্ন করতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ শেখ হাসিনাকে অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রীর অভিনন্দন

সৌন্দর্য ধরে রাখতে কসমেটিক সার্জারি

ডা. জাহেদ পারভেজ
  • খবর আপডেট সময় : সোমবার, ২১ নভেম্বর, ২০২২
  • ২৪৪ এই পর্যন্ত দেখেছেন

সুদর্শন মানুষের প্রতি সবার আকর্ষণ জন্মগত। গোত্র বা বর্ণ অনুযায়ী মানুষের শরীরের বিভিন্ন অংশের (নাক, চোখ, ঠোঁট ইত্যাদি) গড়নও বিভিন্ন হয়ে থাকে। জন্মগত কারণ, দুর্ঘটনায় অঙ্গহানি, ক্যানসার বা পুড়ে যাওয়ার কারণের মানুষের সৌন্দর্যহানি ঘটতে পারে। তবে এখন শরীরের আক্রান্ত অংশের গঠন ফিরিয়ে আনা, তারপর সেই অংশের কাজ পুনরুদ্ধার করা, পরিশেষে সৌন্দর্য রক্ষা করা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের কাছে সাধারণ বিষয়ে পরিণত হয়েছে। উন্নত বিশ্বের মতো বাংলাদেশেও অ্যাসথেটিক বা কসমেটিক সার্জারি খুব সাফল্যের সঙ্গেই চলছে।

কসমেটিক সার্জারি বলতে যা বোঝায়

দুর্ঘটনায় সৌন্দর্য বা পুড়ে যাওয়া অংশের সৌন্দর্য ফিরিয়ে আনতে কসমেটিক সার্জারি একটি সাধারণ প্রক্রিয়া। কিছু কিছু ক্ষেত্রে একাধিকবার অস্ত্রোপচার লাগতে পারে। অগ্নিদগ্ধ রোগীর ক্ষেত্রে অনেক সময় পুড়ে যাওয়ার কারণে কাঁধ, হাত, পা ইত্যাদি অঙ্গের টিস্যু শক্ত হয়ে গিয়ে সেগুলোর স্বাভাবিক সঞ্চালন বাধাগ্রস্ত হয়। রোগীর এসব অঙ্গ ব্যবহার করে কাজকর্ম করা অনেকটা সীমিত হয়ে পড়ে। সে ক্ষেত্রে পুড়ে যাওয়া অঙ্গের শক্ত হয়ে যাওয়া টিস্যু অপসারণ করে শরীরের অন্য কোনো অংশের সুস্থ টিস্যু প্রতিস্থাপন করে সেই অঙ্গের স্বাভাবিকতা ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়। ঠোঁটকাটা বা তালুকাটা সমস্যাও এমন সার্জারির মাধ্যমে সারিয়ে তোলা যায়।

বডি কনট্যুরিং বা বডি শেপিং সার্জারি

স্থূলতার কারণে আমাদের শরীরের অ্যানাটমিক্যাল শেপ বা আকৃতির পরিবর্তন হয়। আর এতে সৌন্দর্যহানি ঘটে। এর সঙ্গে অতিরিক্ত চর্বির কারণে নানা রোগের উদ্ভব হয়। ডায়েট, শরীরচর্চার মাধ্যমে স্থূলতা কমলেও কিছু কিছু ক্ষেত্রে অস্ত্রোপচার বা সার্জিক্যাল প্রসিডিওরের মাধ্যমে শারীরিক সৌন্দর্য ফিরিয়ে আনা যায়। যেমন লাইপোসাকশন (চর্বি অপসারণ), ব্রাকিপ্লাস্টি (বাহুর অতিরিক্ত চামড়া অপসারণের মাধ্যমে ত্বক টান টান করা), পেটের অতিরিক্ত চর্বি অপসারণ, লাভ হ্যান্ডেলিং এরিয়া, ঘাড়ের অতিরিক্ত চর্বি অপসারণ, ডাবল চিন চর্বি অপসারণের মাধ্যমে উপস্থাপনযোগ্য শারীরিক অবয়ব প্রদান করা সম্ভব।

আরও যেসব ক্ষেত্রে কসমেটিক সার্জারি করে দেহের সৌন্দর্য ঠিক রাখতে পারেন তা হলো:

ব্রেস্ট অগমেন্টেশন, রিডাকশন, মাস্টোপেক্সি: অনেক কারণে নারীদের স্তনের আকার ছোট বা বড় হতে পারে কিংবা ঝুলে যেতে পারে। ফ্যাট গ্রাফটিং অথবা ইমপ্ল্যান্টের মাধ্যমে স্তন বড় করা, সর্বোপরি এটির সৌন্দর্য বাড়ানো যেতে পারে। অতিরিক্ত বড় স্তন আধুনিক সার্জারির মাধ্যমে জুতসই আকারে আনা সম্ভব। ঝুলে যাওয়া স্তন কুমারীর মতো গঠন দেওয়া যেতে পারে। এমনকি স্তন ক্যানসারে আক্রান্ত রোগীর স্তন থেকে ক্যানসার অপসারণ করাও সম্ভব অনকোপ্লাস্টিক ব্রেস্ট সাজারির মাধ্যমে।

অ্যাবডোমিনোপ্লাস্টি, লাইপোসাকশন: অতিরিক্ত চর্বির কারণে পেটের স্থূলভাব ধারণ করে এবং চামড়া ঝুলে পড়তে পারে। লাইপোসাকশন অথবা অ্যাবডোমিনোপ্লাস্টি (টামিটাক অপারেশন) অথবা দুটি পদ্ধতি একসঙ্গে ব্যবহার করে পেটের সৌন্দর্য ফিরিয়ে আনা সম্ভব।

গাইনেকোমেশিয়া: পুরুষদের অযাচিত স্তন বড় হলে তারা সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন হতে পারেন। সে ক্ষেত্রে লাইপোসাকশন বা দাগবিহীন সার্জারির মাধ্যমে উপস্থাপনযোগ্য, পুরুষালি শারীরিক গঠন দেওয়া সম্ভব।

রাইনোপ্লাস্টি: ভোঁতা নাক, নাকের বাঁশি বাঁকা অথবা প্রসারিত নাকের মানুষেরা অ্যাসথেটিক রাইনোপ্লাস্টির মাধ্যমে সুন্দর নাকের অধিকারী হতে পারেন।

লিপ অগমেন্টেশন/রিডাকশন: পুরু ঠোঁটকে চিকন করা এবং পাতলা ঠোঁটকে ফ্যাট গ্রাফটিং বা ফিলারের মাধ্যমে পুরু করে তোলা।

ব্লেফারোপ্লাস্টি: কোঁচকানো চোখের পাতা (ওপর/নিচ) সার্জারির মাধ্যমে, কোনো কোনো ক্ষেত্রে বোটক্স থেরাপির মাধ্যমে ত্বক টান টান করা সম্ভব।

ব্রাউপ্লাস্টি: ভুরুর সৌন্দর্য বাড়ানোর অস্ত্রোপচার।

ফেস লিফট: সার্জিক্যাল এবং নন–সাজিক্যাল পদ্ধতিতে মুখমণ্ডলের কোঁচকানো চামড়া টান টান করা যায়।

বাট লিফট: অনেকেই নিতম্বের সৌন্দর্য বাড়ানোর জন্য আসেন। ফ্যাট গ্রাফটিং বা ইমপ্ল্যান্টের মাধ্যমে নিতম্বের গঠন আকর্ষণীয় করা সম্ভব।

ভ্যাজাইনোপ্লাস্টি: অতিরিক্ত বাচ্চা প্রসবের কারণে বা অন্য কোনো কারণে নারীর জননেন্দ্রীয় ঢিলেঢালা হয়ে যায়, যার ফলে তাঁদের শারীরিক সম্পর্ক আনন্দদায়ক হয় না। সার্জারির মাধ্যমে এ সমস্যা দূর করা যায়।

ফ্যাট গ্রাফটিং, ফিলার: শরীরের যেকোনো ছোটখাটো অসংগতি দূর করা যায়।

দেশেই এখন এমন সার্জারি হচ্ছে কোনো সমস্যা ছাড়াই। দুর্ঘটনা–পরবর্তী বিভিন্ন অঙ্গের আকৃতি আগের মতো বা সৌন্দর্য ফিরিয়ে আনতে কসমেটিক সার্জারির কোনো বিকল্প নেই। তবে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়া ভালো।

ডা. জাহেদ পারভেজ, সহকারী অধ্যাপক, ত্বক চর্ম যৌন ও ট্রান্সপ্ল্যন্ট সার্জারি বিভাগ, শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল, ঢাকা, চেম্বার: ডা. জাহেদ’স এন্ড স্কিনিক হাসপাতাল, ১৫২/১/এইচ (ষষ্ঠতলা), গ্রিনরোড, ঢাকা-০১৭০৭০১১২০০/ ০১৫৬৭৮৪৫৪১৯

ইউকেবিডিটিভি/ বিডি / এমএসএম

দয়া করে খবরটি শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

এই ক্যাটাগরিতে আরো যেসব খবর রয়েছে
All rights reserved © UKBDTV.COM
       
themesba-lates1749691102